সামাজিক অনুষ্ঠান বা সোশ্যাল গ্যাদারিং আমাদের মধ্যে অনেকের বিরক্ত লাগে মানে ভয় পাই। কিন্তু অনেকেই আত্মবিশ্বাসের সাথে এগুলো উপভোগ করে। আজকে জানবো আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ৬টি অব্যর্থ কৌশল সম্পর্কে আপনাকে অনেক সামাজিক সম্পর্কে হিরো করে তুলবে।
আপনি এই আর্টিকেল পড়ছেন কারন সোশ্যাল গ্যাদারিং, ফাংশন— এসব এটেন্ড করতে আপনার একদম ভালো লাগে না। কথা বলতে পারেন না, কথা বললে কী উত্তর দেবেন বুঝতে পারেন না। কোনো পার্টিতে যাওয়া বা বাড়িতে যদি কোনো অকেশন হয়, সবাই মিলে যে কী কথা বলতে থাকে আপনি তার কিছুই বুঝতে পারেন না। আপনি মনে করেন সব থেকে বেটার হচ্ছে ঘরের কোনো এক কোনায় বা নিজের রুমে চুপ করে বসে থাকা। আপনার কারোর সাথে কথা বলার কোনো দরকার নেই।
আপনি কি সেরকম? যদি আপনি সেরকম হন, তাহলে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো সংক্রান্ত আজকের এই লেখাটি আপনার জন্য।
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা
কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আপনি এভয়েড করতে পারবেন সোশ্যাল গ্যাদারিং, কোনো পার্টি, কোনো ইভেন্ট। কিন্তু লাইফের সমস্ত স্টেজে এগুলোকে এভয়েড করা কিন্তু যায় না। অনেকেই ইন্ট্রোভার্ট থাকেন, যারা এগুলো থেকে দূরে থাকতে চান, কিন্তু পসিবল সব সময় হয় না।
আবার অনেকে চান এগুলো এটেন্ড করতে, কিন্তু কিছু স্কিলের অভাবে তারা এগুলো করে উঠতে পারেন না। তাদের হয়তো সেই কনফিডেন্সটা নেই, বা তারা মনে করেন যারা এগুলোতে খুব এক্সপার্ট, যারা ভালো কথা বলতে পারেন, তারাই সমস্ত ইভেন্টে স্টার হয়ে থাকেন।
একচুয়ালি তা কিন্তু নয়। এগুলো কিছু স্কিলের উপর ডিপেন্ড করে। এই স্কিলগুলো সেট করতে হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এই স্কিলগুলো আপনার মধ্যে ডেভেলপ করাতে হবে। তবেই দেখবেন আপনিও একটা পার্টির স্টার হয়ে উঠছেন। আর কেন বলছি? এটা ইম্পর্ট্যান্ট। লাইফের সমস্ত স্টেজ থেকে আপনি কিন্তু এই সোশ্যাল গ্যাদারিংটাকে কাট করে দিতে পারবেন না এবং এটা উচিতও নয়।
তাই আজকে আমি ছয়টি সোশ্যাল স্কিলের কথা বলব। যে স্কিলগুলো আপনি আয়ত্ত করতে পারলে আপনিও আত্মবিশ্বাস বাড়ানো শিখে যাবেন এবং কথা বলার কৌশল রপ্ত করে ভালোভাবে একটা সোশ্যাল গ্যাদারিংয়ে কনভারসেশন করতে পারবেন।
১. সোশ্যাল ডাইনামিক্স বোঝা
