এআইয়ের যুগে স্মার্ট স্টাডি করা সম্ভব। চ্যাটজিপিটি স্টাডি মডেল ব্যবহার করে সেরা আউটপুট পাওয়ার গোপন কৌশল জানিয়ে দিব আজকের আয়োজনে। ChatGPT Study and Learn Model-কে এমনভাবে ট্রেইন করা হয়েছে যাতে চ্যাটজিপিটি স্টাডি মডেল দিয়ে ১০ গুণ বেশি পড়াশোনা করা যাবে।
এআইয়ের যুগে বাংলাদেশের বর্তমান কারিকুলামের পড়াশোনা যে কতটা ব্যাকডেটেড, এটা আমরা সবাই বুঝি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা করবটা কী? আমরা তো চাইলেই আর পড়াশোনা ছেড়ে দিতে পারব না।
তাহলে আমাদের হাতে আর কী অপশন আছে? আমাদের হাতে অপশন আছে এই ফালতু পড়াশোনায় সবচেয়ে কম সময় দিয়ে সবচেয়ে বেশি আউটপুট কীভাবে পাওয়া যায়, সেই উপায়গুলো খুঁজে বের করা। কিন্তু দিন দিন কী হচ্ছে দেখুন তো! একটা চ্যাপ্টার পড়তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনলাইন ক্লাস করতে হচ্ছে। এই সাইকেল, ওই সাইকেল, সাইকেলের উপর সাইকেল। সুতরাং আপনি যে এই পড়াশোনার বাইরে কিছু একটা করবেন, সেটার আপনি কোনো সময়ই পাবেন না।
চ্যাটজিপিটি স্টাডি মডেল

আজকে আমি আপনাকে বলব কীভাবে আপনি কোনো অনলাইন ভাইয়া, কোনো কোচিং সেন্টার, কোনো প্রাইভেট টিউটরের সাহায্য ছাড়াই শুধু চ্যাটজিপিটি লার্নিং মডেল ব্যবহার করে সব পড়াশোনা নিজেই করে ফেলতে পারবেন।
বস, আমাদের সবার একটা কমন প্রবলেম কী বলুন তো? আমাদের মনে হচ্ছে যে আমরা পড়ছি, কিন্তু আমাদের কোনো ইমপ্রুভমেন্ট হচ্ছে না। আমরা পড়ছি, কিন্তু মনে হচ্ছে যে সবই ভুলে যাচ্ছি। এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হলে আপনাকে চারটি স্টেপ ফলো করতে হবে।
স্মার্ট স্টাডি এবং দ্রুত শেখার ৪টি প্রমাণিত কৌশল
এবার চলু জেনে নিই চ্যাটজিপিটি স্ট্যাডি মডেল দিয়ে দ্রুত পড়াশোনা আয়ত্ব করার ৪টি কার্যকরী এবং প্রমাণিত কৌশল-
১. অ্যাক্টিভ রিকল (Active Recall)
প্রথম পয়েন্ট অ্যাক্টিভ রিকল, এটা কী? ধরুন যে আপনি নতুন একটা টপিক সম্পর্কে জানলেন বা নতুন একটা জিনিস সম্পর্কে আপনি পড়াশোনা করলেন। এরপর আপনার কাজ হবে বইটই বন্ধ করে ওই জিনিসটাকে রিকল করার চেষ্টা করা।
অর্থাৎ আপনি জাস্ট মনে করার চেষ্টা করছেন যে আপনি কী পড়লেন। অথবা খাতা খুলে না দেখে লিখার চেষ্টা করুন যে আপনি আসলে কী পড়লেন, আপনি কী বুঝলেন। এটা আপনার ব্রেইনের একটা এক্সারসাইজ। এইভাবে জিনিসটা রিকল করার চেষ্টা করলে সেটা আপনার ব্রেইনে একটা লং টার্ম ইফেক্ট ফেলবে।
২. ফেইম্যান টেকনিক (Feynman Technique)
দুই নাম্বার পয়েন্ট হলো ফেইম্যান টেকনিক, এটা আবার কী? এইটা মানে হচ্ছে আপনি যা শিখলেন, সেটা অন্য কাউকে শেখান। আপনি একটা নতুন টপিক শিখলেন, সেটা খুব সহজে আপনার একটা বন্ধুকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
