তোমরা যারা বুয়েট, মেডিকেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে চান্স পেতে চাও, এই BUET, Medical & DU Admission Preparation Strategy গাইডলাইন তাদের জন্য। তবে শুরুতেই একটা কথা বলে রাখা দরকার- এই আর্টিকেল মূলত অ্যাডমিশন প্রার্থীদের জন্য তৈরি।
বুয়েট, মেডিকেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে চান্স পেতে চান? এখানে পাবেন বিস্তারিত স্ট্র্যাটেজি, প্রশ্নব্যাংক টিপস, সাপ্তাহিক পরীক্ষা, এবং ট্রিপলেট প্রিপারেশনের রোডম্যাপ।
অফিসিয়াল ভর্তি নির্দেশিকাগুলো চেক করতে পারো:
১. BUET Admission Circular
২. DGHS Medical Admission Notice
৩. Dhaka University Admission Portal
শুরু করার আগে আমি একটু বলে রাখি, আমাদের এই আর্টিকেল বিশেষভাবে তৈরি করেছি যারা এবার অ্যাডমিশন দিবে তারা। কিন্তু অ্যাডমিশন ক্যান্ডিডেটদের মাঝখানে আমি কিছু মানুষকে এই আর্টিকেল না দেখার জন্য এনকারেজ করবো।
যারা হয়তো এসএসসি লাইফে একটু ফাঁকিবাজি করে আসছো, এইচএসসির রেজাল্ট খুব একটা ভালো হবে না। প্লাস তাদের যে যেকোনো একটা টার্গেট ছিল। হয়তো ইঞ্জিনিয়ার, হয়তো মেডিকেল, হয়তো ভার্সিটি। ওইগুলাতে তারা সফল হবে কিনা কিংবা অন্তত একটা সিট কনফার্ম করতে পারবে কিনা সেই কনফিডেন্স তাদের নেই। তাহলে এই আর্টিকেল তোমাদের দেখার দরকার নাই।
কারা এই Admission Preparation Strategy গাইড দেখবে?
এই আর্টিকেল তারাই পড়ার অনুরোধ যারা মোটামুটি এইচএসসিতে ভালো করে পড়াশোনা করেছে। তারপর অ্যাডমিশনে কোনটা কোথায় পরীক্ষা দেবে বা টার্গেট আগেই মোটামুটি ফিক্স করা আছে, এবং সফল হওয়ার কনফিডেন্সও মোটামুটি আছে। তাহলে বলা যায় যে তারা এই ভিডিওটা দেখতে পারো।
- যারা এইচএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেছে।
- যাদের মেইন টার্গেট (BUET/Medical/DU) মোটামুটি ফিক্সড।
- সফল হওয়ার কনফিডেন্স আছে।
👉 যারা টার্গেট নিয়ে কনফিউসড বা বেসিক দুর্বল, তাদের জন্য এই Admission Preparation Strategy নয়। তোমরা আগে ইউনিভার্সিটি ভর্তি সিজনে মনোবল ধরে রাখার কৌশল আয়ত্ব করো নাও;
প্রথম প্রশ্ন: তোমার টার্গেট কী?
তুমি ডাক্তার হতে চাও, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও, নাকি ভার্সিটিতে পিওর সাবজেক্ট পড়তে চাও- এই সিদ্ধান্ত আগে নিতে হবে। কারণ একসাথে তিনটাতেই চান্স পেতে চাইলে প্রথমে মেইন টার্গেট ঠিক করা জরুরি।

আচ্ছা, পাশাপাশি আমি শুরুতেই তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই। এবং এর মাধ্যমে আমি আমার অডিয়েন্সকে আরেকটু ফিল্টার করতে চাই।
সবার প্রথমে জানতে চাই, তোমার টার্গেটটা কী?
আমি জানি অনেকেই আছে, যাদের আসলে নির্দিষ্ট কোনো টার্গেট নাই। কেউ ডাক্তার হতে চায়, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, আবার কেউ ভার্সিটিতে পিওর সাবজেক্ট পড়তে চায়। কিন্তু আমি পার্সোনালি তোমাকে বলবো, আগে একটু বসো- চিন্তা করো আসলে তুমি কী চাও।
হয়তো তুমি তিনটাতেই চান্স পেতে চাইছো, এমনকি পেয়েও যাবে, কিন্তু পড়বে তো এক জায়গাতেই। কোনটাতে পড়বে সেটা আগে ঠিক করে রাখো। হয় তুমি ইঞ্জিনিয়ার হবে, না হয় ডাক্তার হবে, অথবা ফিউচারে ব্যাচেলর বা অন্য কিছু করবে।
এখন প্রবলেমটা হচ্ছে, তুমি কোনটা ডিসাইড করছো বা মেইন টার্গেট নিচ্ছো, তার উপরই ডিপেন্ড করছে তুমি ট্রিপলেট হতে পারবে কিনা বা তিনটাতেই চান্স পাবে কিনা।
আমি তিনটাতেই চান্স পেয়েছিলাম। তিনটাতেই চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার যে স্ট্র্যাটেজি ছিল, সবার আগে আমি চিন্তা করেছিলাম আমি আসলে কোন বিষয়ে ফোকাস করবো। অবভিয়াসলি আমি প্রথমে ঠিক করেছিলাম আমি বুয়েটে পড়ব, ইঞ্জিনিয়ার হবো।
তাই লিখে রাখি, Admission Preparation Strategy-তে তোমাদের প্রিপারেশনটা ৩ রকম হতে পারে- একটা অবশ্যই ইঞ্জিনিয়ারিং। আমার টার্গেট ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং। এরপর টার্গেট হতে পারে মেডিকেল, তারপর ভার্সিটি। এখন কেন আমি স্ল্যাশ দিয়ে লিখলাম সেটা আমি বলছি।
কোন প্রিপারেশন সবচেয়ে কঠিন?

