আমি দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আজকে আলোচনা করব। প্রথমত, চাকরি নাকি উচ্চশিক্ষা—কোনটি আগে করবেন? আর দ্বিতীয়ত, আপনার অলরেডি একটা চাকরি থাকা সত্ত্বেও মাস্টার্স বা উচ্চশিক্ষার জন্য সেই চাকরি থেকে ব্রেক নেওয়া উচিত কিনা।
এই দুটো প্রশ্নই আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে পেয়েছি। আমি সব সময় তাদের পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
তবে এখানে বলে রাখা ভালো যে আমরা প্রত্যেকেই কিন্তু ভিন্ন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছি। প্রত্যেকেরই পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই এই প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত কোনো উত্তর হতে পারে না।
উত্তরটি যার যার পরিস্থিতি অনুসারে আপেক্ষিক। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা, অন্যদের পরামর্শ দেওয়া ও তাদের জীবনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে আমার মতামত জানাচ্ছি।
দিন শেষে, অবশ্যই আপনার নিজের সিদ্ধান্ত আপনাকে নিজেকে নিতে হবে। আপনি যদি সময় ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে করতে না পারেন তাহলে কার্যকরী সময় ব্যবস্থাপনার জন্য ৪টি টাইম ম্যানেজমেন্ট প্রিন্সিপাল জেনে নিন।
চাকরি বনাম উচ্চশিক্ষা: শুরুতে কোনটি করবেন?
প্রথম প্রশ্ন: চাকরি নাকি উচ্চশিক্ষা, কোনটা আগে করবেন? এক্ষেত্রে আমার সহজ উত্তর হচ্ছে— অবশ্যই আগে চাকরি বা জব করবেন।
কেন আমি এই কথা বলছি?
প্রথমত, আপনি যেকোনো চাকরির জন্য আবেদন করুন না কেন, যত ভালো চাকরির জন্য আবেদন করবেন, তত বেশি ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স বা জব এক্সপেরিয়েন্স দেখাতে হবে।
তাই আপনি হয়তো আপনার স্বপ্নের চাকরি পাননি। হয়তো আপনি যে স্তরের চাকরি চেয়েছেন, সেটা নয়। তবে সেটার জন্য আরও ছয় মাস বা এক বছর অপেক্ষা করার চেয়ে আপনি যদি পারেন, সেই চাকরিটা নিয়ে নিন।
কারণ এই ছয় মাস বা এক বছর কিন্তু আপনার সেই জব এক্সপেরিয়েন্স হিসেবে গণ্য হচ্ছে। জব এক্সপেরিয়েন্স কাউন্ট হওয়ার মাধ্যমে আপনি পরবর্তীতে যখন চাকরির জন্য আবেদন করছেন, তখন যাদের একেবারেই কোনো জব এক্সপেরিয়েন্স নেই, সেই ধরনের ফ্রেশারদের থেকে আপনি অগ্রাধিকার পাবেন।
দ্বিতীয়ত, আপনি যখন চাকরি করবেন, তখন এমন কিছু জিনিস শিখবেন, যা আপনাকে চাকরির জন্য প্রস্তুত করবে বা আপনার ‘জব রেডিনেস’ বাড়াবে।
এটা আপনার সক্ষমতা বাড়াবে এবং আপনাকে অফিসের পরিবেশে কাজ করা শেখাবে। সেই ক্ষেত্রেও আপনার জব এক্সপেরিয়েন্স খুব বেশি দরকার ও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছি, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে— ফাইনেনশিয়াল সিকিউরিটি।
অবশ্যই, যেকোনো চাকরির সাথে ইউ উইল গেট এ স্যালারি। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যখনই ওই ফাইনেনশিয়াল একটা সিকিউরিটি বা একটা স্বাধীনতা আসবে, ইট উইল একচুয়ালি ইনক্রিজ ইওর কনফিডেন্স, ইট উইল বুস্ট ইওর কনফিডেন্স।
ইট উইল অলসো গিভ ইউ মোর ক্ষমতায়ন (Empowerment), পরিপক্বতা (Maturity)। আর সেজন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ— শুধু আপনার চাকরির ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে আপনার জীবনের বৃদ্ধির জন্য।
আমি মনে করি, জব আসলে বেশি দেয়— উচ্চশিক্ষা থেকেও। অবশ্যই উচ্চশিক্ষাও কিছুটা দেয়, কিন্তু তার থেকে আসলে আপনি যখন জব করবেন, সেই ক্ষেত্রে আপনি ক্ষমতায়ন, পরিপক্বতা, ফাইনেনশিয়াল সিকিউরিটি— এ জিনিসগুলো অনেক বেশি পাবেন।
দেখুন, যখন আমরা ভাবছি— জব নাকি আপনার মাস্টার্সের অফার, কোনটা করবেন?