সো এখানে ব্যাপারটা কী হচ্ছে দেখুন, আপনি যত সহজে একটা টপিক কাউকে বোঝাতে পারবেন, তার মানে ওই টপিকটা আপনি তত ডিপলি বুঝেছেন। আবার ধরুন বোঝাতে গিয়ে আপনি দু-একটা জায়গায় আটকে যাচ্ছেন।
তার মানে ওই জায়গাগুলোতে আপনার গ্যাপ আছে। সুতরাং আপনি টোটাল একটা ওভারভিউ নিজেই পেয়ে যাবেন যে আপনি আসলে কতটুকু বুঝেছেন। এ জন্য আজ থেকে যখনই কোনো কিছু পড়বেন, চেষ্টা করবেন সেটা অন্য কাউকে বোঝানোর।
৩. ৮০-২০ রুল (Pareto Principle)
তিন নাম্বার পয়েন্ট এটি হলো ৮০-২০ রুল। আপনি দেখবেন একটা চ্যাপ্টারের কিছু নির্দিষ্ট টপিক থেকে প্রতিবার বোর্ডে প্রশ্ন আসে। আপনার টার্গেট হবে সেই নির্দিষ্ট প্রশ্নগুলো সর্ট আউট করে ফেলা। এই ৮০-২০ রুলের মূলভাব হচ্ছে, আপনি ২০% প্রশ্ন সমাধান করবেন, সেই ২০% প্রশ্ন আপনাকে ৮০% মার্কস এনে দেবে।
ওকে, সো আমি জাস্ট আজাইরা একটা চ্যাপ্টার খুলে পড়তে আছি, পড়তে আছি, এভাবে হবে না, বস। আপনাকে কী করতে হবে? আপনাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো সর্ট আউট করতে হবে। যেই টপিকগুলো থেকে প্রতিবার বোর্ডে প্রশ্ন আসে, সেগুলো আপনাকে সর্ট আউট করতে হবে। আপনি সেগুলো পড়ে ফেলুন।
৪. পমোডোরো টেকনিক (Pomodoro Technique)
চার নাম্বার পয়েন্ট পমোডোরো টেকনিক। আমরা চিন্তা করি যে, আজকে পড়া শুরু করব একটার সময়। এখন থেকে শুরু করে বারো ঘণ্টা একটানা পড়ব। এভাবে কখনো পড়া হয় না, বস।
আপনাকে ফলো করতে হবে পমোডোরো টেকনিক। এটা কী? হতে পারে আপনি ২৫ মিনিট পড়লেন, ৫ মিনিটের একটা ব্রেক নিলেন। আবার ২৫ মিনিট পড়লেন, ৫ মিনিটের একটা ব্রেক নিলেন। এই যে আপনি পড়ছেন, তারপর ব্রেক নিচ্ছেন, এতে করে আপনার ব্রেইনটা একটু শান্তি পাবে।
ঠিক আছে? ব্রেইনটাকে কখনো অশান্তিতে রেখে পড়াশোনা হয় না। অথবা আপনার যদি মনে হয় যে না, আমি আরেকটু বেশি পড়তে পারব, তাহলে আপনি ৫০ মিনিট পড়ে ১০ মিনিট ব্রেক নিন।
আরও পড়ুনঃ এইচএসসি আইসিটির সাজেশন – ৮ মিনিটে পুরো প্রস্তুতি
চ্যাটজিপিটি স্টাডি অ্যান্ড লার্ন মোড (Study & Learn Mode)
ওপেনএআই তাদের নতুন এআই মডেল জিপিটি-৫ লঞ্চ করেছে। এখন আমরা মূল টপিকে ফিরে আসি, আজকে প্রথমেই আমরা যে জিনিসটা নিয়ে কথা বলব, সেটা হচ্ছে চ্যাটজিপিটির স্টাডি অ্যান্ড লার্ন মোড নিয়ে কথা বলব। ChatGPT Study Model জিনিসটা মারাত্মক একটা জিনিস।