বাংলাদেশের সিস্টেমে এই তিনটা পরীক্ষার মধ্যে কোনটা সবচেয়ে কঠিন? আমি যখন অ্যাডমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন চিন্তা করেছিলাম আমার জন্য কোনটা সবচেয়ে কঠিন। আমার কাছে পার্সোনালি মনে হয়েছিল, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন সবচেয়ে কঠিন।
কারণ এখানে ক্যালকুলেটর ইউজ করতে দেয়, আর একটু হার্ড ম্যাথ আসে। হার্ড ম্যাথ সল্ভ করার জন্য বেসিক খুব ভালো থাকতে হয়। তাই আমার কাছে মনে হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রিপারেশনটা সবচেয়ে কঠিন।
এরপর মেডিকেলের কথা ভাবি। মেডিকেলে মুখস্থ ধরনের পড়া বেশি থাকে। মুখস্থের জিনিসের পাশাপাশি ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রিতে খুব গভীর পড়া লাগে না, মোটামুটি সারফেস টাইপ প্রশ্ন আসে। কিন্তু বায়োলজি আর জিকে থাকার কারণে আলাদা ধরনের চাপ থাকে। উপরন্তু ক্যান্ডিডেটও অনেক বেশি, তাই প্রতিযোগিতাও বেশি।
তোমাদের জন্য আমি পূর্বেই মেডিকেল ভর্তি বায়োলজিতে ৩০ এ ৩০ পাওয়ার গোপণ কৌশল! জানিয়েছিলাম। না দেখলে এখনই চেক করো। অনেক কাজে আসবে।
আর ভার্সিটির ক্ষেত্রে আলাদা ধরনের হার্ডনেস থাকে। এখানে এইচএসসি বেসিক দিয়ে সলভ করতে হয়। কিন্তু ক্যালকুলেটর ইউজ করতে দেয় না, শর্ট ট্রিক লাগে, কম সময়ে বেশি প্রশ্ন সলভ করতে হয়। তাই ভার্সিটির ক্যান্ডিডেটদের চ্যালেঞ্জও আলাদা।
আর ভার্সিটিতে একরকম হার্ডনেস থাকে। তুমি যদি বিশেষভাবে ঢাবি পছন্দ করো তাহলে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ভর্তি প্রস্তুতি A to Z মাষ্টার প্লান নিয়ে এগুতে হবে।
তাহলে দুইটার মধ্যে হার্ডনেসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হার্ড হচ্ছে কে? আমার কাছে পার্সোনালি মনে হয় ইঞ্জিনিয়ারিং। ঠিক আছে, সো আমি যখন বসে চিন্তা করা শুরু করলাম, তখন যেটা চিন্তা করলাম তা হলো-
আমি যদি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন নেই, আমি যদি ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশনই নেই, তাহলে আমি হাড্ডি না যদি পড়ি, তাহলে আমার ইজি জিনিসগুলো আরও ইজিয়ার হয়ে যাবে।
এই কারণে বলা যায় যে, আমি মোটামুটি একটা ডিসাইড করে ফেলেছিলাম— দেখো, আমি হার্ড প্রিপারেশন যেহেতু নিচ্ছি, তাহলে বাকি জিনিসগুলোতে (মেডিকেল, ভার্সিটি) আমার খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। আমি জাস্ট একটু ফলো আপ করলেই হয়ে যাবে।
তাহলে আমি এখন বলব- তোমরা যারা ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশন নিচ্ছ, তারা ট্রিপলেট হওয়ার জন্য অনেকটুকু পথ এগিয়ে গেছো, ট্রিপলেট হতে পারবে। কিন্তু তুমি যদি মেডিকেলের প্রিপারেশন নাও, তাহলে মেডিকেল থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়াটা খুব একটা সম্ভব না। দরকারও নেই।