প্রথমত, আপনাকে বুঝতে হবে সোশ্যাল ডাইনামিক্সগুলো। শ্রোতা ও বক্তার সঠিক শিফটিং অর্থাৎ ধরুন, আপনি একটা ইভেন্টে, একটা পার্টিতে বা কোনো গ্যাদারিংয়ে গেছেন। সেখানে দুজনের কথোপকথনের মধ্যে একজনের কাছে পাওয়ার অফ ইনফ্লুয়েন্স থাকে আর অন্যজন গুড লিসনার হন।

তার মানে এই নয় যে একজন শুধু বকবক করে যাচ্ছেন আর একজন শুধু শুনে যাচ্ছেন। এটা একচুয়ালি গুড কনভারসেশনের মধ্যে একজনের থেকে আরেকজনের শিফট হয়। এই শিফটিং হওয়াটা— কখন শিফট করতে হবে সেটা জানাটা খুব জরুরি। আর সেটা কিসের ওপর চেঞ্জ হয়? পার্সোনাল কনটেক্সট এবং টপিকের ওপর।
মানে কে কখন ইনফ্লুয়েন্স করবেন এবং কে কখন লিসেন করবেন। প্রথমে যে লিসেন করছিলেন, যে প্রথমে শ্রোতা হিসেবে ছিলেন, সে পরে বক্তাও হবেন এবং অপরজনকে ভালো করে শুনতেও হবে।
তো এইভাবে এই শিফটিংটা যখন চলতে থাকবে, একজন ইনফ্লুয়েন্স করছেন, একজন কোনো টপিক নিয়ে কথা বলছেন, একজন ভালো করে শুনছেন, আবার অপরজন যখন কথা বলছেন আরেকজন ভালো করে শুনছেন— এই দুটো জিনিসেই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। দুটো জিনিসকে ব্যালেন্স করে চলতে হবে, তবেই আপনার একটা কনভারসেশন ভালোভাবে টিকবে।
২. মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর করুন: নিজেকে হীন বা শ্রেষ্ঠ ভাববেন না
নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবা বা হীন ভাবার মত খারাপ অভ্যাস অনেকে আছে। এই ধরনের কনভারসেশনে আমি যে টিপসগুলো দেবো, সেগুলো হচ্ছে—
ক. যখনই আপনি একটা পার্টিতে যাবেন বা সোশ্যাল গ্যাদারিংয়ে যাবেন, প্রথমে মাথায় এটা রাখবেন যে আমার থেকে কেউ ছোট নয়, আমার থেকে কেউ বড় নয়। অনেকে ভাবেন যে আমি মনে হয় সবার থেকে ছোট, নিজেকে হেয় করে, হীনমন্যতায় ভোগেন। তাই জন্য তারা কথা এগোতে চান না বা এগোতে পারেন না।
খ. আবার কিছু কিছু মানুষ এমনই দাম্ভিক হন, যারা ভাবেন যে সামনের জন ইন্টেলেকচুয়ালি আমার থেকে অনেক লো, আমি এর সাথে কথা বলবো কী— এ কিছুই বোঝে না।

তাই দুটোই কিন্তু সমানভাবে হাড়গোল। দুটোতেই কিন্তু একটা হেলদি এনভায়রনমেন্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং কনভারসেশন হওয়ার চান্স জিরো হয়ে যায়। এই জন্য এই দুটো মাইন্ডসেট থেকে নিজেকে মুক্ত করে দেবেন এবং যখন কোনো জায়গায় যাবেন ভাববেন— কেউ জ্ঞানের দিক থেকে আমার থেকে ছোট নয় এবং কেউ আমার থেকে বড় নয়।
৩. কনফিডেন্স বাড়াবে ‘প্রপার ড্রেসিং সেন্স’

নেক্সট টিপ হচ্ছে যে ইভেন্টটাতে যাচ্ছেন তার জন্য প্রপার ড্রেস পরুন। প্রপার ড্রেস পরাটা ভীষণ জরুরি। সেটা আপনার কিন্তু কনফিডেন্স লেভেল অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