প্রথমে আপনাকে আমি বলি যে, স্বাভাবিক চ্যাটজিপিটির রেসপন্স থেকে এই স্টাডি অ্যান্ড লার্ন মোডের পার্থক্যটা কোথায়। আপনি যখন স্বাভাবিকভাবে চ্যাটজিপিটিকে বলছেন যে, আমাকে এটা সমাধান করে দাও, সে জাস্ট আপনাকে ঐ সমাধানটা দিয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু স্টাডি অ্যান্ড লার্ন মোডে মারাত্মক একটা জিনিস তারা করেছে। কী করেছে? সে আপনাকে সরাসরি উত্তরটা বলবে না। সে উলটা আপনাকে প্রশ্ন করবে যে, ওই জিনিস সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন। সুতরাং প্রশ্ন করতে করতে করতে করতে আপনাকে সে উত্তরটা সুন্দর মতো বলে দেবে। সুতরাং মারাত্মক একটা জিনিস কিন্তু কোনো কিছু শেখার জন্য।
স্টাডি অ্যান্ড লার্ন মোডে যাওয়ার উপায়
স্টাডি অ্যান্ড লার্ন মোডে কীভাবে যাবেন, যারা এখনো জানেন না, তারা জেনে নিন। এই যে প্লাস সাইনের আইকনটা আছে, এখানে সুন্দরমতো ক্লিক করবেন। তারপরে একটু ‘More’ তে যাবেন। ‘More’ তে গিয়ে দেখবেন, এই যে নিচে দেওয়া আছে।
এটা দেওয়ার পরে দেখবেন, আপনার এখানে তিনটা জিনিস দেখাচ্ছে যে, ‘Help me with my homework’, ‘Explain a topic’, আপনি ‘Create a practice quiz’। এই তিনটা জিনিস এসে হচ্ছে এখানে, মানে আপনাকে সাহায্য করতে চাচ্ছে। খুবই সহজ একটা ব্যাপার। জাস্ট আপনি এটা চেষ্টা করে দেখুন কেমন লাগে।
হোমওয়ার্ক সলভিং (Help me with my homework)
ধরুন আমি একটা হোমওয়ার্ক সমাধান করতে চাচ্ছি। আমি একটা সমস্যা তাকে দিয়ে দেই। ধরুন এই যে আমি তাকে এই ফিজিক্সের সমস্যাটা দিলাম যে, “একটি পাথরকে উল্লম্বভাবে উপরে ২০ মিটার/সেকেন্ড বেগে নিক্ষেপ করলে সর্বোচ্চ উচ্চতা এবং মোট সময় নির্ণয় করো।”। এই জিনিসটা আমি তাকে দিতে চাচ্ছি।
সে কিন্তু আপনাকে সরাসরি একদম উত্তর পর্যন্ত নিয়ে যাবে না। দেখুন, কী করতেছে। সে এখানে বলে দিল যে কী কী আছে না আছে। তারপর বলছে, “তুমি কি মনে করতে পারো কোনো সূত্র ব্যবহার করে আমি এখানে এগুলো বের করতে পারি? একবার চেষ্টা করে বলতো দেখি।”। দেখছেন, বস? সে কিন্তু পুরোটা আমাকে বলে দেয়নি। সে আমাকেই উল্টা জিজ্ঞেস করতেছে। এইভাবে জিনিসটা আপনি কিন্তু একচুয়ালি শিখতে পারবেন।
টপিক বোঝা (Explain a Topic)
এবার হচ্ছে আমরা ‘Explain a Topic’ এটা এখানে জিজ্ঞেস করি। আমি শুধু দেখাচ্ছি আপনাদের কাছে জিনিসটা কেমন কাজ করে। আপনি তাকে বলতেছেন যে, “আমি সালোকসংশ্লেষণ সম্পর্কে জানতে চাই।”। এবার দেখুন, সে আপনাকে হচ্ছে কী বলতেছে। এই যে দেখুন, সালোকসংশ্লেষণ কী, বলে দিল।
তারপরে সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ বলে দিল। তারপরে হচ্ছে কয়টা ধাপ থাকে না থাকে, এগুলো আমাকে বলে দিল। তারপর বলছে, “তুমি কি চাইবে আমি এসব ধাপগুলো নিয়ে আরও গভীরভাবে যাই?”। মানে বলতে চাচ্ছে যে আপনি আরও ডিপলি জানতে চাচ্ছেন কি না।
আরও পড়ুনঃ BUET, Medical & DU Admission Preparation Strategy | ট্রিপলেট অ্যাডমিশন গাইড
কুইজ তৈরি করা (Create a Practice Quiz)
