সরকারি চাকরি বা Govt Job যেন সোনার হরিণ! এই হরিণ সবাই ধরতে চায়, কিন্তু সবার কপালে সেটি জোটে না। সঠিক স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী প্রস্তুতি না নেওয়ার কারণে সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না। আজ আপনাদের জন্য এক বছরের মাস্টার প্ল্যান শেয়ার করবো, যা ফলো করলে আপনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরি পেয়ে যাবেন।
আলহামদুলিল্লাহ! আমার এই এক বছরের মাস্টার প্ল্যানটি বাংলাদেশের একটি ভাইরাল প্ল্যান হয়ে গিয়েছে। এখন লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে এই আর্টিকেল ও ভিডিওগুলো দেখছে এবং এই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা চাকরির জন্য পড়াশোনা শুরু করছে।
Govt Job সংক্রান্ত প্রারম্ভিক কথাবার্তা
অনেকে আছেন যে শখের বশে চাকরির জন্য চার-পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন, চাকরি পান না, পরে বয়স বৃদ্ধির জন্য আন্দোলনে যোগ দান করেন, তাই না? কিন্তু না ভাই, আপনি কি আজীবন শুধু সরকারি চাকরির (Govt Job) জন্যই সময় নষ্ট করে দিবেন, পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ বছর পর্যন্ত?
না! আমার দৃষ্টিতে, আপনি এক বছর ভালো করে যদি পড়াশোনা করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেনই হবেন যদি আল্লাহ তা’আলার রহমত থাকে। যদি আল্লাহ তা’আলা না চান, আপনি এক বছর না, আপনি বিশ বছর পড়লেও কোনো লাভ হবে না। ঠিক আছে?
কিভাবে এই এক বছরের পরিকল্পনাটা কাজে লাগাবেন?

সরকারি চাকরি (Govt Job) পাওয়ার এক বছরের এই মাষ্টারপ্লানে প্রথমেই আমি রেখেছি হচ্ছে অঙ্ক, তারপরে রেখেছি ইংরেজি। একটা কথা মাথায় রাখবেন, যে যাই বলুক, যে যেই ব্যক্তি অঙ্ক ও ইংরেজিতে বস, তার চাকরি ইনশাআল্লাহ একটা না দশটা চাকরি হবে।
দশটা চাকরি আপনি কোথায় কোথায় জয়েন করবেন, তারপরে আপনি চিন্তা করে কুলাতে পারবেন যে আমি কোথায় জয়েন করব আর কোথায় করব না। কিন্তু এই দুই জায়গায় যে দাদুভাই ধরা, সে চাকরি পাবে না। সহজে সরকারি চাকরি (Govt Job) পাবে না, পাইলেও ছোটখাটো একটা পেতে পারে, তাও তার কী অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।
তবে, আপনার কোনো বাজে অভ্যাস থাকলে খারাপ অভ্যাস দূর করার সহজ ও কার্যকর কৌশল অবলম্বন করে এখন থেকেই দূর করার চেষ্টা করুন।
প্রথম ধাপ: চার মাস শুধু অঙ্ক
আমাদের প্লানে থাকবে প্রথম চার মাস শুধু অঙ্ক করা। এই কয়দিন অন্য কোনো বিষয় ধরবো না। এক টানা চার মাস কোনো দিকে না তাকিলে শুধু গণিতের বিভিন্ন বিষয় সলভ করে যাবো।

অনেকেই যে ভুলটা করেন, অঙ্ক করতেছেন, দাদুভাই বলছে চার মাস। এক সপ্তাহ পরে হচ্ছে একটা পরীক্ষা, তখন কী করেন যে অঙ্ক বাদ, এই পরীক্ষার জন্য একটা সাধারণ বই নেন, জিকে বই নেন, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স নেন, নিয়ে পড়তে থাকেন, বাংলা পড়তে থাকেন, অন্য কিছু পড়তে থাকেন।
না, আপনি ওই সামনে পরীক্ষায় পরীক্ষা দিলেই তো আপনি পাস করে যাবেন, ব্যাপারটা তা না। দিয়ে ফেল করবেন, হতাশ হবেন, দরকার নাই। প্রস্তুতিকালে এক বছর আপনি মাথায় রাখেন যে আপনি ফেল করবেন। এমনকি আপনার প্রস্তুতিকালে পরীক্ষা দেওয়ারই দরকার নাই।
এই সময়ে পাবলিকলি মেশা কমিয়ে দিবেন এবং অযথা কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। চাকরি হয়ে গেলে কথা বলার ৫টি কৌশল জানিয়ে দিব যাতে শ্রোতাকে মুগ্ধ করে ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাবেন।
পরীক্ষার অভিজ্ঞতা নয়, বেসিক শক্ত করুন

অনেকে আবার বলবে পরীক্ষাতে অভিজ্ঞতা হবে। ভাই, ফেল করার অভিজ্ঞতা দরকার নেই। আপনি অনেকে আছেন যে দূর-দূরান্তে, মানে কক্সবাজার, দিনাজপুর, বরিশাল, এত দূর থেকে আপনি ঢাকায় আসা-যাওয়া করতে কত টাকা খরচ হবে জানেন?
