এআই এর এই যুগে পৃথিবীর কাজের ধরণ দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। গবেষণা বলছে- আইটি পেশাসহ অন্যন্য খাতে এআই স্কিলের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তাই নিকট ভবিষ্যতে ক্যারিয়ারে তারাই এগিয়ে থাকবে যারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করে নিজেকে মাল্টি-স্কিলড বানাতে পারবে। এই ধরণের ব্যক্তিদের একথায় তাদের এআই জেনারেলিস্ট (AI Generalist) বলা হয়।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় চাকরির বাজারে ব্যাপক পরিবর্তনে আমরা সবাই বুঝে গেছি আগামীর পৃথিবী আগের মত থাকবেনা। বর্তমানে যেসব চাকরি বা কাজ কর্ম নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে সেগুলো আর থাকবেনা। অটোমেটেড পদ্ধতির উন্নয়নে ক্রমেই অনেকগুলো পেশা হারিয়ে যাবে। আর সেই যায়গা নিবে নতুন নতুন দক্ষতা, নতুন ক্যারিয়ার পাথ।
আর এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI)। এআই এখন আর কয়েকটি টুলস্ বা অ্যাপ্লিকেশন এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রায় সকল সেক্টরে এই প্রযুক্তি ইতমধ্যে পদচারনা শুরু করেছে। এটি যেকোন ইন্ডাস্ট্রি সাজানো, ব্যবসার এ টু জে, শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন সামাজিক কাঠামোকেও নতুনভাবে সাজাচ্ছে। ভবিষ্যতে কি হবে সেটি সহজেই অনুমেয়। দ্রুততার সাথে নিজেকে আপডেট করতে না পারলে আমরা অনেক বেশি পিছিয়ে পড়বো।
নিশ্চয়ই আপনার মনে এই প্রশ্নগুলো তৈরি হয়েছে — এআই এর যুগে নিজেকের কীভাবে নিজেকে তৈরি করতে হবে? কোন কোন স্কিল শিখবে? এবং কিভাবে শিখতে হবে?
এই প্রশ্নগুলোর সহজ, গবেষণাধর্মী ও বিশ্লেষণমূলক উত্তর পেতেই আমাদের আজকের আয়োজন — এআই জেনারেলিস্ট (AI Generalist) গাইডলাইন।
এআই জেনারেলিস্ট (AI Generalist) কি
এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিনিলিজেন্স এর বিভিন্ন টুলস ও কৌশল সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা রাখেন এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন এমন ব্যক্তিকে এআই জেনারেলিস্ট (AI Generalist) বলা যায়।
এই ধরণের পেশাদারগণ কৌশলগত চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ, ক্রিয়েটিভ থিংকিং, সমস্যা বিশ্লেষণ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এআই প্রযুক্তি (টুলস), নো-কোডিং প্ল্যাটফর্ম এবং প্রি-ট্রেইনড মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের নানাবিধ সমস্যা সমাধান করেন।
কিছুদিন আগেও যেকোন একটি কাজ জানলেই জীবন পার করে দেওয়া যেত। কিন্তু এই সময়ে এসে তা সম্ভব নয়। কারন আর্টিফিশিয়াল প্রযুক্তি প্রায় সকল কাজকেই অটোমেটিক করে ফেলছে। তাই বিভিন্ন দক্ষতা একসাথে ব্যবহার করে কার্যসিদ্ধি করার দক্ষতা অর্জন করা সময়ের সেরা চাহিদায় রূপ নিয়েছে।
বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য পান্ডা এবং কাকের জীবন চিত্র সম্পর্কে একটু গভীরভাবে ভাবুন–
পাণ্ডা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যেন শুধু বাঁশ খেতে পারে। এখন পাণ্ডা বাঁশের জঙ্গলের ভিতরে আছে। এর কোনো প্যারাই নেই, খালি বাঁশ খাও। কিন্তু চিন্তা করুনতো, যদি হঠাৎ করে একদিন দুনিয়া থেকে বাঁশ গায়েব হয়ে যায়। তখন এই পাণ্ডাগুলোর কি হবে? এরা তো বাঁশ ছাড়া অন্য কিছু খেতে পারে না।

প্রথম ছবিটি ফ্লিকার আইডি - Adam Fagen থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টি Gemini AI ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
কিন্তু যদি কাকের কথা চিন্তা করি? কাক যেখানে সেখানে বাসা বানায়। গাছের মধ্যে থাকে, কারেন্টের লাইনের খুঁটির উপরে থাকে। বাড়ির বারান্দার চিপার ভিতরেও থাকতে পারে। আবার খাবার দাবার নিয়েও কাকের কোন সমস্যা নাই। কাক ময়লা থেকে খাবার খুঁজে বের করে, মানুষের ফেলে দেয়া খাবারগুলো খায়, পোকামাকড় যা পায়, তাই খায়।
তাদের কোনো স্পেসিফিক খাবার বা পরিবেশ দরকার নাই। এইজন্য পরিবেশ যতই বদলাক, কাকের আর টিকে থাকতে কোনো অসুবিধা হয় না। এছাড়াও ছোট বেলায় একটি গল্প আমরা সবাই পড়েছি যে- একটি তৃষ্ণার্ত কাক কিভাবে তার উপস্থিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে কলসির তলানিতে থাকা পানি পান করেছিল।

উপরের দুটো পরিস্থিতে বিবেচনা করলে আমরা কোনো কাজে স্পেশালিস্টদের সমস্যা পরিবেশ বদলালে সেটার সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিতে না পারা। এবং এবং উপলভ্য বিভিন্ন টুলস্ এবং ক্রিয়েটিভ থিংকিং পাওয়ার দিয়ে জেনারেলিস্টরা যেকোন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ধারণা লাভ করতে পারি।
বর্তমানে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, গ্রোক, ডিপসিক এর মত এআই আসার থেকে একটা এআই রিভল্যুশন শুরু হয়ে গেছে। দুই বছর আগের সিচুয়েশন আর এখনকার সিচুয়েশনের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। কথা হচ্ছে, আমরা এই পরিবর্তনের সাথে নিজেদেরকে কতটুকু খাপ খাইয়ে নিতে পারতেছি?
AI Generalist কারা?
সহজ কথায় এআই জেনারেলিস্ট মানে হলো এমন মানুষজন, যিনি এআই ইউজ করে একইসাথে বেশ কয়েকটা কাজে প্রফেশনাল হয়ে উঠতে পারবে। এআই জেনারেলিস্টরা কখনোই স্পেশালিস্টের মতো হান্ড্রেড পারসেন্ট প্রফেশনাল হতে পারবে না।
কিন্তু তারা বিভিন্ন সেক্টরে স্পেশালিস্টদের ক্ষমতার ৮০% পর্যন্ত গেইন করে ফেলতে পারবে। এখন চিন্তা করুন যে, একটা সেক্টরে ১০০% হলে, আর ওইদিকে ৫টা সেক্টরে ৮০% হলে, কোনটাতে বেশি লাভ?
তাই এমন একটা স্পেসিফিক প্রফেশনে দক্ষতা পেতে ১০ বছর নষ্ট না করে, আমাদের উচিত এআই ইউজ করে কয়েকদিনে নতুন নতুন স্কিলগুলো শিখে ফেলা। প্রযুক্তি পরিবর্তনের এই সময়ে, মাত্র একজন এআই জেনারেলিস্ট এর পক্ষে বিলিয়ন ডলার কোম্পানি তৈরি করা সম্ভব।
কেন AI Generalist হওয়া জরুরি?