মেডিকেলের পিপাসা নিয়ে থাকো, মেডিকেলেই মেইন টার্গেট রাখো। মেডিকেল থেকে ইঞ্জিনিয়ার যাওয়া সম্ভব না-বলছি না যে একেবারেই অসম্ভব, এক্সসেপশন আছে, কিন্তু নরমালি মেডিকেলের প্রিপারেশন দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ফোকাস করা যায় না।
কারণ মেডিকেলের প্রশ্নগুলো আমাদের ম্যাপ থাকে না, ফিজিক্যাল স্ট্রেংথের লেভেলও আলাদা হয়। তাই মেডিকেলের মেইন প্রিপারেশন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশনে সুইচ করা সম্ভব না। ফলে দেখা যাচ্ছে, তোমার ট্রিপলেট হওয়ার স্বপ্ন এখানে শেষ। তাই ভিডিওটা এখানেই স্কিপ করতে পারো বা থামিয়ে দিতে পারো।
আর তুমি যদি ভার্সিটির মেন্টালিটি নিয়ে পড়াশোনা করো, আমরা নরমালি দেখতে পাই— বাংলাদেশি সিস্টেমে যারা একটু ফাঁকিবাজি করে এসেছে এইচএসসি লেভেলে, তাদের জন্য মেডিকেলে চান্স পাওয়া কঠিন, আর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চান্স পাওয়া আরও কঠিন।
তাই তুমি যদি ভার্সিটির সাধারণ প্রতিযোগিতার মধ্যে থেকে শুধু একটা সিট কনফার্ম করতে চাও, তাহলে আমার মনে হয় না এই Admission Preparation Strategy (ট্রিপলেট অ্যাডমিশন গাইড) তোমার দেখার দরকার আছে। তুমি এই গাইড তখনই দেখবে, যদি তুমি ভার্সিটিতে টপ করতে চাও, কনফিডেন্স থাকে যে তুমি টপ ১০০-এর মধ্যে থাকবে।
তাহলে বলা যায়— তুমি যদি ভার্সিটির পিপাসা নিয়ে পড়াশোনা করো, এবং টপ লেভেলে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে তুমি বাকি দুইটাতেও চান্স পেতে পারো। কিন্তু তুমি যদি মেডিকেলের পিপাসা নাও, তাহলে এই এডমিশন গাইড তোমার জন্য না। তুমি যদি ভার্সিটির পিপাসা নাও কিন্তু টপ লেভেল টার্গেট থাকে, তাহলে দেখতে পারো। আর তুমি যদি ইঞ্জিনিয়ার পিপাসা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছো, তাহলে অবশ্যই এটি ফলো করবে।
- ইঞ্জিনিয়ারিং (BUET): ক্যালকুলেটর ইউজ করা যায়, কিন্তু হার্ড ম্যাথ আসে। বেসিক খুব শক্ত হতে হয়।
- মেডিকেল: মুখস্থ বেশি, তবে ফিজিক্স-কেমিস্ট্রিতে গভীরতা কম। বায়োলজি ও জিকে আলাদা চ্যালেঞ্জ।
- ভার্সিটি (DU): শর্ট ট্রিক, ক্যালকুলেটর ছাড়া দ্রুত সমাধান, সময় ম্যানেজমেন্ট বড় ফ্যাক্টর।
👉 আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়, BUET-এর প্রিপারেশন সবচেয়ে কঠিন।
ট্রিপলেট হওয়ার স্ট্র্যাটেজি

আচ্ছা, এই পর্যন্ত এসে আমি কিছু পরিমাণ অডিয়েন্স ফিল্টার করে ফেলেছি। এরপর আমি তোমাকে আরেকটা প্রশ্ন করতে চাই- ভাই, ট্রিপলেট হয়ে কী করবে? তিনটাতেই যদি চান্স পাও, তারপর কী?
সিম্পল কথা, নিজেকে জিজ্ঞাসা করো- তুমি তিনটাতে চান্স পেয়েছো, কিন্তু পড়বে তো এক জায়গাতেই। তাহলে তিনটাতে চান্স পেয়ে কী লাভ?
