আসসালামু আলাইকুম। আজ আপনাদের জানাবো মেডিকেল কেমিস্ট্রির ২০০% গুরুত্বপূর্ণ টপিক – শিখা পরীক্ষার বর্ণ মনে রাখবে যেখাবে! নিচের ছবিতে একটি ছক দেখতে পাচ্ছেন? এটা আসলে শিখা পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের ধাতু কী বর্ণ দেখায়, সেই ছক। এই ছকটি থেকে বিগত বছরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কিন্তু বেশ কয়েকবার প্রশ্ন হয়েছে।

এমনকি গত বছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষেও, এই ছকটি থেকে প্রশ্ন এসেছে। আপনি যদি এই ছকটি মনে রাখতে পারেন, এই বছরও কিন্তু এখান থেকে একটি প্রশ্ন হতে পারে। আমি কীভাবে এটি মনে রাখতাম, সেটাই এখন আপনার সাথে শেয়ার করব। চলুন, তাহলে শুরু করা যাক।
তুমি যদি না জানো শিখা পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে চাও তাহলে পাতন ও শিখা পরীক্ষা (Distillation & Flame Test) জেনে নাও।
শিখা পরীক্ষার ধাতব বর্ণ মনে রাখার কৌশল

এখানে মনে রাখা খুবই সোজা। দেখুন, প্রথম ধাতুটি হচ্ছে লিথিয়াম। আমি মনে রাখতাম ‘ল’ তে লিথিয়াম, লল দেখি লাল।
লিথিয়ামের বর্ণ হচ্ছে লাল বা উজ্জ্বল লাল। আরও একটি নামে এটি বিভিন্ন বইয়ে বলা আছে—সেটা হলো ক্রিমসন লাল। এবারটাও মনে রাখবেন, ক্রিমসন লাল।
এর পরে দেখুন, সোডিয়াম। সোডিয়ামের সাথে মনে রাখুন সোনালী হলুদ। স-তে সোডিয়াম, স-তে সোনালী হলুদ।
এর পরে আরবি— অর্থাৎ রুবিডিয়াম। নামটা খেয়াল করে দেখুন, ‘আর’-এ আছে রেড। রেড মানে কী? লালচে। বি-তে হচ্ছে বেগুনি। চলো, তাহলে লালচে বেগুনি। আর-বি মানেই হচ্ছে লালচে বেগুনি।
শিখা পরীক্ষার বর্ণ মনে কৌশলে এর পরে দেখুন ক্যালসিয়াম। ছোটবেলা থেকে একটা কথা হয়তো আপনি শুনেছেন—হাড়ের ভেতরে ক্যালসিয়াম থাকে। মুরগির হাড় যখন খান, ঘাড়ের হাড়টা ভাঙার পরে ভেতরে যে জায়গাটা থাকে, সেটার বর্ণ কেমন থাকে বলুন তো? লাল বর্ণ, তাই না?
সো, এখানে ক্যালসিয়াম—নামটা শুনলেই আমার ঘাড়ের কথা মনে হতো, মুরগির হাড়ের লাল অংশ মনে পড়ত। অর্থাৎ এটি ইটের মতো লাল।
এরপরের শেষ দুটি আমরা একসাথে মনে রাখব—একটি ওয়ার্ড্রোব। আমার সাথে বলুন, “কুর্নিশ করে বেহুশ হলো।”
‘কু’ মানে হচ্ছে কপার। কপারের বর্ণ নীলাভ সবুজ। ‘বে’ মানে হচ্ছে বেরিয়াম—নট বেরিলিয়াম, এই কথাটা মনে রাখতে হবে।
বেরিয়ামের বর্ণ হলো হলুদাভ সবুজ। ওকে, তাহলে দুটি আমাদের হয়ে গেল—কপার নীলাভ সবুজ, বেরিয়াম হলুদাভ সবুজ। সিম্পল, কুর্নিশ করে বেহুশ হলো।
তাহলে আমাদের শিখা পরীক্ষার বর্ণ সবগুলো শেষ হলো। আর সবশেষে আছে পটাশিয়াম। পটাশিয়াম দেখায় বেগুনি বর্ণ।
আরও পড়ুনঃ এইচএসসি আইসিটির সাজেশন – ৮ মিনিটে পুরো প্রস্তুতি
পটাশিয়াম এবং একটি মজার ঘটনা
আচ্ছা, আমাদের তো শিখা পরীক্ষার বর্ণ মনে কৌশল সবই শেষ হলো। ছোট্ট একটা গল্প দিয়ে শেষ করি। আপনার মতো যখন আমি ইন্টার লাইফে ছিলাম, সে সময়টাতে পড়ালেখা করতাম। আমরা নরমালি দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে পড়ালেখা করতাম।
একদিন দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে পড়ালেখা করছি। হঠাৎ করে একটি ফ্রেন্ড এসে দরজায় নক করছে। তার নাম ছিল পলাশ। আমরা একটু বিরক্তই হয়েছি যে পড়ালেখা করছি, এই মুহূর্তে এসে নক করছে।
আমরা ভেতর থেকে বলছি, “কে বে?” বাইরে পলাশ দাঁড়িয়ে ছিল। সে বলছে, “পলাশ।” তো এই শব্দটা আমাদের কাছে খুব পছন্দ হলো যে আমরা বলছি “কে বে?” আর বাইরে থেকে উত্তর আসছে “পলাশ।”
