প্রিয় পাঠক, আমরা সবাই জীবনে উন্নতি করতে চাই। তাই আজ শেয়ার করবো জীবন বদলে দেওয়া ৭টি কোরিয়ান প্রবাদ (Korean Proverbs) আপনাকে সফলতার পথ দেখাবে। আমরা জানি জাতী হিসেবে কোরিয়ান মানুষজন কতটা উন্নত। তাদের জীবন যাত্রা আর সফলতার কথা বিশ্বময় আলোচিত।
জীবন বদলে দিতে পারে এমন ৭টি কোরিয়ান প্রবাদ জানতে পারবেন এই নিবন্ধে। আমি নিশ্চিত ঠিকমত অনুসরণ করলে ধৈর্য, ইতিবাচক চিন্তা, প্র্যাকটিস ও ওপেন মাইন্ডসেট নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন।
কোরিয়ান প্রবাদ (Korean Proverbs)
আপনারা যারা বিটিএস, ব্ল্যাকপিংক বা কে– ড্রামার ফ্যান, কোরিয়ান পপ মিউজিক লাভার অথবা কোরিয়ান মুভির ফ্যান— এমনকি কোরিয়ান স্কিন কেয়ারের অনুরাগীও থাকতে পারেন।
আজকে আমরা এই আর্টিকেলে সেগুলো কোনটাই নয়, উল্টে একটা নতুন জিনিস শিখবো— সাতখানা কোরিয়ান প্রবাদ (Korean Proverbs), যেটা যেকোনো মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাহলে চলুন, আর দেরি না করে এই সাতখানা প্রবাদ জেনে নিই।
প্রবাদ ১: Daddy’s notary Dave’s note falls only after ten hits

7 Life Changing Proven Korean Proverbs এর মধ্যে প্রথমটি হলো Daddy’s notary Dave’s note falls only after ten hits – এই কথাটার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, যত বড় গাছই হোক না কেন সেই গাছকে যদি বারংবার আঘাত করা হয়, সেই গাছ একদিন না একদিন পড়বেই। আপনার সামনে যত বড় প্রবলেমই থাক না কেন, আপনার গোলটা যত বড়ই হোক না কেন, আপনি যদি সেটার উপর লেগে থাকেন, বারবার সেটাকে অ্যাচিভ করার জন্য তার পিছনে খাটেন, তাহলে একদিন না একদিন কিন্তু সেই গোলটা আপনি অ্যাচিভ করতেই পারবেন।
ধৈর্য সবসময় তার ফল দেয়। আপনি ধৈর্য ধরে যত বড় প্রবলেমই হোক না কেন, যত বড় এক্সামই হোক না কেন, সেটার পিছনে যদি সবসময় খাটেন, তাহলে সেই এক্সামটা কিন্তু আপনি ক্র্যাক করতে পারবেন বা সেই গোলটা আপনি অ্যাচিভ করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ খারাপ অভ্যাস দূর করার সহজ ও কার্যকর কৌশল
প্রবাদ ২: At the End of Hardship Comes Happiness
চমৎকার এই কোরিয়ান প্রবাদ (Korean Proverbs) মধ্যে অন্যতম At the End of Hardship Comes Happiness – এই কথাটার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, যে কোনো খারাপ সময়ের পরে সুখের সময় আসে। অর্থাৎ এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি যে কোনো সময়ই লং লাস্টিং নয়।
আপনার হ্যাপিনেস যেমন দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হবে না, তেমনি আপনার দুঃখটাও কিন্তু দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হবে না। কখনো না, সেটা একদিন কিন্তু কাটবেই।

ধরুন, আপনি কোনো পরীক্ষায় সফল হলেন, যেমন নিট পরীক্ষায় সফল হলে আনন্দ হবে। কিন্তু যখন আপনি মেডিকেলে ভর্তি হলেন সেখানে গিয়ে দেখলেন আপনার হিউজ সিলেবাস। এই হ্যাপিনেসটা আপনার সাময়িক, সেটা নিয়ে বসে থাকলে নেক্সট গোলগুলোকে আপনি অ্যাচিভ করতে পারবেন না।
আবার ধরুন দুঃখ— আপনি কোনো পরীক্ষায় খারাপ ফল করলেন। সেই দুঃখটা নিয়েই যদি আপনি বসে থাকেন, তাহলে তো হবে না। আপনাকে সেই দুঃখটা কাটানোর জন্য আবার খাটতে হবে, আবার পরীক্ষায় সফল হতে হবে। এটাই জীবন।
তাই সুখ বা দুঃখ কোনটাই কিন্তু স্থায়ী নয়। আপনাকে পরপর নিজের গোল ফিক্স করতে হবে এবং সেই গোলটা অ্যাচিভ করার জন্য পরিশ্রম করে যেতে হবে। জীবনে চলার পথে ছোট ছোট সাকসেসগুলো এনজয় করুন এবং দুঃখকেও ভালোভাবে হ্যান্ডেল করতে শিখুন।
আরও পড়ুনঃ কথা বলার ৫টি কৌশল যাতে শ্রোতা মুগ্ধ হতে বাধ্য!
প্রবাদ ৩: Where there’s a will, there’s a way
এই কথাটার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, যেখানে একটা ইচ্ছে আছে সেখানে একটা পথও আছে। জীবনে অফস্ট্যাকল বা বাধা–বিপত্তি সবসময়ই থাকে। আপনার জার্নিতে মনে হতে পারে অনেক বাধা আছে, হয়তো আসলে কিন্তু তা নয়। আপনি যেখানে যেতে চাইবেন, সেখানে প্রত্যেকটা জায়গাতেই এই বাধা–বিপত্তিগুলো থাকবে।