কোনো একটি নির্দিষ্ট স্কিলে পারদর্শি হলে তাকে স্পেশালিস্ট বলে আর কোনো ইন্ডাষ্ট্রির বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান ও ব্যবহার কৌশল জানা থাকলে তাকে জেনেরালিস্ট বলা যায়। একজন স্পেশালিস্ট এর কোনো একটি স্কিলে বিশেষ জ্ঞান থাকে কিন্তু জেনেরালিস্ট এর জ্ঞান থাকে বিস্তৃত। সে কোনো একটি বিশেষ কাজে পাকা নয় বরং সকল কিছু সম্পর্কে ধারণা রাখে।
২০২৬ সাল বা পরবর্তী কারা সবথেকে টপ পজিশনে থাকবে? ডিজিটাল মার্কেটার, গ্রাফিক ডিজাইনার নাকি ওয়েব ডেভলপার? এগুলা একটাও না। এই সময় এসে দুনিয়া কাঁপাবে এআই জেনারেলিস্টরা, যারা একাই সবকিছু করতে পারবে। আর এই রিলেটেড বিভিন্ন রিসোর্স আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল ’বিদ্যাশিখি’-তে দিয়ে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
📌 উদাহরণ:
- বর্তমান সময়ে একজন শিক্ষক শুধু পড়াতে পারলেই হবেনা, তাকে এখন পাঠ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও এআই টুলস্ ব্যবহার জানতে হবে। এখন তাকে এআই-ভিত্তিক লার্নিং সিস্টেম, অ্যাডাপটিভ কনটেন্ট, এমনকি কোডিংয়ের বেসিকও বুঝতে হবে।
- আবার একজন বিক্রয় প্রতিনিধি এখন আর শুধু ট্রাডিশনাল পদ্ধতিতে মার্কেটিং করলে প্রোডাক্ট বা সেবার প্রসার ঘটাতে পারবেনা। একটি সফল ব্যবসা পরিচালনার জন্য তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং, তথ্য বিশ্লেষণ, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, কনটেন্ট অটোমেশন ও এআই টুলস্ ব্যবহারের মত কাজগুলো শিখতে হবে।
তাই মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি বেসিক্স জানার মাধ্যমে নিজের কাজের ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার জন্য AI Generalist (এআই জেনেরালিস্ট) হওয়াটা আবশ্যক।
আজকে আমি প্রথমেই বলবো- কেন এবং কিভাবে এআই জেনারেলিস্টরা ওয়ার্ল্ডকে কন্ট্রোল করবে। এরপর, জানাবো যে স্কিলগুলো শিখলে আপনি একজন এআই জেনারেলিস্ট হতে পারবেন।
একাডেমিক স্টেজ শেষে বেশিরভাগ মানুষের ক্যারিয়ার অপশন সাধারণত তিনটা। সে বিসিএস ক্যাডার হবে, অথবা কোনো কন্ট্রোলড জবে ঢুকবে, অথবা বিদেশে গিয়ে সেটেল হয়ে যাবে। কিন্তু এসবের বাইরেও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। নিজের প্রতি বিশ্বাস ও প্রচেষ্টা থাকলে আপনিও পারবেন ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে। এখানে আমি একটা কমপ্লিট গাইডলাইন দিব, ঠিক কি করা উচিত এবং কিভাবে করা প্রয়োজন!
আমার ফেসবুক প্রোফাইল Ansar Ahammad ফলো করে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। যথাসাধ্য উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার টপে কারা থাকবে?
এই পেশার ভবিষ্যৎ
গত ৮০ বছর ধরে স্পেসিফিক একটা সেগমেন্টে স্পেশালাইজেশন সবচেয়ে নিরাপদ ক্যারিয়ার অপশন ছিল। মানে কেউ যখন যেকোনো একটা সেক্টরের ডিপে যাবে, নিজেকে যেকোনো একটা সেক্টরের স্পেশালিস্ট হিসেবে তৈরি করবে তখন একটা নিরাপদ ক্যারিয়ার তৈরি হবে।
কিন্তু এআই এর কারনে ইকুয়েশনটা পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। এটি ধীরে ধীরে এই স্পেশালিস্টদের জায়গাগুলো নিয়ে নিচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরো বেটার কাজ করতেছে।
বর্তমানে এআই দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে একটা ওয়েবসাইট অথবা একটা অ্যাপ বানিয়ে ফেলা যায়। অনেক ডেভেলপারের চেয়েও ফাস্ট এবং ভালো কোড লিখতেছে। গ্রাফিক ডিজাইনারদের মতো ক্রিয়েটিভ ডিজাইন তৈরি করতেছে। কল সেন্টারগুলোতে মানুষের জায়গায় এআই বসানো হচ্ছে। এআই এর সাজেশন অনুযায়ী মার্কেটিং ক্যাম্পেইনগুলো চালানো হচ্ছে।
এআই এখন ডাক্তারদের মতো নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় করা শিখে যাচ্ছে এবং মানুষের পার্সোনাল হেলথ সিস্টেম এমনকি ক্যান্সার ডিটেকশন এবং নতুন নতুন মেডিসিন ইনভেনশনে এআইও ইউজ করা হচ্ছে।
আসলে প্রকৃত বিষয়টি হলো, যেই কাজ করতে মানুষের অনেক বেশি সময় লাগে, সেইম কাজটা এআই নির্ভুলভাবে অনেক ফাস্ট করতেছে। আর সবথেকে ডেঞ্জারাস ব্যাপারটা হলো, প্রায় ৬ মাস পর পর এআই-এর পাওয়ার ডাবল হয়ে যাচ্ছে। একটু কমনসেন্স দিয়ে চিন্তা করে দেখুন তো, এভাবে চলতে থাকলে ২-৩ বছর পর কী অবস্থা হবে?
