আজ শেয়ার করবো ৫টি বেসিক কম্পিউটার স্কিল যা ক্যারিয়ারে গ্রোথ করার জন্য আবশ্যিক। আমাদের দেশের একটা বড় সমস্যা হলো— অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেও চাকরি পায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট বা অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পরও বেকার থাকা আজকের দিনে খুব সাধারণ ব্যাপার। এর অন্যতম কারণ হলো, তারা বেসিক কম্পিউটার স্কিল জানে না।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব— ২০২৫ সালে একজন বাংলাদেশির বেকার না থাকার জন্য যে ৫টি বেসিক কম্পিউটার স্কিল অবশ্যই শেখা উচিত।
বেসিক কম্পিউটার স্কিল যেমন MS Word, PowerPoint, Excel/Google Sheets, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, ও অনলাইন কমিউনিকেশন দক্ষতা কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে এগুলো শিখে ক্যারিয়ার গড়বেন, জানুন বিস্তারিত।
কেন বেসিক কম্পিউটার স্কিল গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে শুধু পড়াশোনা যথেষ্ট নয়। এখনকার অফিস, কর্পোরেট বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হলে বেসিক কম্পিউটার স্কিল জানা আবশ্যক। ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্সপার্ট হলেও বাস্তব কাজে সেটা কোনো মূল্য রাখে না।
একটা সময় কম্পিউটার ছিল বিরল জিনিস। কিন্তু আজকের দিনে ২০–৩০ হাজার টাকার মধ্যেই একটি ভালো সেকেন্ড-হ্যান্ড ল্যাপটপ পাওয়া যায়। তাই অজুহাত না দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নিজের জন্য একটি কম্পিউটার কিনতে হবে।
আরও পড়ুনঃ চাকরি নাকি উচ্চশিক্ষা কোনটি আগে করবেন?
৫টি বেসিক কম্পিউটার স্কিল
- ১. বেসিক কম্পিউটিং
- ২. টাইপিং ও মাইক্রোসফট ওয়ার্ড
- ৩. পাওয়ারপয়েন্ট / গুগল স্লাইডস
- ৪. এক্সেল / গুগল শিটস
- ৫. স্টোরেজ ও ট্রাবলশুটিং
বেসিক কম্পিউটিং

বেসিক কম্পিউটিং। দেখো, তোমাদের মধ্যে অনেকে কম্পিউটার কিভাবে অন করতে হয়, কম্পিউটার কিভাবে অফ করতে হয়, একটা ফাইল কিভাবে কপি করতে হয়, একটা ড্রাইভ কিভাবে সেট করতে হয়, একটা উইন্ডোজ কিভাবে সেটা দিতে হয়, কিভাবে ডিলিট করতে হয়, রিসাইকেল বিন কি, মাই কম্পিউটার কি, সি ড্রাইভ কি— এগুলো জানে না।
বেসিক কম্পিউটার স্কিল মানে হলো কম্পিউটারের একদম বেসিক নলেজ। যেমন- কম্পিউটারটা কি কি কাজ করে, কিভাবে কি কি পার্টস থাকে- এই জিনিসগুলো জানতে হবে। ইভেন এগুলো জবের এক্সামগুলোতেও দেওয়া আছে। সো, একটা কম্পিউটার নেড়েচেড়ে, কম্পিউটারের বেসিক অপারেশন জানা— এটাই হলো বেসিক কম্পিউটিং স্কিল নাম্বার ওয়ান।
এটা অনেকে জানে না। অনেকে কম্পিউটার চালায়ও নাই। আমি ভার্সিটি পাশ করে দেখছি মানুষকে, ভার্সিটি পুরাটা পাশ করছো— কম্পিউটার চালাও নাই। এই মানুষটা কিভাবে আশা করে জব পাবে?