তুমি যদি মনে করো, চান্স পাওয়ার পর তুমি একটা এডুকেশনাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, গ্রুপ খুলবে, অথবা চ্যানেল খুলবে যেখানে অন্যদের গাইডলাইন দিবে, তাহলে এই টার্গেট নিয়ে আসলে তুমি ওই জায়গায় যেতে পারো। তাহলে BUET, Medical & DU Admission Preparation Strategy তোমার জন্য।
কিন্তু যদি তোমার টার্গেট শুধু শো-অফ করা হয়- মানে অ্যাডমিশন ফেজে সবার কাছে দেখানো, “আমি তিনটাতেই চান্স পেয়েছি” তাহলে আমি বলব তুমি রিগরেট করবে। আমিও রিগরেট করেছি।
- BUET ফোকাস = Best for Triplet
→ কারণ হার্ড প্রিপারেশন নিলে বাকি দুটো (মেডিকেল + ভার্সিটি) কভার হয়ে যায়। - Medical Focus = Limited
→ মেডিকেল প্রিপারেশন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং কভার করা কঠিন। - Varsity Focus = Average
→ কেবল সাধারণ সিট কনফার্ম করা সম্ভব, তবে টপ লেভেল হলে ট্রিপলেট সম্ভব।
এছাড়াও নার্সিং নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তারা নার্সিং ভর্তি প্রস্তুতি ও বিস্তারিত গাইড লাইন দেখে সেই দিকেও ফোকাস করতে পারো।
⚠️ রিগরেট ফ্যাক্টর
সিম্পল কথা, আমি নিজেও রিগরেট করি। কেন করি জানো? কারণ আমার প্রিপারেশন যখন এনডিসিতে ছিল, আমার ফার্স্ট সেন্টআপে র্যাঙ্ক ছিল ১৪১। তার মানে একটা ভালো পজিশন ছিল। আমার আশা ছিল বুয়েটে অন্তত টপ ১০০ না হলেও ২০০-এর মধ্যে থাকব।
কিন্তু আমি যখন মেডিকেলে চান্স পেয়ে গেলাম। যেটা আসলে খুব আশা করিনি। তখনও মেডিকেলে আমার রোল দিয়ে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলাম। আর তখন অনলাইনে ক্লাস করানো শুরু করেছিলাম, কারণ তখন করোনা টাইম ছিল।
তখন বুয়েট পরীক্ষা হয়তো ১ মাস বা ২ মাস পরে হয়েছে। ওইটার কারণে দেখা যাচ্ছে আমি আর ফ্লো কন্টিনিউ করতে পারিনি। এমনও সময় গেছে যখন আমার মনে হয়েছে।
না ভাই, মেডিকেলে পড়ে ফেলব, আর বুয়েটের পরীক্ষা দেব না। মানে বুয়েটের যে প্রিপারেশনটা ছিল, ওখানে আমার ইচ্ছা করছিল না। এই কারণে দেখা যাচ্ছে, বুয়েটের প্রিপারেশনে আমি খুব একটা সিরিয়াস ছিলাম না।
সিরিয়াস না থাকার কারণে আমার র্যাঙ্ক কিন্তু খুবই খারাপ হয়েছে। খুব খারাপ বলতে অতটা খারাপ না, কিন্তু প্রবলেম হয়েছে এই যে, আমার টার্গেট ছিল CSE, কিন্তু CSE আমি পাইনি।
আমি এখন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে আমাদের মাদার সাবজেক্টগুলোর মধ্যে একটি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং খুব ভালো ডিপার্টমেন্ট, এটা সমস্যা নয়। কিন্তু আমার টার্গেট ছিল অনেক বেশি, আমার এক্সপেক্টেশনও ছিল অনেক বেশি। আমার র্যাঙ্ক আরও ভালো হতে পারতো।
যদি আমি মেডিকেলে চান্স না পেতাম, তাহলে বড় একটা ধাক্কা খেতাম। আর সেই ধাক্কার কারণে আমি ১ মাস, ২ মাস বা ৩ মাস। যত মাসই লাগুক না কেন- বাসায় বসে মাথায় গামছা বেঁধে পড়াশোনা করতাম। সত্যি কথা বলতে, একটা ধাক্কা খাওয়া দরকার ছিল। যেহেতু আমি ধাক্কা খাইনি, তাই এখন বুয়েটে পড়ছি, কিন্তু মেডিকেলে পড়ছি না।
তাহলে আমার আসলেই মেইন টার্গেট করা উচিত ছিল বুয়েট নিয়ে। ঠিক আছে, এই হচ্ছে কথা। তাই এখনো আমি আমার র্যাঙ্ক নিয়ে রিগরেট করি। তুমি যদি কেবল টার্গেট ফিলআপ করতে চাও, তাহলে ওই টার্গেটের দিকেই ফোকাস করো। তিনটাতে চান্স পাওয়ার চিন্তায় যদি শেষে আসল টার্গেটটাই হারিয়ে ফেলো বা ওইটাতে ভালো র্যাঙ্ক না আসে, তাহলে আলটিমেটলি ট্রিপলেট হওয়ার কোনো লাভ নেই।
তাই আমি বলব—যদি রিগরেট করতে না চাও, যদি মনে করো না ভাই, আমার কোনো প্ল্যাটফর্ম খোলার ইচ্ছা নেই, ভিডিও করার ইচ্ছা নেই, তাহলে আসলে ট্রিপলেট হওয়ার দরকারও নেই। এখানেই ভিডিওটা থামাতে পারো।
আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- ট্রিপলেটের স্বপ্নে বেশি ডাইভার্ট করলে মেইন টার্গেট (যেমন BUET CSE) মিস হয়ে যেতে পারে। তাই-