খুব সহজে আপনি কিন্তু এটা চিন্তা করতে পারেন যে বাংলাদেশে কতজন মানুষ মাস্টার্স শেষ করে চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করছে এবং চাকরির জন্য বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। আর কতজন মানুষ আসলে একটিভলি জবটা করছে?
বাংলাদেশের চাকরি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে যাচ্ছে। সেটা আমার থেকে আপনারা আরও অনেক বেশি ভালো জানেন।
সুতরাং, যদি আপনি এমন কোনো চাকরি জোগাড় করতে পারেন, যেটা আপনি অলরেডি মাস্টার্স করার আগে, জাস্ট ব্যাচেলর শেষ করেই পেয়ে গিয়েছেন, আমি মনে করি আপনার সেই চাকরিটা নেওয়া উচিত।
আমি আবারও বলছি, এটা হয়তো আপনার স্বপ্নের চাকরি হবে না, এটা হয়তো আপনি যে স্তরের প্রত্যাশা করছেন, সেই স্তরের চাকরি হবে না। তারপরও, সেটা আপনাকে কিন্তু ভবিষ্যতে আমি মনে করি আরও অনেক বেশি সুরক্ষা দেবে।
আপনার সামগ্রিক ক্যারিয়ারের অগ্রগতির জন্য এটা জাস্ট উচ্চশিক্ষার দিকে যাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি ভালো।

মাস্টার্স করার জন্য কি চাকরি ছাড়বেন?
নেক্সট যে প্রশ্নটা, সেটা হলো— আপনার অলরেডি একটা চাকরি আছে। আপনি কি সেই চাকরিটা ছেড়ে মাস্টার্স করবেন এবং ব্রেক নিবেন?
এক্ষেত্রেও আমার উত্তরটা হচ্ছে— না। যদি সম্ভব হয়, আপনার চাকরির পাশাপাশি ইভেনিং বা উইকেন্ডের যেই মাস্টার্সগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করুন। কিন্তু চাকরি থেকে ব্রেক নেওয়ার কারণ নেই।
এইটা আমি খুব সহজভাবে আপনাকে একটা চিন্তা করতে বলব। সেটা হচ্ছে যে, চাকরি এবং মাস্টার্স—এ দুটোতে যদি আপনি বেড়িয়ার অফ এন্ট্রি চিন্তা করেন, সেটা হবে আপনার লিটমাস টেস্ট।
আপনার যদি মনে হয় যে না, আপনি যেই চাকরিটা করছেন, সেই জবে যে কেউ যেকোনো সময় বা আপনি বিশেষ করে আপনি খুব সহজে এন্ট্রি নিতে পারবেন। কিন্তু যে মাস্টার্সের অফারটা পেয়েছেন, সেখানে আপনি সবসময় এত সহজে এন্ট্রি পাবেন না।
বা মাস্টার্সের জন্য আপনার ব্যারিয়ারটা আরও অনেক উঁচু। সেক্ষেত্রে গো ফর মাস্টার্স।
তবে আপনার যদি মনে হয় যে না, আমি যে চাকরিটাতে আছি, সেই চাকরির এন্ট্রি লেভেলটা বেশি কঠিন—যে মাস্টার্সটা আমি আজকে করার সুযোগ পেয়েছি বা করতে চাচ্ছি, সেটার এন্ট্রি লেভেলের তুলনায়—তাহলে ডেফিনেটলি আপনি চাকরিতে থাকুন।
চাকরিতে থাকতে থাকতে ইভেনিং কোনো প্রোগ্রাম বা উইকেন্ড কোনো প্রোগ্রামে গিয়ে আপনি সেই উচ্চশিক্ষাটা করার চেষ্টা করুন। ক্যারিয়ার ও স্ট্যাডি এক সাথে চালিয়ে নিতে ব্রেন শক্তি প্রয়োজন তাই ১০ টি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।
কিন্তু অবশ্যই কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। আপনি যদি চিন্তা করেন যে বাইরে কোনো একটি সুযোগ এসেছে, আপনি বিদেশে কোনো একটি স্কলারশিপ পেয়েছেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ইউ নিড টু টেক ব্রেক ফ্রম ইওর ক্যারিয়ার।