এই অফস্ট্যাকলগুলো থাকলেও, যদি আপনার ইচ্ছে থাকে একটা নির্দিষ্ট গোল বা পথে পৌঁছানোর, সেই গোলটার অফস্ট্যাকল পার করে একটা পথ নিশ্চয়ই আছে। আর সেই পথটাকেই আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে।
সামনে বাধা আছে বলে যদি আপনি থেমে যান, তাহলে আপনি কিন্তু সামনের গোলটাকে অ্যাচিভ করতে পারবেন না। থামলে চলবে না। আপনাকে ডান দিকেও খুঁজতে হবে, বাঁ দিকেও খুঁজতে হবে, অথবা সেই অফস্ট্যাকলটাকে ব্রেক করে এগিয়ে যেতে হবে। আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য মনের দৃঢ় ইচ্ছা আপনাকে কিন্তু আপনার নির্ধারিত পথ খুঁজে দিতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুনঃ এআই জেনারেলিস্ট হওয়ার বিস্তারিত গাইড লাইন
প্রবাদ ৪: You will flourish with your words.
চার নম্বর কোরিয়ান প্রবাদ (Korean Proverbs) এর আরেকটি হলো – You will flourish with your words. জীবন পরিবর্তনীয় সেরা কোরিয়ান প্রবাদ (Korean Proverbs) এটা খুবই পাওয়ারফুল একটা প্রবাদ। এর আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, আপনি যে কথাটা বারবার বলবেন সেই কথাটা কিন্তু ফুলে যাবে। এর ইনার মিনিং হচ্ছে, আপনি যখন নিজের সাথে কথা বলবেন তখন আপনার কথাগুলো যেন নেতিবাচক না হয়। সবসময় পজেটিভ থিঙ্কিং করবেন, পজেটিভ কথা বলবেন।

ধরুন আপনি কোনো কিছু অ্যাচিভ করতে চাইছেন, সেই গোলটার সম্পর্কে আপনি নিজেকে বলবেন যে আপনি অ্যাচিভ করতে পারবেন, আপনাকে এই এই কাজ করতে হবে, তাহলেই আপনি একদিন সেই গোলটায় পৌঁছাতে পারবেন। আপনি নিজেকে যদি বারবার বলেন যে আপনি পারবেন, আপনি একচুয়ালি আপনার সাবকনশাস মাইন্ডকে ট্রেইন করছেন যে “হ্যাঁ, আপনি পারবেন।”
আপনি প্রথমেই যদি বলেন যে আপনি পারবেন না, তাহলে কিন্তু পারবেন না। তাই এই প্রবাদটার মানে হচ্ছে নিজের সাথে সবসময় পজেটিভ কথা বলুন। আপনার চিন্তাই আপনাকে আপনার সফলতার দিকে এগিয়ে দেবে।
আরও পড়ুনঃ চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি সেরা স্ট্র্যাটেজি
প্রবাদ ৫: Other people’s rice cakes always look bigger.