👉 যদি শুধু শো-অফের জন্য ট্রিপলেট চান, তাহলে রিগরেট আসবেই।
👉 যদি এডুকেশনাল প্ল্যাটফর্ম বা অন্যদের গাইড করার উদ্দেশ্য থাকে, তখনই ট্রিপলেট হওয়া অর্থপূর্ণ।
এই জন্য আমার পরামর্শ ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি ও সমস্যা সামলানো! শিখতে হবে। এছাড়া কোথাও চান্স পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
📝 সাপ্তাহিক পরীক্ষা (Weekly Exam)
- ৭০–৮০% মার্কস: ট্রিপলেট টার্গেট রাখো।
- ৬০% এর নিচে: ট্রিপলেট স্বপ্ন বাদ দাও, মেইন টার্গেটে ফোকাস করো।
এরপর লাস্টে হচ্ছে—তুমি ধরো ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশন নিচ্ছো, বা মেডিকেলের প্রিপারেশন নিচ্ছো, বা ভার্সিটির প্রিপারেশন নিচ্ছো—ঠিক আছে, উইকলি পরীক্ষা দিতে হবে। তুমি অনলাইনে বা অফলাইনে উইকলি পরীক্ষা দাও। উইকলি পরীক্ষায় তুমি কত পারসেন্ট মার্কস পাচ্ছ সেটা একটু দেখো।
ইঞ্জিনিয়ারিং + ভার্সিটি প্রিপারেশন
- ৯৫% কনটেন্ট কমন।
- বাকি ৫% এর জন্য → প্রশ্নব্যাংক + শর্ট ট্রিকস + ক্যালকুলেটর ছাড়া ক্যালকুলেশন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নব্যাংক খুব গুরুত্বপূর্ণ → রিপিটেড প্রশ্ন বেশি আসে।
উইকলিতে যদি ৭০–৮০% মার্কস পাও, তাহলে বলব ভিডিওটা কন্টিনিউ করো, তোমার ট্রিপলেট পিপাসা নেয়া ঠিক আছে। কিন্তু যদি তোমার মার্কস ৬০–৭০% বা তার নিচে হয়, তাহলে ট্রিপলেট হওয়ার স্বপ্ন দেখার কোনো দরকার নাই।
এই পর্যন্ত আমি মোটামুটি আমার অডিয়েন্স ফিল্টার করে ফেলেছি। এবার আমরা চলে যাবো প্রিপারেশনের দিকে। প্রিপারেশনে আমি মেইন টার্গেট রাখবো ইঞ্জিনিয়ারিং। আমি ধরে রাখবো আমি ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশন নিচ্ছি। ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশন থেকে পরে ভার্সিটির প্রিপারেশন নেবো, আর মেডিকেলের প্রিপারেশন নেবো।
যারা ইঞ্জিনিয়ার পিপাসা নিচ্ছো, তাদের প্রায় ৯৫% প্রস্তুতি দিয়েই ভার্সিটির প্রিপারেশন কভার হয়ে যাবে। বাকি ৫% এর জন্য ডেডিকেটেডলি ভার্সিটির প্রিপারেশন নিতে হবে। এই ৫% সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো প্রশ্নব্যাংক। কারণ ঢাকা ভার্সিটিতে প্রশ্ন রিপিট হয়—প্রশ্নব্যাংক ভালো করে পড়লে সেটা বোঝা যায়।
আমি যখন ঢাকা ভার্সিটি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম, তখন সবচেয়ে বড় রিগরেট করেছি এই যে আমি প্রশ্নব্যাংক ভালো করে পড়িনি। অথচ সেখান থেকে হুবহু টাইপের প্রশ্ন এসেছে। তাই আমাদের যা করতে হবে সেটা হলো—ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশন নিয়ে সফলতার পাশাপাশি, যখন কোনো একটা চ্যাপ্টার শেষ করব (ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথস যেটাই হোক), তখন আমরা প্রশ্নব্যাংক থেকে অনুশীলন করব।
ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নব্যাংক দেখব। ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নব্যাংক দেখার পরে আমরা কী করব? ভার্সিটির একটি প্রশ্নব্যাংক দেখব। ভার্সিটির যেকোনো প্রশ্নব্যাংক—হয় শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, না হয় অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রশ্নব্যাংক আছে সেটা দেখব। তুমি ইউটিউবে বা নেটে খুঁজলে ভিডিও পেয়ে যাবে, অথবা বাজার থেকে যেকোনো প্রকাশনার প্রশ্নব্যাংক কিনে নিতে পারো।
এরপর যখন তুমি এটা খুঁজে দেখবে, তুমি বুঝতে পারবে যে বেশিরভাগ জিনিসই পারো। শুধু এক্সট্রা করে যে জিনিসে কষ্ট করতে হবে, সেটা হলো উইদাউট ক্যালকুলেটর যেসব ক্যালকুলেশন আছে আর শর্টট্রিকস। এগুলোতে একটু পেইন খেতে হবে। শর্টকাট বা শর্টট্রিকসের জন্য তুমি ইউটিউবে কয়েকটা ভিডিও দেখে নিতে পারো। সেখানে হাজার হাজার না হলেও অনেক প্লেলিস্ট আছে, কয়েকটা ভিডিও দেখে নিলেই হবে।