আপনার তিন হাজার টাকা খরচ হবে। এই তিন হাজার টাকা দিয়ে আপনি অভিজ্ঞতা অর্জন না করে আপনি তিন হাজার টাকা দিয়ে দুধ কিনেন, ডিম কিনেন, ফল কিনেন, কিনে খান। শরীরটা আপনার একটু ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে, একটু সবল থাকবে। ওই এনার্জি দিয়ে আপনি দৈনিক এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা বেশি পড়তে পারবেন।
দ্বিতীয় ধাপ: তিন মাস ইংরেজি
প্রথম চার মাসে অন্য কোনো বিষয় না ধরে শুধু অঙ্কই করে যাবেন এরপর শুধু ইংরেজি। এই সময়ে আপনি কিন্তু আবার অঙ্ক ধরবেন না। এখন এই জায়গায় অনেকে প্রশ্ন করে যে দাদুভাই, অঙ্ক চার মাস পড়ার পরে যখন ইংরেজিতে যায় তখন আবার অঙ্ক ভুলে যাই, এই জায়গায় সমস্যা।
আপনি যদি চার মাস ধরে অঙ্ক করার পরে এক মাস, দুই মাস, তিন মাস পরে আবার অঙ্ক ভুলে যান, তাহলে ধরে নিবেন আপনি অঙ্ক করা হয় না, আপনি অঙ্ক করার ওয়ে জানেন না।
ভুলে না যাওয়ার রহস্য: বেসিক ক্লিয়ার করা
পড়ার সঠিক টেকনিক না জানলে পড়া ভুলে যাবেন এটা নিশ্চিত। আপনি মনে রাখার কৌশল জানেন না মানে আপনি বেসিক বুঝতে পারেন না। বেসিক না বুঝে পড়লে আপনি মানে চার মাস না, চার বছর পড়লেও লাভ হবে না, আপনি ভুলে যাবেন।
এই জায়গায় কিন্তু অনেক দাদুভাই ধরা, এই যে ভুলে যান। ভুলে যাওয়ার একমাত্র কারণ আপনি বেসিক ক্লিয়ার করতে পারেন না।
বাংলা ও সাধারণ জ্ঞান
গণিতের জন্য ৪ মাস আর ইংরেজি ৩ মাস মিলিয়ে গেল সাত মাস। তারপর আসেন বাংলা। বাংলা ব্যাকরণ এক মাস, বাংলা সাহিত্য এক মাস। কয় মাস গেল? দুই মাস। মোট গেল হচ্ছে নয় মাস।
তারপর আসেন সাধারণ জ্ঞান। সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ বিষয়াবলি এক মাস, সাধারণ জ্ঞান আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এক মাস। কত গেল? এই গেল আমার এগারো মাস।
শেষ মাসের ফাইন টিউন
এক মাস বাকি থাকে। এখন এক মাস কী করবেন? এক মাস যেটা করবেন, মনে করেন যে আপনার যেটা মনে হচ্ছে যে আপনার অঙ্কে একটু দুর্বলতা বেশি, আপনার অঙ্কে একটু বেশি সময় দেওয়া দরকার, আপনি এক মাস অঙ্কে দেন।
তাহলে অঙ্কে পাবে পাঁচ মাস। অনেকে আছেন যে অঙ্কে ভালো কিন্তু তুলনামূলক ইংরেজিতে দুর্বল। আপনি ইংরেজিতে এক মাস সময় বেশি দেন। অনেকে আছে যে আমি অঙ্ক ভালো, ইংরেজি ভালো, আমি বাংলায় একটু সমস্যা। বাংলায় এক মাস সময় বেশি দেন।
ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী রিঅ্যারেঞ্জ
উল্লেখিত প্লান অনুযায়ী কাজগুলো করার পর নিজের উপর একটা কনফিডেন্ট চলে আসবে। আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কোন বিষয়ে আপনার বেশি দূর্বলতা কোনটিতে একটু বেশি সময় দেওয়া প্রয়োজন।
বাকিটা আপনার মতো করে আপনি একটু মানে সাজিয়ে নিবেন, রিঅ্যারেঞ্জ করে নিবেন। আমি জাস্ট একটা আনুমানিক ধারণা দিলাম। ঠিক আছে? এটা হচ্ছে ম্যাক্সিমাম ছেলেমেয়েদের জন্য, যারা দুর্বল ক্যাটাগরিতে রয়েছে তাদের জন্য।
পরীক্ষার আগে শেষ ১৫ দিনের ম্যাজিক
আপনি যদি এই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারেন, তারপরে ব্যাংক বলেন, বিসিএস বলেন, যে কোনো চাকরি পরীক্ষা বলেন, পরীক্ষার আগে চোখটা বন্ধ করে পনেরো দিন জাস্ট রিসেন্ট পড়বেন, জিকে পড়বেন বা কনফিউজিং যে পার্টগুলো আছে এগুলো পড়বেন, সরকারি চাকরিতে (Govt Job) আপনি টিকবেন।
পত্রিকা পড়া ও খবর দেখার গুরুত্ব
আরেকটা জিনিস করবেন যে নিয়মিত পত্রিকা পড়া ও খবর দেখা—এই জিনিসটা একটা মহৌষধ। কিভাবে কাজ করে জানেন?