নিচের বিষয়গুলো জানতে আপনার বেসিক কম্পিউটিং জানা আছে বলতে পারেন-
- কম্পিউটার অন/অফ করা
- ফাইল কপি, ড্রাইভ ব্যবহার
- উইন্ডোজ সেটআপ ও রিসাইকেল বিন
- মাই কম্পিউটার, সি/ডি ড্রাইভ বোঝা
আরও পড়ুনঃ কার্যকরী সময় ব্যবস্থাপনার জন্য ৪টি টাইম ম্যানেজমেন্ট প্রিন্সিপাল
টাইপিং ও মাইক্রোসফট ওয়ার্ড

টাইপিং করতে পারে না। ফোন দিয়ে ফোনে টাইপিং! আরে বাবা, পৃথিবীর কোন অফিসে ফোন দিয়ে টাইপ করে বাবা? কোন অফিসে, কোন জায়গায় ফোনে টাইপ করে? এমএস ওয়ার্ডে একটু টাইপিং শিখো।
তোমাকে একটা মজার কথা বলি, আমাদের কোম্পানিতে নরমালি টাইপিং স্কিল আমরা খুঁজছিলাম গত ৩ মাস যাবত। একটা ছেলেকে পাইছি, মনে করো থার্টি-কে, ফোর্টি-কে, ফিফটি-কে অফার করা হয়।
তাও, সায়েন্টিফিক টাইপিং জানে, অর্থাৎ বাংলা বিজয়ে টাইপিং পারে এবং সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সাল টাইপিং পারে। এরকম মানুষজন কখনো বসে থাকে না এবং এদেরকে কোম্পানিগুলো মরিয়া হয়ে নিয়ে যায়।
যারা একটু অ্যাডভান্স লেভেলের টাইপিং পারে এবং ফরম্যাটিং পারে— যে একটা ডকুমেন্ট এসে ফরম্যাট করতে পারে, মোটামুটি প্রিন্টেবল পর্যায়ে নিয়ে আসে— তাকে পাবলিকলি বলে হায়ার করে। কিন্তু তোমরা এটা জানো না।
বেসিক কম্পিউটার স্কিল হিসেবে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড শিখবা— বাংলা টাইপিং, ইংরেজি টাইপিং। ধরো তুমি অবরোধী বাংলা জানো, তাও বাংলাটা জানো। ইংলিশ টাইপিংটা জানো, একটা স্পিডে জানো। এরকম করে, এরকম করে টাইপিং করা যাবে না।
টাইপিং ও মাইক্রোসফট ওয়ার্ড স্কীলে যে বিষয়গুলো আয়ত্ব করতে হবে-
- ইংরেজি ও বাংলায় দ্রুত টাইপিং
- ডকুমেন্ট ফরম্যাটিং
- বিজয় বা ইউনিকোড বাংলা টাইপিং
- প্রিন্টেবল লেভেলের ডকুমেন্ট তৈরি
পাওয়ারপয়েন্ট / গুগল স্লাইডস
এখন তো পাওয়ার পয়েন্টের ভার্সন আছে, হইলো গুগল স্লাইডস। অনেক কিছু ক্যানভাতেও করা যায়, ডাজ নট ম্যাটার। তুমি যেকোনো একটা হোক। পাওয়ার পয়েন্ট হলো সবগুলোর বেস, মাই গড! পাওয়ার পয়েন্ট হলো বেনচমার্ক।
আমরা ভার্সিটির লেভেলে দেখছি, অনেক মানুষকে দেখা গেছে— পুরা ভার্সিটি লাইফ পার করে ফেলছে, কিন্তু ১টি বেসিক কম্পিউটার স্কিল ‘পাওয়ার পয়েন্টে’ একটা প্রেজেন্টেশন পারে না। সামনে দাঁড়িয়ে একটু কথা বলতে পারে না। এবং অনেক সময় এপ্রেজেন্টটা করে যে মনে হয় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন না—পারা টা একটু অন্যরকম ক্রিয়েটিভ। আর এই আমি স্লাইড বানাতে পারি না।
মনে রাখবা, যখনই তুমি কোনো কর্পোরেট লেভেলে যাবা বা যদি স্লাইড অফ অন করো, তোমাকে জীবনে অসংখ্য পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড বানাতে হবে। যেমন আমার এই স্লাইডটা আমি বানাইছি, এটাকে খুব ডিজাইন করেছি। খুব একদম মনে হচ্ছে— ওরে বাবারে বাবা, একদম বেসিক ডিজাইন। বেসিক পাওয়ার পয়েন্ট স্কিল জানতে হবে, যাতে তুমি যেকোনো একটা প্রেজেন্টেশন করতে পারো।
কর্পোরেট দুনিয়ায় হাজারো প্রেজেন্টেশন বানাতে হবে। তাই পাওয়ারপয়েন্ট এর এই স্কিল অবশ্যই থাকতে হবে-
- প্রেজেন্টেশন তৈরি
- স্লাইড ডিজাইন
- ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট উপস্থাপন
আরও পড়ুনঃ Competitive Programming এর জার্নিটা শুরু Problem Solving এর মাধ্যমে!