কীভাবে AI Generalist হওয়া যায়?

পৃথিবীর অনেক দেশেই অনেক কম বয়সেই অনেকে মিলিয়ন ডলার কোম্পানি রান করতেছে। চাইলে আপনিও পারবেন একই পথে এগিয়ে যেতে। চলুন জেনে নেওয়া যাক- AI Generalist হওয়ার জন্য কি করবেন? কোন স্কিলগুলো আপনার থাকা লাগবে?
প্রত্যেকটি এআই টুলস্ এক একটা সুপারপাওয়ার। এগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে যেকারও গেম চেঞ্জ হয়ে যাবে। এআই জেনারেলিস্ট হতে হলে বিশেষ করে ৪টা সেক্টরে ফোকাস করতে হবে-
- ১. পাওয়ার টু বিল্ড
- ২. পাওয়ার টু অটোমেট
- ৩. পাওয়ার টু ক্রিয়েট
- ৪. পাওয়ার টু কানেক্ট
১. পাওয়ার টু বিল্ড (বেসিক ডিজিটাল লিটারেসি)

এই পথে পা বাড়ালে প্রথমে বেসিক ডিজিটাল লিটারেসি তৈরি করতে হবে। কম্পিউটার ও মোবাইল অপারেশন এর মৌলিক বিষয়গুলো ও মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশনগুলো এবং গুগল ওয়ার্কস্পেস শিখে নিতে হবে।
ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রিসার্চ করা এবং ক্লাউড স্টোরেজ নিয়ে ধারণা নিতে হবে আর বেসিক গ্রাফিক্স (Canva, Photoshop-এর প্রাথমিক টুল) জানা থাকতে হবে। এইসবে নলেজ না থাকলে এক পা-ও এগোনো যাবে না।
সফটওয়্যার বানানো, অ্যাপ বানানো, ওয়েবসাইট বানানো, এগুলো নরমাল মানুষজনের জন্য অনেক ঝামেলা ছিল এতদিন। কারণ আমাদের বেশিরভাগেরই কোডিং স্কিল নাই। জাভা, পাইথন, সি প্লাস প্লাস শিখে কোনো কিছু কোড করা দুসাধ্য ছিল। কিন্তু সময় এখন এআই এর!
যেকোন স্টার্টআপ বা বিজনেস শুরু করতে হলে ওয়েবসাইট বা অ্যাপ প্রয়োজন। ডেভেলাপারদের কাজ করানো অনেক প্যারাদায়ক এবং ব্যয়বহুল আর সময় সাপেক্ষ। কিন্তু বর্তমান সময়ে এআই ব্যবহার করে মুহুর্তের মধ্যেই একটি প্রফেশনাল মানের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলা যায়।
চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, গ্রোক বা ডিপসিক এর মত এআই মডেলগুলোকে জাস্ট আইডিয়া শেয়ার করলেই তারা কোডিংসহ সব করে দিবে। সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। এই সময়ে হয়তো এআই দিয়ে সব কিছু একদম প্রফেশনাল হবেনা তবে যেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই প্রো লেভেলের সব কাজ করা যাবে এসব টুলস্ দিয়ে। এখনই গুগল এর AI ম্যাজিক Google AI Studio এখন সবকিছুই করে দিচ্ছে তাই ভবিষ্যতে কি হবে সহজেই ধারণা করা যায়।
এখন শুধু পিজিক্যাল প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা করতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়। আপনি চাইলে ডিজিটাল প্রোডাক্ট যেমন- বিভিন্ন ধরণের গ্রাফিক্স ডিজাইন (পোস্টার, ব্যানার, লোগো, ফ্লাইয়ার, বিজনেস কার্ড), বিভিন্ন টপিকে ই-বুক তৈরি করে সেল করতে পারেন। আর এসব নিমিষেই তৈরি করা যায় Canva, Gemini Nano Bana AI সহ আরও কিছু টুলস ব্যবহার করে।
যেকোন ধরণের ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি করে ক্যানভা দিয়ে সোস্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন করে ফেসবুক, ইন্টাগ্রামে শেয়ার করে মার্কেটিং করে নিতে পারবেন।