মনে করেন যে এটা আমাদের ব্রেইনে সিনেমার মতো সেট হয়ে যায়। আজকে একটা ইরানের একটা কাহিনী পড়ছেন, চীনের একটা কাহিনী পড়ছেন, ওই কাহিনী থেকে দুই বছর পরেও কোনো প্রশ্ন সরকারি চাকরি (Govt Job) পরীক্ষা আসলে আপনি পারবেন।
ফাইনাল সাজেশন
এইভাবে আপনার ন্যাচারাল প্রশ্নই থাকলে একটা পরীক্ষার আগে পনেরো দিন এনাফ। এটা মড়েনা, না না! কথা ক্লিয়ার?
তারপরে, শিক্ষার্থীরা, এইভাবে যদি একেবারে ন্যাচারালি নিজের প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করতে চান এবং বাংলাদেশের ব্যাংক, বিসিএস, ডিফেন্স, প্রাইমারি থেকে নিবন্ধন, যে কোনো সরকারি চাকরি (Govt Job) পরীক্ষায় আপনি যদি ভালো করতে চান, তাহলে আমাদের এই পরিচিত পরামর্শ দিয়ে পড়াশোনা করুন।
আপনি যদি সরকারি চাকরি (Govt Job) প্রার্থী না হয়ে থাকেন, আপনার পরিচিত যারা চাকরিপ্রার্থী রয়েছে, তাদেরকে আর্টিকেলটি ইনবক্সে, হোয়াটসঅ্যাপে, ইমুতে শেয়ার দিন অথবা এই কমেন্ট সেকশনে তাদেরকে মেনশন করতে পারেন। জীবন বদলানোর বিভিন্ন তথ্য জানতে নিয়মিত লাইফ স্টাইল হ্যাকস বিভাগের পোস্টগুলো দেখ।
প্রায়ই অনেকে জানতে চান
এক বছরের মাস্টার প্ল্যান কীভাবে কাজ করে?
👉 এই প্ল্যানে প্রথমে গণিত, তারপর ইংরেজি, পরে বাংলা ও সাধারণ জ্ঞান ধাপে ধাপে পড়তে হয়। এতে বেসিক শক্ত হয় এবং এক বছরে চাকরি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়।
এই প্ল্যান কি বিসিএস পরীক্ষার জন্য কার্যকর?
👉 জি হ্যাঁ। এই প্ল্যান অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলে বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিবন্ধন, প্রাইমারি ও অন্যান্য চাকরি পরীক্ষার জন্য সমানভাবে কাজে লাগবে।
কেন প্রথমে গণিত ও ইংরেজি বেশি সময় দিতে হবে?
👉 কারণ গণিত ও ইংরেজি সবচেয়ে কঠিন এবং প্রতিটি পরীক্ষার মূল ভিত্তি। এগুলো শক্ত থাকলে যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় সহজে টিকে যাওয়া সম্ভব।
প্রস্তুতির সময় কি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দরকার?
👉 না। অপ্রস্তুত অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সময় ও অর্থের অপচয়। প্রথমে বেসিক শক্ত করুন, পরে মূল পরীক্ষায় অংশ নিন।
পত্রিকা ও খবর পড়া কেন জরুরি?
👉 নিয়মিত খবর পড়লে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সাধারণ জ্ঞান দীর্ঘদিন মনে থাকে, যা চাকরির পরীক্ষায় বড় সহায়ক হয়।


3 Comments
Pingback: খারাপ অভ্যাস দূর করার সহজ ও কার্যকর কৌশল - NiceTrix
Pingback: বিসিএস প্রস্তুতি: কম পড়ে পাশ করার ৫টি কৌশল - ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির গল্প - 5 Proven Working Technique to Pass B
Pingback: ৭ কোরিয়ান প্রবাদ জীবন বদলে দিতে পারে - 7 Life Changing Proven Korean Proverbs - NiceTrix