উইদাউট ক্যালকুলেটরের পাশাপাশি এমসিকিউ প্রিপারেশনেও মনোযোগ দিতে হবে। কারণ ভার্সিটিতে বেশিরভাগ প্রশ্নই এমসিকিউ আসে। এমসিকিউ প্রিপারেশনের জন্য তুমি যেকোনো এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হতে পারো। সেখানে নিয়মিত পরীক্ষা দেবে। চাইলে বাসায় বসেও এমসিকিউ পরীক্ষা দিতে পারো। এতে তোমার বইয়ের পড়াশোনাও অটোমেটিক কভার হয়ে যাবে।
ডিসকাশনের মাঝখানে আমি আরেকটা কথা বলে রাখতে চাই। তোমরা যারা ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশন নিচ্ছ, চাইলে আমাদের হালখোর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাডমিশন কোর্স নিতে পারো—যেখানে ২৫টিরও বেশি ভার্সিটি ও ২১টি বায়োলজির ক্লাস রয়েছে। কমেন্ট বা ডেসক্রিপশনে লিংক দেওয়া আছে। অনেকে প্রশ্ন করে যে, শুধু কম্পিউটার পড়ানো হচ্ছে কিনা। না, এখানে বেসিক পড়ানো হচ্ছে, বেসিক প্রশ্নব্যাংক সলভ করানো হচ্ছে, তারপর অ্যাডভান্স থ্রি, অ্যাডভান্স প্রশ্নব্যাংক ম্যাথ সলভিং, ভার্সিটির বায়োলজি ক্লাস, আয়ুতি প্রশ্নব্যাংক সলভিং—সবকিছু দেওয়া হচ্ছে।
এরপর আমাদের “টু-ইন-ওয়ান মেগা বুক” আছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য। সেটাও পিডিএফ আকারে দেওয়া হয়। চাইলে এখানকার এক্সাম সেটে এমসিকিউ পরীক্ষাও দিতে পারো।
এরপর আসি সাজেশনের দিকে। আমার মনে হয় প্রতি সপ্তাহে একটা ভার্সিটির প্রশ্নব্যাংক সলভ করতে পারো। আরেকটা কাজ হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ১ মাস আগে থেকে প্রতিদিন রাতে সামান্য সময় নিয়ে এক্সাম দেওয়া, শর্টকাট দেখা আর উইদাউট ক্যালকুলেটর ক্যালকুলেশন অনুশীলন করা।
এগুলো করলে ভার্সিটির আলাদা করে চিন্তা করার প্রয়োজন পড়বে না। ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশন নিলে ভার্সিটির প্রিপারেশনও প্রায় কভার হয়ে যাবে। তোমরা যারা এখন পর্যন্ত অডিয়েন্স হিসেবে আছো, তারা নিশ্চয়ই ভার্সিটিতে টপ লেভেলেই থাকতে পারবে।
মেডিকেল প্রিপারেশন অ্যাডজাস্টমেন্ট
- কেমিস্ট্রি: BUET + Medical কমন।
- ফিজিক্স: BUET বেসিক জানলে মেডিকেল সহজ লাগে।
- বায়োলজি: উইকলি একদিন, দাগানো বই ব্যবহার করা।
- GK + English: মেডিকেলের ১ মাস আগে প্রতিদিন ১–২ ঘণ্টা।
👉 এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হয়ে মডেল টেস্ট দিলে রেজাল্ট ধীরে ধীরে উন্নত হয়।
এবার আসি মেডিকেল অ্যাডমিশনে। মেডিকেলে কিছু বিষয় ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে আলাদা। সবার আগে পার্থক্য হলো—মেডিকেলে বায়োলজি আছে, কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বায়োলজি নেই। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আছে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি। দুইটার মিল হলো কেমিস্ট্রি।
তুমি যখন ইঞ্জিনিয়ার প্রিপারেশন নিচ্ছ, তখন সবার আগে টার্গেট রাখতে হবে ইঞ্জিনিয়ারিং। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কেমিস্ট্রির প্রিপারেশন নিলে মেডিকেলের কেমিস্ট্রির প্রিপারেশনও হয়ে যায়। কারণ এসএসসি, ভার্সিটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল—সব জায়গাতেই কেমিস্ট্রি কমন। শুধু মেডিকেলে কিছু ক্রিটিক্যাল জিনিস বেশি আসে।
তাহলে বলা যায়—আমি যদি কেমিস্ট্রির প্রিপারেশন নেই, তাহলে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল দুইটার কেমিস্ট্রি প্রিপারেশনই হয়ে যায়।