এই কথাটার আক্ষরিক মানে হচ্ছে, অন্যের জিনিস সবসময় বেশি ব্রাইট বা ভালো মনে হয়। কিন্তু ঘাস সবসময় যে অন্যের দিকে বেশি সবুজ সেটা কিন্তু নয়। আপনার হয়তো দেখে মনে হচ্ছে অমুকের লাইফটা খুব ভালো, অমুকের কোনো প্রবলেম নেই, একচুয়ালি কিন্তু সেটা নয়। তাদেরও জীবনে কোনো না কোনো অফস্ট্যাকল আছে।
আবার তাদের কাছেও হয়তো আপনার জীবনটাই এতটা সুখের যে তারা হয়তো আপনাকে নিয়েও ভাবছে। তাই কখনোই অন্যের জিনিস দেখে নিজের সাথে কম্পেয়ার করবেন না। আপনার কী লক্ষ্য, আপনার কী গোল—সেটাতে ফিক্স থাকুন।
অন্যকে দেখে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে বা বন্ধু–বান্ধব কোন স্যারের কাছে পড়ছে, আপনাকেও সেখানে যেতে হবে—এইভাবে কখনো ভাববেন না। আপনি কিসে ভালো হবেন, আপনার ফিউচারটা কী, সেটা আগে ভালো করে ভাবুন। আপনার জীবনের ইচ্ছা–অনিচ্ছাগুলোকে আগে প্রায়োরিটি দিন।
আরও পড়ুনঃ বিসিএস প্রস্তুতি: কম পড়ে পাশ করার ৫টি কৌশল – ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির গল্প
প্রবাদ ৬: Even a Dog at a Buddhist Temple Recites Scriptures After Three Years
এই কথাটার আক্ষরিক মানে হচ্ছে, বুদ্ধিস্ট টেম্পলে থাকা একটা কুকুরও ৩ বছর পরে বুদ্ধি স্ক্রিপচার বা মন্ত্রগুলো পাঠ করতে শিখে যায়, মন্ত্রগুলো মুখস্থ হয়ে যায়। এই কথার ইনার মিনিং হচ্ছে, আপনার গোলে কনসিস্টেন্ট থাকা আর সবসময় প্র্যাকটিস করা— সেটাই কিন্তু আপনাকে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

আপনি একবার পড়ে জেনে গেলেন বা শুনে জেনে গেলেন সেটা হবে না। আপনাকে বারবার প্র্যাকটিস করতে হবে। বুদ্ধিস্ট টেম্পলে থাকা কুকুরের তো মন্ত্র শেখার কথা নয়, কিন্তু সে বারবার শুনে শুনে প্রতিদিন মন্ত্রপাঠ শুনে সেটা বুঝে যাচ্ছে।
হয়তো আপনার ব্রেইন আছে, আপনি বুঝে গেলেন কিন্তু প্র্যাকটিস করলেন না—পরীক্ষার আগে গিয়ে আপনি কিন্তু ভুলে যাবেন। যে হয়তো প্রথম অবস্থায় এতটা ভালো করে বুঝতে পারেনি, কিন্তু বারবার প্র্যাকটিসের মাধ্যমে কনসিস্টেন্ট থাকার জন্য সে সেই বিষয়টাতে এতটাই দক্ষ হয়েছে যে পরীক্ষার সময় সে কিন্তু ভালোভাবে লিখে আসতে পারবে।
তাই প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস এবং প্র্যাকটিস—এটা সফলতার জন্য অন্যতম চাবিকাঠি। যে জিনিসটাকে পাবেন বলে আশা করেছেন, সেটাতে স্টিক থাকুন, সেটাকে প্র্যাকটিস করুন। আপনি একদিন না একদিন কিন্তু ভালো রেজাল্ট পাবেনই।
আরও দেখুনঃ পড়ার ঘরের ১০টি অপরিহার্য জিনিস: ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেরা Study Space সাজানোর গাইড
প্রবাদ ৭: Frog in the Well
এই কথাটার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, কুয়োর ব্যাঙ। কিন্তু আপনাকে কুয়োর ব্যাঙ হয়ে থাকলে চলবে না। অর্থাৎ আপনার যে গণ্ডি, সেখান থেকে আপনাকে বেরোতে হবে। বাইরে কী চলছে সেই নলেজগুলোকে গ্যাদার করতে হবে।

আপনি শুধু জানছেন ডাক্তার হওয়া যায় বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়। সায়েন্স নিয়ে পড়লে আপনি ওই দুটোর পিছনেই খাটছেন। কিন্তু বাকি যে আরো অনেক কিছু আছে, সেগুলো সম্পর্কে আপনি ওয়াকিবহাল নন।
কোনো কিছুকে জানার জন্য সেই বিষয়টাকে বাইরে থেকে দেখতে হয়। পৃথিবীটা যে গোল সেটা দেখার জন্য যেমন আপনাকে বাইরে বেরোতে হবে, সেরকমই যেকোনো কিছু জানার জন্য আপনাকে আপনার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।
আপনার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আপনার দৃষ্টিটাকে প্রসারিত করতে হবে। তবেই আপনি গিয়ে একটি ব্রডার অ্যাসপেক্টে অনেক কিছু নলেজ গ্যাদার করতে পারবেন এবং তার মধ্যে আপনি চুজ করতে পারবেন যে আপনি কী হতে চাইছেন, আপনার জীবনের কী লক্ষ্য। তাই কুয়োর ব্যাঙ হয়ে থেকো না, কুয়ো থেকে বেরো, নিজের মানসিকতাকে উন্মুক্ত করো, ওপেন মাইন্ডেড হও।
জীবন বদলে দিতে পারে এমন সাত কোরিয়ান প্রবাদ (Korean Proverbs) এর মধ্যে আমার সবথেকে ফেভারিট কিন্তু ৩ নাম্বার প্রবাদ। আপনাদের কোনটা সেটা নিচে কমেন্ট সেকশনে অবশ্যই আমাকে জানান।