অনলাইনে হাজার হাজার এআই টুলস্ আছে। সবগুলো শিখতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়। ক্যাপাসিটি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করে এবং নিয়মিত আপডেট করে এমন কয়েকটি টুলস্ প্রজেক্ট ভিত্তিক শিখে নিলেই যথেষ্ঠ।
কাজের ধরণের ভিত্তিতে আমি কয়েকটি এআই টুলস্ সাজেস্ট করলাম। সেগুলো বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে শিখে নিতে পারেন। তবে শুধু টিউটোরিয়াল দেখে শেখা যথেষ্ট নয়; এগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।
- কনটেন্ট, কোড, আইডিয়া জেনারেশন → ChatGPT, Claude, Gemini
- ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট → Canva, Leonardo, MidJourney
- ভিডিও এডিটিং ও এআই ভিডিও → Descript, Runway, Pictory
- প্রোডাক্টিভিটি ও ম্যানেজমেন্ট → Notion AI, ClickUp AI
- ডেটা বিশ্লেষণ → Excel AI / Google Sheets AI Add-ons
২. পাওয়ার টু অটোমেট
এখন তুমি একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেললে, এরপর তোমার কাজ কী হবে বল তো? রিপিটেটিভ কাজগুলো অটোমেট করা। এইজন্য তোমার থাকতে হবে পাওয়ার টু অটোমেট। এই অটোমেশনের মাধ্যমে তোমার অনেক টাইম বাঁচবে, সেই সাথে অন্য কারো হেল্প ছাড়াই তুমি কাজগুলো করে ফেলতে পারবে। এখন আমি কোন কাজগুলোর কথা বলতেছি? নরমাল একটা বিজনেস রান করতে কি করা লাগে বল তো? তোমাকে ইমেইল মার্কেটিং করতে হবে, ইমেইলের রিপ্লাই দিতে হবে, ক্লায়েন্টদের সাথে মিটিং সেটিং করতে হবে, কাস্টমারদের মেসেজের রিপ্লাই দিতে হবে। এই কাজগুলো করার জন্য কিন্তু অনেক টাইম আর আলাদা আলাদা মানুষ দরকার। কিন্তু এআই এজেন্টের মাধ্যমে এই প্রত্যেকটা কাজ তুমি অটোমেটিক করে ফেলতে পারবে।
তোমার গ্রোথ মাইন্ডসেট লাগবে বস। যেই কাজটা করতে অন্যরা লাগাবে ১ সপ্তাহ, তুমি সেই কাজ করবে ১ দিনে। আর এখনকার সময়ে এটা অবশ্যই পসিবল। বুঝতেছো তুমি? এআই এজেন্ট মানে হলো ডিজিটাল ওয়ার্কার্স। এই ওয়ার্কার্সগুলো মানুষের থেকে অনেক কম টাকা নেবে, কিন্তু মানুষের থেকে অনেক ফাস্ট কাজ করবে। আর সবথেকে বড় কথা হলো, এই এজেন্টগুলো তোমার জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে, সে কখনো টায়ার্ড হবে না। জিনিসগুলো ঠিকঠাকভাবে একবার সেটআপ করে দিতে পারলেই, তুমি ঘুমাবে আর এই এজেন্ট তোমার হয়ে তোমার বিজনেস অপারেশনগুলো রান করবে। সামনের সময়গুলোতে এআই এজেন্ট একটা সুপার পাওয়ারের মতো কাজ করবে। একটা তুমি থেকে অনেকগুলো তুমি তৈরি হবে।
এখন কিভাবে তুমি এই কাজ করবে? প্রথমে তোমাকে এআই এজেন্ট ডেভেলপ করতে হবে ওপেনএআই-এর জিপিটিগুলো ইউজ করে, অথবা রিলয়েন্স এআই-এর মতো টুলগুলো ইউজ করে। তুমি কোনো কোডিং স্কিল ছাড়াই এআই এজেন্ট ডেভেলপ করে ফেলতে পারবে বস। সেকেন্ড কাজ হলো, তোমাকে এআই ওয়ার্কফ্লো অটোমেট করা শিখতে হবে। ওয়ার্কফ্লো তুমি ক্রিয়েট করতে পারবে, জ্যাপিয়ার, পিবলি ডটকম, এনিথিং, এই টুলগুলো ইউজ করে। সামনে এইগুলো নিয়ে ডিটেইলস কথা বলব ইনশাআল্লাহ। আরেকটা জিনিস তো লাগবেই, সেটা হলো প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং। আমরা চ্যাটজিপিটিকে যে ইন্সট্রাকশনটা দেই, সেটাই কিন্তু প্রম্পট। এই প্রম্পট যত পারফেক্ট হবে, রেজাল্ট তত সেরা হবে।