ঠিক আছে, মেডিকেলের প্রস্তুতি হয়ে যাচ্ছে। এবার আসি ফিজিক্সে। ফিজিক্সের ক্ষেত্রে আমরা যেটা দেখতে পারি, আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং যারা প্রস্তুতি নেয়, তারা ভালো করে বেসিক পড়ে। যারা পড়ে, তাদের জন্য আসলে মেডিকেলের ফিজিক্স দেখলে একদম লেইম লাগবে। সত্যি কথা বলতে, একদম লেইম-লেম প্রশ্ন আসে। তবে মাঝে মাঝে আসে—কোনটা ফ্যাক্টর আসবে। এগুলো তো আমরা মোটামুটি পড়ে আসি। ইঞ্জিনিয়ারিং যারা পড়ে, তারা একদম বেশি ভালো করে পড়ে আসে। তাই আসলে বলা যায়, এগুলো মুখস্থ করার দরকারও হবে না। ফিজিক্স আমরা এমনিই ক্লিয়ার অফ করে ফেলতে পারব। তাহলে তুমি যদি ফিজিক্স সার্কেলে এসে নিজের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য ভালো করে পড়ো, আমাদের মেডিকেলের জন্য চিন্তা করার দরকারই নেই।
এখন চিন্তা করতে হবে কোনটা বায়োলজি। বায়োলজির জন্য আমি যা করতাম, সেটা হলো—আমি প্রত্যেক উইকে বায়োলজি একদিন করে পড়তাম। এই বায়োলজি একদিন করে পড়ার জন্য আমি যা করতাম, সেটা হচ্ছে আমি শুধুমাত্র দাগানো বইয়ের লাইনগুলো পড়তাম। দাগানো বইয়ের লাইনগুলো দাঁড় করিয়ে ফেলতাম। দেখা গেল, এইচএসসিতে হয়তো আমি কয়েকটা অধ্যায় বাদ দিয়েছিলাম। আমার যতটুকু মনে পড়ে, ৫ থেকে ৬টা অধ্যায় আমি বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম। যেগুলো আমার একটু কঠিন লাগত বা যেগুলোতে সমস্যা ছিল। যেমন—রিপ্রোডাকশনের অধ্যায়টা আমি পড়িনি।
কারণ যেহেতু আমি পড়িনি, এখন প্রথম থেকে পড়তে বিরক্ত লাগবে। আমি দাগানো বইটা নিতাম। টেলিগ্রাম বা ফেসবুক—যে কোনো জায়গায় দাগানো বইয়ের পিডিএফ পাওয়া যায়। ওইটা দেখে আমি বইটা দাঁড় করিয়ে ফেলতাম। একবার দাঁড় করানোর পর দেখা যেত, আমি জানি কোথা থেকে কী প্রশ্ন আসে, কোনটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তখন ওইটা একটু দেখে নিলেই হতো। উইকে একটা দিন টাইম দিতাম—একটা অধ্যায়ের অর্ধেক বা পুরোটা পড়ার জন্য।
এরপর আমি যা করেছিলাম, সেটা হলো একটা এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হয়েছিলাম। এক্সাম ব্যাচে ১০০০ টাকা মনে হয় ফি ছিল। অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়া যেত। যে কোনো এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হয়ে শুধু পরীক্ষা দিতাম। প্রথমে হয়তো ১০০ এর মধ্যে ৫০ পেলাম। অনেক কম। কিন্তু এই পরীক্ষা আবার দিলাম। পরের বার ৬০ পেলাম। আবার দিলাম, তখন ৭০ পেলাম। এভাবে দিতে দিতে দেখা গেল, আমি ধীরে ধীরে উন্নতি করছি।
এখন আমার কথা হচ্ছে, আমি বাকি সব কিছু না পারলেও সমস্যা নেই। কিন্তু এই অধ্যায়ের প্রশ্নগুলো আমি পারব। আর এই প্রশ্নগুলো ঘুরেফিরে আসেই। তাই দাগানো বই পড়ে ফেলবে এবং উইকে একদিন রাখবে যেখানে শুধু বায়োলজি পড়বে।
এরপর আসে জিকেই। জিকেই বলতে আমরা বুঝাই জেনারেল নলেজ। প্রথমে ইংলিশ। ইংলিশ আসলে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ইংলিশ পড়ার জন্য আমরা যে কোনো বই ব্যবহার করতে পারি। যেমন—এপেক্স। এপেক্স আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। এতে মেডিকেলের প্রশ্ন, বিসিএস প্রশ্ন, ডেন্টালের প্রশ্ন সব দেওয়া আছে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো—যে কোনো রুলসের নিচে সেই রুলস থেকে আসা প্রশ্নগুলো দেওয়া থাকে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, একই ধরনের অনেক প্রশ্ন একসাথে আছে। তুমি যখন একই ধরনের প্রশ্ন পারতে শুরু করবে, তখন কনফিডেন্স বেড়ে যাবে। প্রথমে হয়তো পারোনি, কিন্তু উত্তর দেখে পরে পারছো। তখন দেখবে, একই ধরনের বাকিগুলোও পারা শুরু হয়ে গেছে। তখন তোমার ভালো লাগা শুরু হবে।
আমি যেমন করেছিলাম—ইংলিশ আর জিকে আমি মেডিকেল অ্যাডমিশনের ১ মাস আগে থেকে পড়া শুরু করেছিলাম। প্রতিদিন রাতে ১ থেকে ২ ঘণ্টা রাখতাম, যেখানে আমি জেনারেল নলেজ ও ইংলিশ পড়তাম। তবে এখানে ডিপেন্ড করবে তুমি কতটুকু সময় দিতে পারছো। যদি উইকলি পরীক্ষায় নাম্বার কমতে শুরু করে, তবে জিকে কমিয়ে দেবে।