- আপনি একটা শর্ট ড্রেস কোনো পার্টিতে পরতে পারেন, সেটা আপনার জানা দরকার।
- একটা বিয়েবাড়িতে কোন ধরনের ড্রেস পরতে হয় সেটা জানা দরকার।
- একটা একাডেমিক গ্যাদারিং, কলেজ ফেয়ার বা সেইরকম ধরনের জায়গায় আপনাকে কী ধরনের ড্রেস পরতে হবে সেটা জানা দরকার।
- একটা অফিসের কোনো গেট টুগেদারে সেখানে কী ধরনের ড্রেস পরতে হয় সেটাও জানাটা দরকার।
এগুলো একটাও যদি চেঞ্জ হয়ে যায়, তাহলে সেই পার্টিতে আপনি কিন্তু নিজের কনফিডেন্সটাই হারিয়ে ফেলবেন। ওভার ড্রেস হয়ে কখনোই কোথাও যাওয়া উচিত নয়, যে আপনি ভীষণ একটা জমকালো কিছু করে ফেললেন।
আর কখনো একেবারে আন্ডার ড্রেস হয়ে যাওয়াটাও উচিত নয়, যে আমি যেখানেই যাই আমি হাবাই চটি পরে যাই—সেটা সব ক্ষেত্রে কাজ করে না। তাই ড্রেসিং সেন্স মেইনটেন করা, ড্রেসকোড মেনে চলাটা খুব জরুরি।
আমি এক্সপেন্সিভ ড্রেস নয়, প্রপার ড্রেসিং-এর কথা বলছি। আর যেটা আপনার কনফিডেন্স লেভেলকে বাড়াতে অনেক গুণ সাহায্য করে।
৪. পজিটিভ অ্যাটিটিউড ও নন-জাজমেন্টাল মানসিকতা
নেক্সট পয়েন্ট যেটা বলবো সেটা হচ্ছে হ্যাভ আ পজিটিভ অ্যাটিটিউড। আপনি যখনই একটা রুমে এন্টার করেন, আপনার মাইন্ড যদি মনে করে— এই গ্যাদারিং এ আমাকে আসতে হলো, মানে আপনার মুখে সেটা কিন্তু রিফ্লেক্ট করবে।
বা দূর, আমি এখানে আসতে চাইনি, আমাকে মা টেনে টেনে নিয়ে এলেন— এই ধরনের জিনিসগুলো যদি আপনার মধ্যে থাকে, তাহলে আপনার যে ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন সেটা এমন হবে, সেটা কিন্তু পজিটিভ হবে না। এবং সেটা সেই অরাটা চারপাশের লোকেরাও কিন্তু ফিল করতে পারবেন। ঠিক আছে তো?
সেইটা না করে, আপনি জাস্ট ওভারঅ্যাক্টটা করবেন না, কিন্তু মিনিমাম সবাইকে স্মাইল করে গ্রিট করা— হ্যালো, গুড ইভনিং, কেমন আছো, কেমন আছেন— এই ধরনের গ্রিটিংসগুলো কিন্তু খুব কাজে দেয়।

একটা পজিটিভ বডি পোস্টার রাখবেন। আপনি সাঁই হয়ে কোণায় দাঁড়িয়ে মোবাইল দেখে যাচ্ছেন— এটাতে কেউ আপনার সাথে কথা বলতে আসবেও না, আপনিও আর যাবেন না কথা বলতে। একটা অকওয়ার্ড সিচুয়েশন এবং আপনি একটা অকওয়ার্ডলি আইসোলেটেড হয়ে থাকবেন। সেটা যাতে না হয় সেটা দেখবেন। বডি পোস্টারটাকে কারেক্ট রাখবেন।
এন্ড বিয়া লিটল নন-জাজমেন্টাল। কখনোই কোনো পার্টিতে গিয়ে কাউকে জাজ করা মানে—বাবা কিরকম জুয়েলারি পরে এসেছেন, না না না। এসব ভেরি ব্যাড থিংক। নিজের মাইন্ডেও কখনো জাজমেন্টটা রাখবেন না।