৩ নাম্বারটা ছিল পাওয়ার টু ক্রিয়েট। তুমি একটা বিজনেস শুরু করতে চাচ্ছো, বা ধরো যে তুমি একজন ইউটিউবার বা একজন ইন্সটাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার। এখন তোমার কী দরকার বল তো? কন্টেন্ট। আমি ধরলাম তোমার ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন হেডফোন, কিবোর্ড, স্মার্টওয়াচ, এসবের একটা অনলাইন স্টোর আছে। এই প্রোডাক্টগুলো সুন্দরভাবে মানুষের কাছে শো করানোর জন্য তোমার দরকার কন্টেন্ট। তো তুমি কি করলে? একটা প্রোমোশনাল ভিডিও দিলে অথবা একটা এনগেজিং পোস্ট বানাইলে তোমার এই প্রোডাক্টগুলো নিয়ে। এই যে ভিডিও দেয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন করা, এই কাজগুলোর জন্য আগে তোমাকে একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক ডিজাইনার হায়ার করতে হতো।
কিন্তু এখন জাস্ট কয়েকটা প্রম্পট, আর একদম বস লেভেলের কন্টেন্ট হাজির তোমার সামনে। তোমার বিজনেসের জন্য লোগো দরকার? চ্যাটজিপিটি আছে, মিডজার্নি আছে, এইসব ইউজ করো। ভিডিও অ্যাড বানাতে চাচ্ছো? কেনভা ইউজ করো, ইনভিডিও এআই ইউজ করো। আবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন করার জন্য ক্যানভা,
ক্যানভা আর চ্যাটজিপিটিই যথেষ্ট। আবার আমি ধরলাম যে, ইউটিউবে তুমি একটা ফেসলেস চ্যানেল শুরু করতে চাচ্ছো। কোনো কিছু নিয়ে রিসার্চের জন্য প্রপ্লেক্সিটি এআই ইউজ করো। তোমার ভিডিওর স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য ইউজ করো চ্যাটজিপিটি। বেল! সেই স্ক্রিপ্ট দিয়ে নিজের ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগিয়ে এআই জেনারেটেড ভিডিও বানিয়ে ফেলতে পারবে তুমি। এই ক্ষেত্রে রানওয়ে এআই, স্টিপ এআই এই সব ইউজ করতে পারো বস।
আবার ধরো যে, তুমি নিজের ভয়েস ইউজ করতে চাচ্ছো না, তাহলে ইলেভেনল্যাবস ইউজ করে ভয়েস জেনারেট করে ফেলো। আর শেষের ভিডিও এডিট করার জন্য ক্যাপকাট বেস্ট। এখন তুমি ভিডিও আপলোড করবে, তোমার একটা সুপার থাম্বনেইল দরকার। এইজন্য ক্যানভা আছে, লিওনার্দো এআই আছে, যেটা ভালো লাগে ইউজ করো। জিনিসগুলো টাইম নিয়ে এক্সপ্লোর করো। তোমার ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু বানানোর ট্রাই করো।
এখন ৪ নাম্বারটা আর সবথেকে মারাত্মক পাওয়ারটা নিয়ে কথা বলি বস। পাওয়ার টু কানেক্ট। এখন এটাই ইম্পরট্যান্ট না যে তুমি কাকে চিনো, সবথেকে ইম্পরট্যান্ট হচ্ছে যে তোমাকে কে চিনে, কয়জন তোমাকে চিনে। ২০২৫ সালে এসে সবথেকে ইম্পরট্যান্ট কারেন্সি কি হয়ে গেছে জানো? মানুষের অ্যাটেনশন। তুমি মানুষের অ্যাটেনশন পেয়ে গেছো মানে খেলা শুরু হবে বস। ইউ ক্যান মেক মিলিয়নস উইথ জাস্ট অ্যাটেনশন। একটু আশপাশটা ভালো করে দেখো তো বস, সবাই ডিসটার্বড। খুব কম মানুষ আছে যারা সোসাইটিতে ভালো একটা ইম্প্যাক্ট ক্রিয়েট করার ট্রাই করতেছে।