আরেকটা জিনিস ছিল যে ধরুন আপনি যখন একটা টপিক পড়ছেন, একটা কুইজ আপনি চাচ্ছেন যে একটু মানে নিজেকে যাচাই করতে যে একচুয়ালি কী শিখলেন না শিখলেন, সেটার জন্য। আমি জাস্ট তাকে বলতেছি যে হচ্ছে, “আমি ডিফারেন্সিয়েশনের কিছু প্রবলেম সলভ করতে চাচ্ছি।
তুমি আমাকে হচ্ছে এইচএসসি লেভেলের একটু ডিফারেন্সিয়েশন মারা দাও।”। এখন দেখুন, সে আপনার জন্য একটা সুন্দর মতো কুইজ বানায় দেবে। দেখছেন, এই যে এখানে বলে দিছে আপনাকে একটা সমস্যা দিছে। তারপরে বলতেছে যে আপনি এটা ডেরিভেটিভ বের করুন। এভাবে করবেন আর কী।
কার্যকর প্রম্পটের কাঠামো (Basic Prompt Structure)
আমাদের বেসিক প্রম্পটিং স্ট্রাকচার কী?
১. রোল (Role): ফার্স্টে হচ্ছে আমরা রোল বলে দেব যে চ্যাটজিপিটিকে আমি কোন রোলে দেখতে চাচ্ছি। যেমন ধরুন, আমি তাকে বলে দিলাম যে, “তুমি হচ্ছে আমার একজন পেশেন্ট টিউটর”। অথবা তাকে আপনি বলে দিতে পারেন যে, “ইউ আর অ্যান এইচএসসি এক্সামিনার” বা “ইউ আর আ ফান টিউটর”।
২. কন্টেক্সট (Context): অর্থাৎ আপনি যে সমস্যাটা তার কাছ থেকে সমাধান করতে চাচ্ছেন বা যে জিনিসটা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন, সেইটা সম্পর্কে একটু ডিটেইলস দিয়ে দিন।
৩. টাস্ক (Task): যেইটা চান, সেটা নির্দিষ্টভাবে বলতে হবে। যেমন ধরুন, কোনো কিছু এক্সপ্লেইন করতে বললে এই ওয়ার্ডটা ব্যবহার করবেন, ‘Explain’। সামারি চাইলে বলবেন, ‘Summarize’। একটা বড় জিনিসকে আপনি চাচ্ছেন সহজে নিতে, সেটাকে আপনি রিরাইট করতে চাচ্ছেন, ‘Rewrite’ লিখলেন।
৪. ফরম্যাট (Format): ফরম্যাট মানে কী, বস? এটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। আমরা আউটপুটটাকে কীভাবে দেখতে চাচ্ছি? আপনি তাকে বলে দিন যে হচ্ছে, “আমাকে একটা ছক দিয়ে দাও।”। অথবা আপনি চাচ্ছেন একটু ফানি ওয়েতে। আপনি চাচ্ছেন বাংলা-ইংলিশ মিশিয়ে বলুক। যা চান, বলে দিন।
বিশেষ স্টাডি প্রম্পট: চ্যাটজিপিটি দিয়ে পুরো চ্যাপ্টার মাস্টার করুন
এই সুপার প্রম্পটের চারটা ক্যাটাগরি আছে। আপনি একটা চ্যাপ্টার একদম শুরু থেকে, মানে আপনি কিছু জানেন না, একটা চ্যাপ্টার আপনি শুরু করতে চাচ্ছেন। সেটা আপনি কীভাবে পড়বেন? চ্যাটজিপিটির কাছে, আজকে আপনাকে সেটা দেখাই।
১. চ্যাপ্টার ওভারভিউ (Chapter Overview)
প্রথম কাজ হচ্ছে, আপনার মনে হয় একটা চ্যাপ্টার যখন আপনি শুরু করছেন, প্রথম কাজ হচ্ছে আপনার ওই ফুল চ্যাপ্টারের একটা ওভারভিউ নেওয়া। কী জিনিস আছে না আছে, কোনো ফর্মুলা আছে না আছে, এগুলো সম্পর্কে একটু হালকা পাতলা জেনে নেওয়া। আপনি ৫টা পয়েন্টে জিনিসটা করতে বলতে পারেন:
- What’s the chapter really about? (কী সম্পর্কে আছে)
- ৮০-২০ রুল: কোন টপিকগুলো বেশি ইম্পরট্যান্ট
- Learning goals: এগুলো শিখে আসলে কী হবে আপনার
- Must know time-saving formulas