তার হয়তো ওটা ভালো লেগেছে তাই জন্য পরে এসেছেন, সে ওটা পরে খুশি আছেন তাই জন্য পরেছেন। কিন্তু আপনি সেটা যদি মনে মনে ভাবেন, তো এই জাজমেন্টটা আপনার নিজের মনে আসছে, মানে আপনার থিংকিংটা ঠিক ব্রড নয়।
বা কেউ যদি ধরুন কোনো কথা বলছেন, ধরুন কোনো বড় কেউ বা অনেক সময় অনেক কাকিমা জেঠিমারা কথা বলতে বলতে অনেক অপ্রয়োজনীয় কথা বলে থাকেন, যেগুলো হয়তো আপনার শুনতে খারাপ লাগছে বা মনে হচ্ছে এটা ঠিক নয়। কিন্তু তার জন্য তাকে জাজ করা যে মানুষটাই মনে হয় খারাপ—এটা ঠিক নয়।
আপনার যদি মনে হয় কনভারসেশনটা আপনার পছন্দ হচ্ছে না, তাহলে আপনি সেখান থেকে সরে যান। কিন্তু এই জাজমেন্টাল মেন্টালিটিটা থাকা মানে আপনি নিজেকে গ্রো হতে আটকাচ্ছেন। অন্যদিকে ক্রিটিসাইজ বেশি করে ফেলছেন, তো সেটা ভেরি ব্যাড থিংক। যেটা আপনিও চাইবেন না যে আপনার সাথে কেউ করুক।
অন্য কেউ যদি আপনাকে নিয়ে এরকম ভাবে সেটাও আপনি চাইবেন না। কিন্তু অন্যের থিংকিংয়ে তো আপনার কন্ট্রোল নেই। কিন্তু নিজের থিংকিংকে সবসময় রাখবেন নন-জাজমেন্টাল।
এই সোশ্যাল ডাইনামিক্সগুলোকে যদি আপনি ফলো করেন, তো মোটামুটি দেখবেন একটা গ্যাদারিংয়ের মধ্যে আপনি ঢুকতে পারছেন এবং ভালো করে নিজের অরাটা এস্টাবলিশ করতে পারছেন।
৫. মিররিং কৌশল ও স্পটলাইট ইফেক্ট দূরীকরণ
অনেকের মধ্যেই মিররিং এবং স্পটলাইট ইফেক্ট থাকে। এগুলো করতে অনেক সময় নিজের উপর কনফিডেন্ট হারিয়ে যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এগুলো থেকে পরিত্রাণ কিভাবে পাওয়া যাবে-
বডি ল্যাঙ্গুয়েজ মিররিং (Mirroring)

মিররিং বলতে আমি নকল করাই বলছি না। কিন্তু নকল করাটা মানে কিন্তু ওভারডুইং নয় কোনো কিছু। মানে আপনি সামনের জনকে নকল করছেন মানে সামনে হা হা করছেন— সেরকম যেন না হয়।
আমি বলতে চাইছি ধরুন, সামনের জনকে দেখছেন ওপেন বডি পোস্টারে কথা বলছেন, খুব ফ্লুয়েন্ট কথা বলছেন, ওপেনলি হাত ওপেন আছে, তো আপনিও চেষ্টা করুন আপনিও নিজেকে ওপেন করার চেষ্টা করুন। হাত গুটিয়ে এভাবে কথা বলবেন না।
তার ফলে কী হবে? সামনের জনের সাথে আপনার একটা পজিটিভ মেন্টাল কানেকশন তৈরি হবে। এই মিররিংটা করলে পরে কী হয়, চট করে আপনার সাথে অন্যজন কানেকশনটা ভালো করে এস্টাবলিশ করতে পারেন। তার মাইন্ডে ফট করে একটা পজিটিভ সিগন্যাল যায়।
মানে কেউ কথা শুরু করার আগেই কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা অনেক বেশি ম্যাটার করে। যে পজিটিভ ভাইবে আপনি তার কাছে যাচ্ছেন, বা দুটো কথা বলার পরে আপনি যেভাবে ওপেন হচ্ছেন—