দেশের বাইরে চলে আসাটা উচিত বলে আমি মনে করি। তবে একটা জিনিস আমি একটু সবাইকে বলতে চাই—প্লিজ, ডোন্ট থিঙ্ক যে, হ্যাঁ, আমি এই মাস্টার্সটা করে ফেললাম, আমার চাকরির অভাব হবে না।
পিতামাতা বা আপনার ধরুন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব অনেক কথা বলবে। বলবে, আরে, একটা মাস্টার্স পড়ো অমুক ইনস্টিটিউশনের থেকে, এরপর কোনো চাকরির অভাব হবে না।
আমি আমার নিজস্ব জীবনেও আমি টপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। এবং আমি আমার আশেপাশে অন্যান্য অনেক বন্ধু-বান্ধবকে দেখেছি, যারা বিভিন্ন টপ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে, টপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছে।
ইটস নট লাইক দ্যাট। আপনি জাস্ট অমুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অমুক একটা ডিগ্রি করে ফেললে পরের দিনই আপনার চাকরির কোনো অভাব হবে না।
সো, খুব যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করুন, খুব বাস্তবসম্মতভাবে চিন্তা করুন। কোনো একেবারে হাওয়ায় গা ভাসানোর যে, এটা করে ফেললে আমার জীবন সেট হয়ে যাবে—এই বাস্তবতাটা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।

উপসংহার ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আর সবশেষে আমি যে কথাটা বলব, সেটা হলো— আপনি নিজের ক্যারিয়ার প্লান সেটার সাথে আরেকটু মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করুন যে আলটিমেটলি আজ থেকে পাঁচ বছর পরে, দশ বছর পরে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চাচ্ছেন।
এবং সেটার সাথে আজকে আপনার চাকরি করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি একটা উচ্চশিক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য সেটার সাথে মিলিয়ে আপনি আগান।
আপনি যদি ওইটা যদি আপনার হয় চূড়ান্ত গন্তব্য, সেটা থেকে পিছন দিকে আসার চেষ্টা করুন যে—আমি পাঁচ বছর পরে নিজেকে এই অবস্থানে দেখতে চাই।
সো, এই অবস্থানটা অর্জন করার জন্য আমার তাৎক্ষণিক পরবর্তী পদক্ষেপ এটা হবে, তার পরের পদক্ষেপ এটা হবে। এভাবে করে আপনি যখন ফিউচার থেকে ব্যাক টু দ্যা ফিউচার করবেন, মানে পিছনে আসতে থাকবেন, তখন আপনি ব্যাক টু প্রেজেন্টে চলে আসবেন।
জিনিসটা এভাবে না যে আপনি বর্তমান থেকে ভবিষ্যতে ডট মেলাবেন। একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করুন যে আপনি ভবিষ্যতে কি হতে চান, সেইখানে আগে মনোযোগ দিন।
সেইখান থেকে আস্তে আস্তে ডট মিলানোর চেষ্টা করুন পিছন দিকে। সেটা ডটটা একেবারে আপনার বর্তমানে নিয়ে আসুন।
এবং তখন আপনি দেখবেন যে, “ওকে ফাইন, আমি এইটা একটা ক্যারিয়ার পথ হতে পারে, এটা আরেকটা পথ হতে পারে, এটা আরেকটা ক্যারিয়ার পথ হতে পারে।” ডোন্ট থিঙ্ক যে জাস্ট একটা ক্যারিয়ার পথ হবে।
