যারা ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সর্বশেষ তথ্য জানতে চান তাদের জন্য আজকের আর্টিকেল। ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান করে সেখানকার বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে আপনাদের জন্য সাম্প্রতিক তথ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের পোস্ট।
আপনারা ইতমধ্যেই অবগত আছেন ক্রোয়েশিয়া শেনজেনভুক্ত হওয়ার পর থেকে সবার অন্যতম একটা আগ্রহের জায়গা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা নতুন করে বাংলাদেশ থেকে আসতে চান অথবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বা মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন, তাদের জন্য ক্রোয়েশিয়া এখন খুবই আগ্রহের একটি জায়গা এবং অনেকেই এই দেশটিতে Croatia Work Permit Visa নিয়ে আসতে চাচ্ছেন।
যদি আপনি কি প্রবাসে ক্যারিয়ার গড়তে চান এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়ার নিয়ম ও সুযোগ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে নাইস ট্রিক্স ডট কম এর বিদেশ যাত্রা বিভাগের পোস্টগুলো দেখতে পারেন।
ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসার বর্তমান অবস্থা

প্রথম যে আপডেটটি আপনাদের জানা দরকার এবং সবাই জানতে চান, সেটি হচ্ছে ক্রোয়েশিয়ায় ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার অনুপাত বা রেশিও কেমন। এই বিষয়টি আবেদনকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ থেকে ভিসা পাওয়ার হার কেমন?
আপনারা যারা বাংলাদেশ থেকে ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে ক্রোয়েশিয়ায় আসতে চান, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি একটু কঠিন হচ্ছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- ভিসা রেশিও কম: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভিসা পাওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম।
- দিল্লিতে দীর্ঘ অবস্থান: বাংলাদেশে ক্রোয়েশিয়ার দূতাবাস না থাকায় আবেদনকারীদের ভারতের দিল্লিতে গিয়ে ভিসা আবেদন করতে হয়। সেখানে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত থাকতে হতে পারে, যা একটি ব্যয়বহুল বিষয়।
- বাধ্যতামূলক ইন্টারভিউ: আগে এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া গেলেও এখন আবেদনকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে দিল্লিতে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে।
গত আয়োজনে আমি বাংলাদেশ থেকে ক্রোয়েশিয়া ভিসা নিয়ে ইউরোপ প্রবেশের পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন শেয়ার করেছিলাম। অনেকে ইনবক্সে ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সর্বশেষ তথ্য জানতে চেয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে Croatia Work Permit Visa সুবিধা

তবে একটি বিষয় বেশ ইতিবাচক। যারা বাংলাদেশ থেকে সরাসরি না এসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে আসতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য বড় একটি সুযোগ রয়েছে।
- উচ্চ ভিসা রেশিও: বিশেষ করে দুবাই, কাতার বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো থেকে আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার হার বেশ ভালো, প্রায় ৮০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।
- সহজ প্রক্রিয়া: ঐসব দেশ থেকে প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় যারা ইউরোপে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ হতে পারে।
ক্রোয়েশিয়া যেতে কত টাকা খরচ হয়?
আপনারা অনেকে চিন্তা করেন যে, শেনজেনভুক্ত নতুন দেশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ায় যাওয়ার খরচ হয়তো কিছুটা কম হতে পারে। কিন্তু ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় খরচের বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন।
যারা জার্মানিতে সেটেল হতে চান জার্মানি অপরচুনিটি কার্ড ভিসা হতে পারে আপনার জন্য দারুন সুযোগ। কাজে লাগাতে পারেন।
দালাল সিন্ডিকেট এবং অতিরিক্ত খরচ
এখনো পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল এজেন্সি ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে কাজ করে না। এই সুযোগে ব্যক্তিগত দালালদের একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যার ফলে ক্রোয়েশিয়ায় কর্মী হিসেবে আসার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অনেকটা ইতালির মতোই একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে দালালদের কারণে খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রকৃত খরচ আসলে কত?