- Common exam mistakes and how to avoid them
এই প্রম্পটটা দিয়ে আপনি ফুল চ্যাপ্টারের একটা ওভারভিউ চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে নিয়ে নেবেন।
এর জন্য প্রথমে আপনার যে চ্যাপ্টার আছে না বইয়ের যে চ্যাপ্টারটা। ওই চ্যাপ্টারটার প্রত্যেকটা পেজের ছবি তুলবেন। ছবি তুলে ওই চ্যাপ্টারটার একটা পিডিএফ বানাবেন। ওই পুরো পিডিএফটা আপনি জিটিটি-৪ এ আপলোড করে দেবেন।
২. টপিক ম্যাপ তৈরি (Topic Map)
এর পরে আসুন, আমরা চাচ্ছি একটা টপিক ম্যাপ তৈরি করতে। তার মানে এই চ্যাপ্টারটার আন্ডারে কোন কোন টপিকগুলো আছে। কারণ ওই টপিকগুলো নিয়ে তো আপনাকে গভীর রিসার্চ করতে হবে, গভীর পড়াশোনা করতে হবে।
আপনি চাচ্ছেন ওই টপিকটা সিরিয়াল অনুসারে দেখতে, কোনটার আন্ডারে কী আছে না আছে। সুতরাং আপনি তাকে বললেন, “আমাকে একটা টপিক ম্যাপ তৈরি করে দাও।”। এতে মাইন্ড ম্যাপ তৈরি করে দেবে একটা। আপনি বুঝতে পারবেন যে আসলে কী কী আছে।
৩. যেকোনো টপিক শেখার সুপার প্রম্পট
আপনি একটা টপিক জাস্ট নতুন শিখছেন বা নতুন জানতে চাচ্ছেন একটা কিছু সম্পর্কে। এই টপিকের জন্য আমি একটা সুপার প্রম্পট তৈরি করেছি। এই ছয়টা স্টেপ এনাফ:
১. সাধারণ ব্যাখ্যা দিবে যে, একচুয়ালি টপিকটা কী নিয়ে।
২. বাস্তব বাংলাদেশি উদাহরণ। এটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট কিন্তু।
৩. ভিজ্যুয়ালস, যদি কোনো ছক-টক কিছু দেখাতে পারে।
৪. এক্সাম ফোকাস, সে আপনাকে পাঁচটা এমসিকিউ দিবে, পাঁচটা ক্রিয়েটিভ কোয়েশ্চেনস দিবে।
৫. কমন মিস্টেকস, যেই ভুলগুলো স্টুডেন্টরা করে।
৬. Five-minute recap, এই পুরো জিনিসগুলো ৫ মিনিটে একটু হালকা পাতলা একটু দেখে নিলেন।
এই প্রম্পটে বলা আছে, “আমাকে এমনভাবে শেখাও, তুমি আমার বড় ভাই। টেক্সটবুকের বোরিং ওয়ার্ড দিয়ে আমাকে শেখাতে যাইও না।”।
৪. নিউমেরিক্যাল প্রবলেম সলভ করার প্রম্পট
আপনি যেকোনো একটা ম্যাথ বা ফিজিক্সের নিউমেরিক্যাল প্রবলেম সলভ করতে চাচ্ছেন। এই ক্ষেত্রে এই প্রম্পটটা আমার মনে হয় সবচেয়ে ভালো একটা ফলাফল দেবে। আপনাকে শিখতে হবে চিন্তা করাটা। যে একটা প্রবলেম দেখে আমি সলিউশন অ্যাপ্রোচটাকে কীভাবে ডিজাইন করব, এটা তো বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।
এই প্রম্পটে সলভ করার জন্য কয়েকটা স্টেপ নিছি:
- Given and Required: এই প্রবলেমে কী কী দেওয়া আছে, আর আমাকে কী কী বের করতে বলছে।
- Formula Selection: এই সমস্যাটা সমাধান করতে কোন ফর্মুলাটা লাগবে, সে এই ফর্মুলাটাই কেন নিল, অন্যটা কেন না। (আপনাকে চিন্তা করতে শেখাবে)।
- Step by Step Solution: একটার পর একটা স্টেপ, তারপর একটা স্টেপ কীভাবে আসতেছে।
- Unit and Final Check: আরেকবার রিচেক মারবে।