এক্সেল / গুগল শিটস
এরপর চতুর্থ যে পয়েন্টটা, সেটা হলো ম্যাক্সিমাম এক্সেল। আর এখন ম্যাক্সিমামের থেকে ভালো ভাষা হলো গুগল শিটস। ঠিক আছে, দেখো— যেকোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বাধিক অপারেশন বর্তমানে, এমনকি বড় বড় কোম্পানির ইম্পোর্টিং বা অপারেশন কন্ট্রোলও হয় এক্সেলের মাধ্যমে।
কতটুকুতে? যদি কেউ এক্সেলে এক্সপার্ট হয়, আর এই স্কিলগুলো না থাকে, তাহলে কিছুই বুঝবে না ভাই, একটুও কাজ যোগ করতে পারবে না। অথচ এগুলো খুবই সহজ। এক্সেল চালানো খুবই সহজ, আর গুগল শিট তো আরও সহজ। গুগল শিট আর এক্সেল প্রায় একই জিনিস, শুধু অনলাইনে চলে।
এখন প্রায় সব অফিসেই নিয়োগ পেতে হলে রিপোর্ট, হিসাব ও ডেটা ম্যানেজমেন্ট এক্সেল বা গুগল শিটসে নিচের কাজগুলো অবশ্যই জানতে হবে-
- ডেটা এন্ট্রি
- বেসিক ফর্মুলা ব্যবহার
- টেবিল ও চার্ট তৈরি
- কোম্পানি অপারেশন কন্ট্রোল
স্টোরেজ ও ট্রাবলশুটিং
এর পরে পঞ্চম যে স্কিলটা, সেটা হলো—আমাদের স্টোরেজ। স্টোরেজ মানে হলো একটি কম্পিউটারকে সচল রাখা। যেমন সি-ড্রাইভ থেকে ডি-ড্রাইভে ফাইল সরানো, কম্পিউটার ফরম্যাট করা, উইন্ডোজ সেটআপ দেওয়া, সাধারণ কিছু কমান্ড লেখা পড়তে পারা, কোনো ইস্যু হলে সমাধান করতে পারা, ওয়ালপেপার পরিবর্তন করতে পারা।
স্টোরেজের সাথে একটু অ্যাডভান্সও আসে। মানে একটু কম্পিউটার অ্যাডভান্সড জ্ঞান থাকতে হয়। তখন দেখা যায় তুমি তোমার কম্পিউটারের অনেক ট্রাবলশুটিং নিজেই করতে পারবে। যেমন—কীভাবে ড্রাইভ ফরম্যাট করবো, কীভাবে সফটওয়্যার ইন্সটল বা আনইন্সটল করবো, কীভাবে কম্পিউটারে পাসওয়ার্ড দেবো।
নিজের কম্পিউটার সংক্রান্ত বেসিক ট্রাবলশুটিং করতে নিচের স্কীলগুলো আয়ত্ব করা উচিত-
- ফাইল ম্যানেজমেন্ট (সি থেকে ড্রাইভে ফাইল সরানো)
- সফটওয়্যার ইনস্টল/আনইনস্টল
- উইন্ডোজ ফরম্যাট ও পাসওয়ার্ড সেটআপ
- বেসিক ট্রাবলশুটিং
কোথায় শিখবেন?
এসব প্রতিটা বিষয়ই ইউটিউবে লিখলেই পুরো টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। অথবা যেকোন এআই মিডিয়াকে জিজ্ঞেস করলেই ডিটেইলসে সবকিছু জানা যায়। শুধুমাত্র আপনার সঠিক ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে।
আপনি চাইলে বিদ্যাশিখি ডট কম এর বেসিক কম্পিউটার অপারেশন কোর্সটি থেকে ফ্রিতেই এসব বেসিক স্কীল শিখে নিতে পারেন।
এছাড়াও আমাদের ইউটিউব চ্যানেল NiceTrix, ফেসবুক পেইজ NiceTrix এবং টিকটক থেকে এই সংক্রান্ত দারুন দারুন টিপস্ জানতে পারবেন।
FAQ
বেসিক কম্পিউটার স্কিল কত দিনে শেখা সম্ভব?
দৈনিক ১–২ ঘন্টা প্র্যাকটিস করলে ১–২ মাসে বেসিক স্কিল আয়ত্ত করা সম্ভব।
ফোনে কি কম্পিউটার স্কিল শিখা যায়?
হ্যাঁ, অনেক অনলাইন কোর্স ফোনেও সম্পূর্ণ শেখা যায়, তবে ল্যাপটপ/ডেস্কটপে অভ্যাস করা বেশি কার্যকর।
কোন স্কিলগুলো চাকরিতে বেশি কাজে লাগে?
MS Word, Excel/Google Sheets, PowerPoint, টাইপিং এবং ট্রাবলশুটিং সবচেয়ে বেশি দরকার।
কিভাবে ফ্রিতে এই কোর্স করবো?
বিদ্যাশিখি ডট কম অথবা ইউটিউব এর বিভিন্ন রিসোর্স থেকে খুব অল্পসময়ে এগুলো শেখা যাবে।
শেষ কথা
শুধুমাত্র গ্রাজুয়েশন শেষ করে দামি দামি সব ডিগ্রী নিয়ে বসে থাকলে এই সময়ে চাকরি পাওয়া যায়না। এখানে আলোচিত ৫টি বেসিক কম্পিউটার স্কিল জানা থাকলে খুব দ্রুতই বিভিন্ন কোম্পানী আপনাকে হায়ার করে নিবে।