এই যে আমি, আমি এখন এই যে হাত মেরে— যদিও আমি সামনাসামনি কথা বলার সময় এত হাত নাড়ি না, কিন্তু এই ওপেনলি কথা বলা, এই শোল্ডার সবসময় ওপেন রাখা, হাত গুটিয়ে এভাবে কথা না বলা, ঝুঁকে কথা না বলা—এগুলো চেষ্টা করবেন যে মিরর করুন।
সামনের জন যেরকম ভাবে যে ওয়েতে আপনার সাথে এপ্রোচ করছেন সেইভাবে আপনিও এপ্রোচ হন। এটা কখনো ওভারডু করবেন না যাতে সামনের জন এরকম ভাবেন যে আপনি তাকে নকল করছেন বা আপনি তাকে লাইক ভেঙাচ্ছেন। তো সেটা যেন না হয়। আমি কি বলছি আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে আপনি যে স্টাইলটাকে মিররিং করুন।
আরও পড়ুনঃ এআই জেনারেলিস্ট হওয়ার বিস্তারিত গাইড লাইন
স্পটলাইট ইফেক্ট (Spotlight Effect)
নেক্সট থার্ড হচ্ছে স্পটলাইট ইফেক্ট। এটা উনিশশো নিরানব্বই সালে ব্লেভিড সার্ভিস কিডাবল কিছু সায়েন্টিস্ট এটা টেস্ট করেছিলেন। তৎকালীন সময়ের একজন খুব খ্যাত গায়ক, যাকে অতটা লোকে পছন্দ করত না, তার টি-শার্ট পরিয়ে কিছু ইউনিভার্সিটির কিছু ছাত্রকে পুরো ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসটা ট্যুর করতে বলেছিলেন।
তো তারা সেই টি-শার্টটা পরে ট্যুর করলেন। এসে যখন জিজ্ঞেস করলো—আপনাদের কি মনে হয় আপনারা এই টি-শার্টটা পরার জন্য আপনাদেরকে কতজন নোটিশ করেছে?
তো তারা যেটা বললেন যে আমাদের মনে হচ্ছে অনেক জায়গাতেই নোটিশ করেছে এরা। আমাদের মনে হয় বাজেভাবে নোটিশ করেছে, জাজমেন্টাল লুক দিয়েছে যে ওই গায়কের টি-শার্ট পরে আছেন। কিন্তু একচুয়ালি সেটা হয়নি।
কারণ ওখানে যারা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাদের পিছনে অনেক লোক যাচ্ছিল এটা দেখার জন্য যে আদৌ বাকি স্টুডেন্টরা ওই টি-শার্ট পরা স্টুডেন্টদেরকে নোটিশ করছে কিনা।
একচুয়ালি তারা ভেবেছেন যতটা, ততজন কিন্তু ওদেরকে মোটেই নোটিশ করেনি। কারণ তারা খুব সেলফ-কনশাস হয়ে গেছেন যে আমি এরকম একটা টি-শার্ট পরেছি, আমাকে মনে হয় সবাই নোটিশ করছে। কিন্তু একচুয়ালি কেউ নোটিশ করেনি সেইভাবে।
তো এটা থেকে দেখা যাচ্ছে বা বোঝা যাচ্ছে যে আপনি কী করছেন, কী পরছেন— নো বডি কেয়ার্স। তারা তাদের নিয়েই ব্যস্ত সবাই। তাই আপনার মনে হচ্ছে আপনাকে সবাই দেখছে, আপনাকে সবাই জাজ করছে— এটা একচুয়ালি কিন্তু নয়।

তাই নিজের থেকে স্পটলাইটটা সরিয়ে ফেলুন, এই প্রেসারটাকে সরিয়ে ফেলুন। আপনার যখনই মনে হবে যে আমি গ্যাদারিংয়ে ঢুকছি, আমি একটা পার্টিতে এন্টার করছি— মানে সবাই আমাকে দেখবে, আমাকে জাজ করবে—এই ভাবনাটা নিজের থেকে দূরে সরিয়ে ফেলুন।