তো এটা আমরা আমাদের রুমের একটি পাসওয়ার্ড বানিয়ে দিলাম। সব ফ্রেন্ডদের বলে দিলাম, “রুমের গেট লাগানো থাকলে আমরা বলব কে বে, তোমরা বাইরে থেকে উত্তর দেবে পলাশ। আপনার নাম যাই হোক, উত্তর দিতে হবে পলাশ। পলাশ উত্তর এলে আমরা গেট খুলব, না এলে খুলব না।”
ঠিক তেমনি একদিন পড়ছি, কিছুদিন পরে আবার। পড়তে পড়তে হঠাৎ একজন নক করছে। আমরা বলছি “কে বে?” কিন্তু বাইরে থেকে উত্তর আসে না।
তো আমরা একটু ভয় পেলাম— বড় ভাই এল নাকি অন্য কেউ? গেট খুলে দেখি, সেদিন এসেছেন বাসার মালিক! বুঝতেই পারছেন, একটা খারাপ সিচুয়েশনে পড়েছিলাম।
যাই হোক, সে বিষয়টা বাদ দিন। এই যে “কে বে”, এখান থেকে একটি কথা মনে রাখবেন যে ‘কে’—বেগুনি। ঠিক আছে।
এত কিছু মানে এই ছোট্ট একটি বিষয় বোঝানোর জন্য এত বড় গল্প বললাম। আসলে রিয়াল কাহিনী এটা। তো যাই হোক, এখানে পটাশিয়াম—এটা দেখায় বেগুনি কালার। অর্থাৎ “কে বে”।
অথবা এভাবে মনে রাখতে পারেন—পটাশিয়াম পটে, পটাশিয়াম পটল। পটলের সাথে তো বেগুনের একটা সম্পর্ক আছে। এভাবেও মনে রাখতে পারেন।
ঠিক আছে, তাহলে শিখা পরীক্ষার বর্ণ কোনটা কোন বর্ণ দিচ্ছে আমরা জেনে গেলাম।
আরও পড়ুনঃ চ্যাটজিপিটি স্টাডি মডেল দিয়ে ১০ গুণ বেশি পড়াশোনা
কোবাল্ট ব্লু গ্লাসের সাহায্যে বর্ণ পর্যবেক্ষণ
আর ছোট্ট একটি বিষয় পড়াব, জাস্ট ছোট্ট একটি বিষয়, তারপর শেষ করব। দেখুন, এখানে বিভিন্ন ধরনের ধাতু আছে। সেগুলো শিখা পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের বর্ণ দিচ্ছে।
এখন এই বর্ণগুলো আমরা খালি চোখে দেখতে পারি। খালি চোখে দেখলে আমরা এই বর্ণগুলো দেখতে পাব। কিন্তু আমরা যদি চোখের সামনে একটি কোবাল্ট ব্লু গ্লাস ধরি, সেক্ষেত্রে আমরা বর্ণটা একইভাবে নাও দেখতে পারি।
সো, আমরা যদি কোবাল্ট ব্লু গ্লাস দিয়ে দেখি, সেক্ষেত্রে আমরা একই বর্ণ নাও দেখতে পারি। তো একটি কথা মনে রাখুন—আমার সাথে বলুন, “পটাশিয়াম কে বে।”
তাহলে পটাশিয়াম তো বেগুনি, আমরা পড়েছি। সো, একটি কথা মনে রাখুন—গোলাপ। গোলাপ তো নিশ্চয়ই দেখেছেন, তাই না? গোলাপের রঙ বিভিন্ন রকম হয়।
এরকম একটি গোলাপের কথা মনে রাখুন—বেগুনি বর্ণের গোলাপ। সো, মনে রাখুন—বেগুনি, আর বেগুনির সাথে মনে রাখুন গোলাপ বা গোলাপি।
হ্যাঁ, তাহলে পটাশিয়াম এটি হচ্ছে বেগুনি গোলাপ। অর্থাৎ খালি চোখে আমরা দেখতে পাব বেগুনি বর্ণ, আর কোবাল্ট ব্লু গ্লাস দিয়ে দেখলে আমরা দেখব গোলাপি বর্ণ।
এর পরে দেখুন, শিখা পরীক্ষার বর্ণ মনে রাখা নিয়ে আমরা ক্যালসিয়াম সম্পর্কে কী পড়েছি? ইটের মতো লাল। সো, ইটের মতো লাল না বলে আপনি এখন বলুন “ইটের মতো লাশ।”

ঠিক আছে, লাল না বলে আপনি বলুন “লাশ।” অর্থাৎ এখানে ‘স’ থেকে আরেকটি কথা মনে রাখুন—সবুজ। তো কোবাল্ট ব্লু গ্লাস দিয়ে যদি আমরা দেখি, সেক্ষেত্রে আমরা যে বর্ণটি দেখব ক্যালসিয়ামের, সেটা হচ্ছে সবুজ।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন। তাহলে এই দুটি একটু এক্সট্রা ভাবে মনে রাখবেন। ঠিক আছে, আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আজকের ভিডিও এ পর্যন্তই। আশা করি আপনার কাছে ভিডিওটা ভালো লেগেছে।
যদি শিখা পরীক্ষার বর্ণ মনে রাখার কৌশলগুলো ভালো লেগে থাকে, এরপর কোন টপিকের শর্টকাট চান বা কোন টপিক মনে রাখতে অসুবিধা হচ্ছে, সেটা আমাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। টাটা।


1 Comment
Pingback: ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি ও সমস্যা সামলানো! - 8 Tips for University Admission Test Mental Preparation with Problem Handling - NiceTrix