- Shortcut: যদি কোনো শর্টকাট থাকে, সেটাও আপনাকে দেখিয়ে দেবে।
- Common Mistake: ওই নির্দিষ্ট সমস্যাটাতে স্টুডেন্ট কোন কোন জায়গায় ভুল করতে পারে।
চ্যাটজিপিটির সৃজনশীল ব্যবহার: ফান এবং লার্নিং
চ্যাটজিপিটির প্রম্পটগুলো আরও কত ভ্যারাইটিসের হতে পারে, আজকে জাস্ট আপনাকে ছোট্ট একটা হিন্ট দেব।
ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের রোলে শিক্ষা (Role-Play)
ধরুন যে আপনাকে নিউটন এসে শেখাচ্ছে তার তিনটা গতিসূত্র। আপনি জানেন যে আপেক্ষিকতা আবিষ্কার করছে আইনস্টাইন। সো আপেক্ষিকতা যদি আপনি আইনস্টাইনের কাছ থেকে শিখতে পারেন, তাহলে কেমন হবে বলুন তো?
আপনি চ্যাটজিপিটিকে বলুন, “Pretend you are Sir Isaac Newton”। আইজ্যাক নিউটন হয়ে আপনি আমাকে গতির তিনটা সূত্র বুঝিয়ে দিন। সে আইজ্যাক নিউটন হয়ে ওর ভাষায় আপনাকে নিউটনের তিনটা সূত্র বুঝিয়ে দেবে।
দাদী-নানীর গল্পের স্টাইল (Bedtime Story)
সেই রকম যদি হতো আপনি আপনার পড়াশোনার কোনো একটা টপিক সেই দাদী-নানীর গল্পের মতো করে মনে রাখতে পারতেন।
প্রম্পট কী দেখুন: “Explain a topic (টপিকের নাম দিয়ে দিন), as if my grandmother is telling me a bedtime story।”। সে আপনাকে এখন একটা গল্পের মতো করে বলবে। এটা আপনার মধ্যে একটা ইম্প্যাক্ট ফেলবে।
সেলিব্রিটির স্টাইলে শিক্ষা (Celebrity Style)
এইটা একটা মারাত্মক ‘role-play’র মতো। আপনি তাকে বলে দিলেন যে, “তুমি একজন ফিজিক্স টিচার, যার কোনো ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে।”। কিন্তু এখানে ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার হচ্ছে দেখুন, আপনি কী বলছেন, “in the tone and style of Andrew Tate”। আপনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো করে শুনতে চাইছেন? যার মতো করে শুনতে চান, সেটা দিন। সেই ভাইবটা সে এখানে অনুসরণ করার চেষ্টা করবে।
তিনটি ভিন্ন স্তরে শিক্ষা (Beginner to Expert)
ধরুন একটা টপিক কমপ্লেক্স একটা টপিক, বা কমপ্লেক্স না হোক, যেকোনো একটা টপিক আপনি চাচ্ছেন কী, তিনটা ভিন্ন লেভেলে শিখতে।
- লেভেল ওয়ান: “For a ten-year-old” (একদম ছোট বাচ্চা, সহজ ভাষায়)।
- লেভেল টু: “For a curious learner” (একটু অ্যাডভান্স লেভেলের, ইন্টারমিডিয়েট)।
- লেভেল থ্রি: “For a deep thinker” (একদম গভীরভাবে, অ্যাডভান্স লেভেল)।
আপনি এই প্রম্পটটা দিয়ে কোয়ান্টাম সংখ্যা ও ইলেকট্রন বিন্যাস-এর মতো টপিক চেষ্টা করতে পারবেন।
মিম স্টাইলে দ্রুত শিক্ষা (Meme Style)
আমরা অনেকে মিম ফ্যান। যদি এরকম হতো যে আপনি মিমের মতো করে একটা জিনিস শিখতে পারতেছেন। আপনি তাকে বলে দিন, “তুমি আমাকে টপিকটা মিম স্টাইলে বলে দিবা।” “a school-friend lift”। এই তো, জারন-বিজারন-এর মতো কঠিন টপিক শিখে নিতে পারবেন।