তার কারণ একচুয়ালি কেউ কেয়ার করে না। কারণ আপনি নিজেই ভেবে দেখুন না, আপনি কজনকে কথা বলতে গেলে আপনি তাদেরকে নিয়ে কতখানি কেয়ার করেন— এজেন্ট দা ট্রুথ তো! কেউ আপনাকে নিয়ে ওইভাবে কিন্তু দেখছেন না। তাই ওই প্রেসারে আপনি ভেতরে ঢুকবেন না।
ওই প্রেসারটা থাকলে আপনি কারোর সাথে মন খুলে কথা বলতে পারবেন না এবং সেই সোশ্যাল পার্টিটাকেও গ্যাদারিংটাকেও আপনি এনজয় করতে পারবেন না।
তাই আপনার মাইন্ড থেকে স্পটলাইটটা আপনার উপর থেকে সরিয়ে রেখে দিন। ওটাকে অফ করে দিন। আর তারপর নিজের মতো করে মন খুলে মিশুন।
কারণ একটা জিনিস মনে রাখবেন— আপনার মতো কিন্তু শুধু আপনিই আছেন। তাই নিজের প্রেজেন্সটাকে এস্টাবলিশ করুন, মন খুলে নিজের ওপর কোনো প্রেসার না রেখে।
আরও পড়ুনঃ চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি সেরা স্ট্র্যাটেজি
৬. পাওয়ার অফ নেমস এবং ‘ব্রেক দ্য আইস’ পদ্ধতি
পাওয়ার অফ নেমস
চতুর্থ হচ্ছে পাওয়ার অফ নেমস। ধরুন কেউ বললো “নাইস টু মিট ইউ”—এটা যতটা এফেক্ট করবে, “নাইস টু মিট ইউ অদিতি”—এটা তার থেকে অনেক বেশি এফেক্ট করবে।
কারণ একটা সায়েন্টিফিক রিসার্চে দেখা গেছে, আপনার নাম হচ্ছে সবচেয়ে মধুর আওয়াজ আপনার কাছে। আপনার নাম ধরে যখন কেউ ডাকেন, সেই নামটা কিন্তু আপনার ব্রেনের মধ্যে একটা পজিটিভ সিগন্যাল দেয়, একটা ভালো লাগার সিগন্যাল দেয়।
এটা সবচেয়ে মধুর আওয়াজ আপনার নিজের নাম। তাই জন্য সবসময় দেখবেন, অনেকদিন পর দেখা হলে কেউ আপনাকে নাম ধরে ভালো করে কথা বলছেন—এটা দেখলে আপনার কিন্তু অনেক বেশি ভালো লাগবে।
আর আপনিও চেষ্টা করবেন যখন কারো সাথে কথা বলবেন, তার নাম ধরে ডাকলে এটাতে অনেক বেশি পজিটিভ ইনফ্লুয়েন্স পড়ে এবং সামনের জন আপনার সাথে কথা বলতে ততটাই ইন্টারেস্টেড হন। কারণ সে তার নামটা আপনার মুখে শুনতে পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বিসিএস প্রস্তুতি: কম পড়ে পাশ করার ৫টি কৌশল – ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির গল্প
ব্রেক দ্য আইস (Break The Ice)
হচ্ছে ব্রেক দ্য আইস। দেখুন, অনেক সময় হয় কী—আপনি একটা পার্টিতে অনেক আননোন লোক বা স্বল্প চেনা লোকের সাথে মিট করেন, তাই না? যাদেরকে আপনি খুব ভালো করে চেনেন না, কিন্তু তাদের সাথে অনেক সময় হাই-হ্যালো কথাবার্তা বলতে হয়, নিজের কানেকশন বিল্ড করতে হয়।
তো সেই ক্ষেত্রে আপনাকে বরফ ভাঙতে হবে। বরফ ভাঙতে হবে—লিটারালি আইস। ব্রেক দ্য আইস মানে আপনি কনভারসেশনটাকে ধীরে ধীরে বাড়াবেন। এবার কিভাবে বাড়াবেন?