প্রথমে তুমি কী কী প্রশ্ন পড়বে—ধরা যাক প্রথম দিন এক পেজ পড়লে। পরের দিন কী করবে? দ্বিতীয় পেজ পড়তে গেলে প্রথম পেজটা আবার টেলিভিশন দিয়ে (মানে রিভিশন দিয়ে) নেবে। তৃতীয় দিন যখন তৃতীয় পেজ পড়তে যাবে, তখন প্রথম ও দ্বিতীয় পেজ আবার একটু রিভিশন করবে। তখন দেখা যাবে, প্রথম ও দ্বিতীয় পেজ ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে।
মানুষ সাধারণত প্রথম দিন প্রথম পেজ পড়ে, দ্বিতীয় দিন দ্বিতীয় পেজ পড়ে, তৃতীয় দিন তৃতীয় পেজ পড়ে। কিন্তু তৃতীয় দিনে গিয়ে প্রথম পেজের সব ভুলে যায়। তাই আমি বলব, তৃতীয় দিন পড়ার সময় প্রথম ও দ্বিতীয় পেজটাও একটু দেখে নেবে।
তাহলে জিকে আর ইংলিশ কীভাবে পড়বে? মাসে একবার নয়, বরং প্রতিদিন—কিংবা অন্তত ১ মাস আগে থেকে প্রতিদিন পড়া শুরু করবে। এটা পুরোপুরি তোমার উপর নির্ভর করবে, যাতে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত না ঘটে।
আরেকটা জিনিস হলো এক্সাম ব্যাচ। এক্সাম ব্যাচ বলতে আমি বুঝাই, যেমন আমি বললাম—১ মাস আগে আমি মূলত মেডিকেলের প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। তখন আমি একটা মডেল টেস্ট বই নিয়েছিলাম। ওই মডেল টেস্ট বই থেকে শুধু উরাধুরা (মানে বারবার) পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
ধরা যাক, আমি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা পরীক্ষা দিয়ে আসলাম। রাতে একটু বিশ্রাম নিলাম, তারপর মেডিকেলের জন্য পড়াশোনা না করে একটা মডেল টেস্ট দিলাম। তখন দেখলাম কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই ১০০ এর মধ্যে ৫০ পেয়েছি। এতে আমার কনফিডেন্স বেড়ে গেল। আমি ভাবলাম, যদি আরেকটু পড়ি তাহলে ৬০ পাবো। আর ৬০ পেলে তো যেকোনো একটা মেডিকেল হয়ে যাবে।
এরপর আমি খেয়াল করলাম, কোনগুলো ভুল করছি। ভুলগুলো লিস্ট করে রাখলাম যাতে পরবর্তীতে আবার না হয়। মডেল টেস্ট বইতে অনেক প্রশ্ন থাকে। আমি প্রায় ১২ টা পরীক্ষা দিয়েছিলাম। ওই পরীক্ষাগুলো থেকে অনেক প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসতে লাগল। তখন বুঝলাম, এই কমন প্রশ্নগুলো অবশ্যই পারতে হবে।
🏆 সারসংক্ষেপ
- মেইন টার্গেট ঠিক করো (BUET/Medical/DU)।
- BUET ফোকাস নিলে ট্রিপলেট সম্ভাবনা বেশি।
- মেডিকেল ফোকাস নিলে BUET কভার কঠিন।
- ভার্সিটি ফোকাস নিলে কেবল টপ স্টুডেন্টরাই ট্রিপলেট হতে পারে।
- নিয়মিত সাপ্তাহিক পরীক্ষা + প্রশ্নব্যাংক + শর্ট ট্রিকস–এই তিনটাই মূল গেমচেঞ্জার।
এভাবে যখন পড়া চলতে থাকল, তখন মূল পরীক্ষাতেও অনেক প্রশ্ন কমন আসতে শুরু করল। তাই আমি বলব, অযথা না পড়ে, নিয়মিত পরীক্ষা দিতে হবে। যেগুলো ভুল হচ্ছে, সেগুলো ভালো করে দেখে নিতে হবে। কারণ প্রশ্নপত্র যারা তৈরি করে তারা মোটামুটি গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্ন বেছে আনে। তাই তুমি যদি এগুলো সলভ করো, তাহলে কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে তার ধারণা পেয়ে যাবে।
অবশেষে বলা যায়, মেডিকেল টার্গেট করলে এখানে শীর্ষস্থান দখলের সম্ভাবনা কম। ট্রিপলেট হওয়ার সম্ভাবনাও কম। তবে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে টপ লেভেলের ছাত্র হও, তাহলে ট্রিপলেট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে শুধু বায়োলজি, জিকে আর কয়েকটা এক্সাম বাড়তি পড়তে হবে।


2 Comments
Pingback: চ্যাটজিপিটি স্টাডি মডেল দিয়ে ১০ গুণ বেশি পড়াশোনা - Learn 10x Faster and Effective using ChatGPT Study Model - NiceTrix
Pingback: ৭ ধরণের স্টুডেন্ট যারা কোনোদিনও পাবলিকে চান্স পায় না! - Why 7 Types of Student Never Get Chance in Public University! - NiceTrix