তবে, আপনি যদি কোনো পরিচিত মাধ্যম, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে আসেন, তাহলে সত্যিকার অর্থে আপনার ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। শুনতে কাল্পনিক মনে হলেও এটাই বাস্তবতা।
কিন্তু দালাল সিন্ডিকেটের কারণে ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিতে অনেক বেশি পরিমাণে আপনাকে খরচ করতে হতে পারে। তাই এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। যেকোন ডিল শুরু করার আগে ইউরোপে নাগরিকত্ব যে ৬টি দেশে দ্রুত ও সহজে লাভ করা যায় সে সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিবেন।
ক্রোয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ ও বেতন কেমন?
আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজের সুযোগ এবং সম্ভাব্য আয়। এই মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ায় কাজের পরিস্থিতি ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ ভালো।
- চাকরির সংকট কম: ইউরোপের অনেক দেশে চাকরির সংকট থাকলেও ক্রোয়েশিয়ায় এই মুহূর্তে সংকট ততটা তীব্র নয়।
- গ্রীষ্মকালীন সুযোগ: বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বা সামারে কাজের সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। তাই এই সময়ে যারা ক্রোয়েশিয়ায় আসতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত হবে।
- সম্ভাব্য আয়: এখানে এসে আপনি সহজেই একটি কাজ জোগাড় করে নিতে পারবেন এবং বাংলাদেশী টাকায় মাসে গড়ে ১ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব।
আবেদনের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সবকিছু মিলিয়ে ২০২৪ সালে ক্রোয়েশিয়াতে আসা আপনার জন্য একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে একটি বিষয়ে আপনাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, আর সেটি হলো দালাল সিন্ডিকেট।
এই দেশটিতে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার বাংলাদেশী বসবাস করেন। তাদের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে আসার কাজকে পুঁজি করে মানুষকে প্রতারিত করার চেষ্টা করে।
এই দালাল চক্রের কারণে ক্রোয়েশিয়ার শ্রমবাজারও ইতালির মতো একটি বড় সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাচ্ছে। তাই আসার সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্যই বিশ্বস্ত মাধ্যম ব্যবহার করে এবং যথেষ্ট সতর্কতার সাথে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
আপনি কি জানেন? বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার ইবি-৩ ভিসা নিয়ে দেশে বসে গ্রিন কার্ড নিয়ে যাওয়া যায়। সুযোগটি কাজে লাগানো উচিত।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ Section)
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশ থেকে ক্রোয়েশিয়া কিভাবে যাওয়া যায়?
উত্তর: যেহেতু বাংলাদেশে ক্রোয়েশিয়ার দূতাবাস নেই, তাই প্রথমে ক্রোয়েশিয়া থেকে একটি ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হয়। এরপর সেই পারমিট দিয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত ক্রোয়েশিয়ান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সেখান থেকেই সম্পন্ন করতে হয়।
প্রশ্ন ২: বাংলাদেশে কি ক্রোয়েশিয়ার দূতাবাস আছে?
উত্তর: না, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্রোয়েশিয়ার কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট অফিস নেই। সকল ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ক্রোয়েশিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
প্রশ্ন ৩: ক্রোয়েশিয়ার সর্বনিম্ন বেতন কত?
উত্তর: আর্টিকেলের তথ্য অনুযায়ী, ক্রোয়েশিয়ায় একজন বাংলাদেশী কর্মী সহজেই মাসে ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন। তবে এই আয় কাজের ধরণ, অভিজ্ঞতা এবং কাজের সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রশ্ন ৪: ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট কারা সহজে পেতে পারেন?
উত্তর: বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদনের তুলনায় যারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো (যেমন: দুবাই, কাতার, সৌদি আরব) থেকে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন, তাদের জন্য ক্রোয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। তাদের ভিসা সফলতার হার প্রায় ৮০%।