আপনি তাদের ইন্টারেস্ট কী সেটা আপনি জানেন না, কী ধরনের মানুষ তারা সেটাও আপনি জানেন না। তারা কী আদৌ নন-জাজমেন্টাল নাকি জাজমেন্টাল পিপল, আপনি কিছু বলছেন সেটাকে জাজ করবেন, আপনার কিছু অ্যাপিয়ারেন্স নিয়ে, আপনার কিছু কথা বলার স্টাইল নিয়ে—সেটা তারা জাজ করতে বসবেন, সেরকম নয়।
তো সিম্পললি তাদের বিহেভিয়ার কিরকম আপনি কিছুই জানেন না। সেই ক্ষেত্রে প্রথমে স্মল টক দিয়ে শুরু করাটা বেস্ট। তাহলে আপনি ধীরে ধীরে সামনের মানুষটাকে অল্প অল্প জানতেও পারবেন। আর আপনি বুঝতে পারবেন যে এই মানুষটার সাথে আপনি ফারদার বন্ডিং রাখতে চান কি না।
এবার এই স্মল টক নিয়ে অনেক সময় হয় কী, আমরা ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে যে ভুলটা করি—স্মল টকের জন্য আমরা যে কোশ্চেনগুলো করি, সেটাতে উত্তরগুলো হয় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ হয়ে যায়। তারপর আর কী কথা বলবো বুঝে পান না।
তাই তো? সেই রকম প্রশ্ন না করে আপনি ঘুরে অন্য ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন, যাতে তারা কিছু বলার, নিজের সম্পর্কের সুযোগ পায়, যার ফলে একটা মিনিংফুল কনভারসেশন হতে পারে।
মানে উইকেন্ডে আপনি বেরিয়েছিলেন কোথাও? সামনের জন বললো—হ্যাঁ, আমি বেরিয়েছিলাম। বাস, তারপর স্টপ। আপনি কী বলবেন আর ভেবে পাচ্ছেন না, কোশ্চেন পাচ্ছেন না। তার থেকে আপনি বলতে পারেন, “উইকেন্ডে কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলেন? কোনো স্পেশাল কিছু দেখলেন?”
এতে সামনের জনকে ওপেন-এন্ডেড উত্তর দিতে হবে। সে হয়তো বলবেন, “হ্যাঁ, আমরা বন্ধুদের সাথে কক্সবাজারে গিয়েছিলাম।” এখন আপনি এখান থেকে আরও প্রশ্ন করতে পারেন—“ওহ, কক্সবাজার! কেমন লাগল?
আবহাওয়া কেমন ছিল? সমুদ্রের ঢেউ দেখতে নিশ্চয়ই দারুণ ছিল?” এভাবেই কথোপকথন এগিয়ে যাবে। এই ওপেন-এন্ডেড প্রশ্নগুলো শুধু কনভারসেশন বাড়ায় না, বরং সামনের মানুষটাকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার একটা স্পেস দেয়। আপনি তাকে শোনার সুযোগ দিন, আর তাতেই সে আপনার সাথে একটা কানেকশন অনুভব করেন।
সবচেয়ে বড় কথা, যখনই কথা বলবেন, শুনুন। মানুষের সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হচ্ছে তাদের নিজের গল্প। তাই আপনি যত ভালো শুনবেন, তত বেশি মানুষ আপনার সাথে কথা বলতে আগ্রহী হবেন।
আরও পড়ুনঃ পড়ার ঘরের ১০টি অপরিহার্য জিনিস: ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেরা Study Space সাজানোর গাইড
সফল সামাজিক যোগাযোগের মূল ৬টি স্কিল (সংক্ষেপে)
- সোশ্যাল ডাইনামিক্স বোঝা: কে কখন বলবে, কে শুনবে, শিফটিং টা বুঝতে শিখুন।
- সঠিক ড্রেসিং সেন্স: ইভেন্ট অনুযায়ী প্রপার পোশাক আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
- পজিটিভ অ্যাটিটিউড: মাইন্ডসেট ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজে পজিটিভ ভাইব রাখুন।
- নন-জাজমেন্টাল থাকা: কারো চেহারা বা কথাকে নিয়ে দ্রুত বিচার করবেন না।
- পাওয়ার অফ নেমস: কারো নাম ধরে ডাকলে সে আলাদাভাবে কানেক্ট করেন।
- ব্রেক দ্য আইস: স্মল টক, ওপেন-এন্ডেড প্রশ্ন, মনোযোগ দিয়ে শোনা।
মনে রাখবেন:
আপনার যতটুকু মনে হয় সবাই আপনাকে দেখছেন—আসলে ততটা নয়। মানুষ নিজের নিয়েই বেশি ব্যস্ত। তাই নিজের স্পটলাইট প্রেশারটা সরিয়ে ফেলুন, মন খুলে মিশুন। নিজের নাম, নিজের হাসি, নিজের গল্প— এইগুলোই আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি।