এই সময় সবথেকে বড় একটা সুযোগ পার্সোনাল নেটওয়ার্ক বিল্ড করার, তোমার ইনফ্লুয়েন্স ক্রিয়েট করার। আর এই এআই দিয়ে এই কাজটা কিন্তু অনেক ইজি হয়ে গেছে বস। তুমি চাও যে মানুষ তোমাকে ট্রাস্ট করুক, রেসপেক্ট করুক, ফলো করুক, আর এইজন্য সবথেকে ইম্পরট্যান্ট হচ্ছে তোমার অনলাইন ভয়েস। তোমার ফেসবুক পোস্ট, ইন্সটাগ্রাম রিল, ইউটিউব ভিডিওই তোমার অনলাইন ভয়েস। এই ভয়েসের মাধ্যমেই কিন্তু মানুষ তোমাকে চিনবে, তোমাকে জানবে। এই পৃথিবীতে সবথেকে রিচেস্ট কারা বল তো? যারা সবথেকে ট্যালেন্টেড? না, রিচেস্ট হইলো তারাই, যারা সবথেকে বেশি মানুষের সাথে কানেক্টেড।
তোমার নিজের পার্সোনাল চিন্তাভাবনা, তোমার লাইফের এক্সপেরিয়েন্সগুলোকে মানুষের সাথে শেয়ার করো। চ্যাটজিপিটির হেল্প নাও, রিসার্চ করো। কোন সময়ে কোন জিনিসগুলো ট্রেন্ডিংয়ে থাকে, দেখো। এই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করার ট্রাই করো। এই কথাগুলো শুনলে, তুমি এমন কেউ হবে যে একটা ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে, যে মানুষকে নতুন আইডিয়ার সাথে কানেক্ট করবে, ক্লায়েন্টকে কানেক্ট করবে তার সলিউশনের সাথে, আর এই এআইকে সাথে নিয়ে তুমি নিজে কানেক্টেড হবে ফিউচারের সাথে। এসব নিয়ে আরও অনেক ভিডিও আসবে বস ইনশাআল্লাহ। জাস্ট আমার জন্য একটু দোয়া করিও।
আর সবথেকে ইম্পরট্যান্ট একটা ব্যাপার কি জানো? তোমাকে ভ্যালু প্রোভাইড করতে হবে। তোমাকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। তোমার অনেক মানুষকে দরকার বস। এভাবে ফোন হাতে নিয়ে শুয়ে থাকলে হবে না। ওয়েক আপ! আশপাশটা একটু ভালোভাবে দেখো তো। কত মানুষ খেতে পায় না দুইবেলা। কত মানুষের ঘুমানোর জায়গা নেই, খোলা আকাশের নিচে ঘুমায়। আল্লাহ তোমাকে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিছে, তোমাকে একটা থাকার জায়গা দিছে। বি গ্রেটফুল। আমরা আল্লাহকে কখন বেশি ডাকি? যখন আমাদের দরকার হয়, যখন আমরা বিপদে পড়ি। কিন্তু আল্লাহকে থ্যাঙ্কস বলা হয় না। এত কিছু আমাকে দিছে উপরওয়ালা! ভাই, আমি হাঁটতে পারি, অনেকের পা নাই। আমি চোখে দেখি, অনেকে জন্ম অন্ধ। খেতে পারতেছি আমি, অনেকে হসপিটালের বেডে শুয়ে স্যালাইন নিতেছে। অনেক পাইছো বস।
আল্লাহ তায়ালা অনেক দিছে তোমাকে। মন থেকে একবার আলহামদুলিল্লাহ বলো তো। আর যারা নামাজ পড়ো না, যেই টাইমে তুমি ভিডিওটা দেখতেছো আর যেই নামাজের ওয়াক্ত এখন চলতেছে, সবকিছু বাদ দিয়ে নামাজ পড়ে আসো বস। উই ফ্লাই হাই টুগেদার ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।


2 Comments
Pingback: ৭ কোরিয়ান প্রবাদ জীবন বদলে দিতে পারে - 7 Life Changing Proven Korean Proverbs - NiceTrix
Pingback: ব্রেইন পাওয়ার বাড়ানোর ১০ টি কাজ - 10 Task Boost Brain Power - NiceTrix