৩০ দিনের স্টাডি প্ল্যান এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
একাডেমিক সাকসেস কোচের কাছ থেকে রুটিন
আমরা অনেকে চাই না যে হচ্ছে, ৩০ দিনে একটা কামব্যাক দেবো, ৯০ দিনে একটা কামব্যাক দেবো। বাট আমাদের ওই প্ল্যানটা আমরা ঠিকভাবে করতে পারি না। আপনি জিপিটির কাছ থেকে বানিয়ে নিবেন। আপনি বলুন: “As an elite academic success coach,” আমার একটা ৩০ দিনের মেন্টাল ট্রেনিং প্রোগ্রাম লাগবে। আমি হচ্ছে অ্যাভারেজ এসএসসি স্টুডেন্ট, আমি চাচ্ছি তোপার হইতে।
সে আপনাকে এই জিনিসগুলো ফলো করে আপনাকে একটা প্ল্যান দিয়ে দেবে। আপনি তাকে বলতে পারেন কিছু মর্নিং হ্যাবিটস ফলো করতে, কিছু স্টাডি হ্যাবিটস আমাকে প্রতিদিন বলুক, মোটিভেশন বুস্টার, হাবিজাবি, এরকম।
এক রাতে পরীক্ষার প্রস্তুতি
আপনি কিছু পড়েন নাই। কালকে আপনার ফিজিক্স এক্সাম। এখন আপনি তাকে বলছেন যে, “আমাকে তুমি একটা সুন্দরমতো একটা প্ল্যান দাও যে আমি একচুয়ালি এক রাতে কী করতে পারি।”। “তুমি আজাইরা কোনো কিছু আমাকে দিবা না। একচুয়ালি যে জিনিসগুলো পড়লে আল্লাহর ওয়াস্তে পাস করতে পারব, সেগুলো আমাকে তুমি দাও।”।
সে আপনাকে একটা রিভিশন প্ল্যান দিয়ে দেবে। সবচেয়ে ভালো, আপনি আপনার হচ্ছে যদি কোনো সিলেবাস থাকে, সিলেবাস-সিলেবাস যা আছে সব আপলোড করে দিন। তাহলে সেই অনুযায়ী আপনাকে হচ্ছে ইম্পরট্যান্ট টপিকগুলো খুঁজে বের করে দেবে।
আজকের ক্লাসের মূল উদ্দেশ্য ছিল আপনার এইটা দেখানো যে চ্যাটজিপিটিকে আপনি কত সৃষ্টিশীলভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনার উচিত হবে এই ফালতু কারিকুলামের পড়াশোনার পেছনে কম সময় দিয়ে বেশি সময় দক্ষতা উন্নয়নে কাজে লাগানো। কোন কোন দক্ষতা আপনি শিখবেন।
আর সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট কথা হচ্ছে, আপনি কী জন্য দুনিয়ায় আসছেন? যেই জন্য ওপরওয়ালা আপনাকে দুনিয়ায় পাঠাইছে, সেই কাজটা যেন আপনার রুটিন থেকে বাদ না হয়ে যায়। ৫ ওয়াক্ত নামাজ। এইটা কখনো বাদ দেওয়া যাবে না, বস। ফজরের নামাজে আমাদের অনেকেরই উঠতে সমস্যা হয়। সেই ফজরটাকে যদি ফিক্স করতে পারেন, আপনার জীবন ফিক্সড হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ। সবাই নামাজ পড়বেন ঠিকমতো। আল্লাহ হাফেজ।


2 Comments
Pingback: ৭ ধরণের স্টুডেন্ট যারা কোনোদিনও পাবলিকে চান্স পায় না! - Why 7 Types of Student Never Get Chance in Public University! - NiceTrix
Pingback: ইউনিভার্সিটি ভর্তি সিজনে মনোবল ধরে রাখার ৫ প্রমাণিত কৌশল! - 5 Key Strategies to Dominate Admission Season Morale - NiceTrix