সো, কমপক্ষে তিনটা উদাহরণ বা তিনটা ক্যারিয়ার পথ নিয়ে আসুন—যে এটা হতে পারে, এটা হতে পারে, এটা হতে পারে। এবং সেই সবগুলো মিলিয়ে যখন আপনি বর্তমানে আসবেন, তখন ইউ উইল গেট এ লজিক্যাল ফার্স্ট স্টেপ যে আজকে কি করা উচিত।
সেটা যদি আপনার কাছে এখনও মনে হয় যে আপনার উচ্চশিক্ষায় যাওয়া উচিত, গো ফর ইট। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছিল—অবশ্যই চাকরির কারণে এবং ক্যারিয়ারের কারণটা সবার আগে যে একটা জব আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আমি আসলে জব নিয়েছি। যেখানে তার সাথে সাথে আমি মাস্টার্স করার চেষ্টা করেছি বাংলাদেশে। এবং এরপরে অবশ্যই যেটা বলেছি যে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা—দ্যাটস এ ডিফারেন্ট সিনারিও।
যখন আপনি স্কলারশিপ পাচ্ছেন, সেটার সাথে আর চাকরির কোনো ইস্যু নেই। আপনি যদি স্কলারশিপ জোগাড় করতে পারেন, তাহলে প্লিজ আপনি চাকরি থেকে ব্রেক নিয়ে বাইরে চলে আসুন।
তথ্যসূত্র: উচ্চশিক্ষার আগে চাকরি নিয়ে ভাবুন (ডা: শাওন ইউটিউব চ্যানেল)
পিপল অলসো আস্ক (FAQs)
১. চাকরি নাকি উচ্চশিক্ষা, কোনটি আগে করা উচিত?
আমার মতে, অবশ্যই আগে চাকরি বা জব করা উচিত। কারণ এতে আপনার ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স তৈরি হবে এবং আপনি চাকরির বাজারে অগ্রাধিকার পাবেন।
২. চাকরি আগে করার প্রধান কারণ কী?
চাকরি আগে করার প্রধান কারণ হলো ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স তৈরি করা, যা আপনার ‘জব রেডিনেস’ বৃদ্ধি করে এবং সর্বোপরি আপনার জন্য ফাইনেনশিয়াল সিকিউরিটি নিশ্চিত করে।
৩. মাস্টার্স বা উচ্চশিক্ষার জন্য কি চাকরি থেকে ব্রেক নেওয়া উচিত?
যদি সম্ভব হয়, ব্রেক না নিয়ে চাকরির পাশাপাশি ইভেনিং বা উইকেন্ডের প্রোগ্রামগুলোতে উচ্চশিক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত। কেবল উচ্চ ‘বেড়িয়ার অফ এন্ট্রি’-যুক্ত মাস্টার্সের জন্যই ব্রেক নেওয়া যেতে পারে।
৪. কোন পরিস্থিতিতে চাকরি ছেড়ে মাস্টার্স করা যেতে পারে?
যদি আপনি দেশের বাইরে কোনো স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই চাকরি থেকে ব্রেক নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে আসা উচিত।
৫. উচ্চশিক্ষা শেষ করলেই কি চাকরির অভাব হবে না?
না। শুধুমাত্র একটি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলেই চাকরির অভাব হবে না। টপ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সত্ত্বেও চাকরির জন্য সংগ্রাম করতে হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খুব যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করুন।
৬. পড়ালেখা ভালো নাকি কাজ করা ভালো?
মানুষ ক্যারিয়ার গড়ার জন্যই পড়ালেখা করে। তবে, পড়াশোনা ছাড়াও অনেকে ভালো ক্যারিয়ার তৈরি করেছে ব্যবসা বানিজ্য করে। এটা সংখ্যায় খুব কম।
নূন্যতম গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে যেকোনো কাজে প্রবেশ করা উচিত।
৭. চাকরি নাকি পড়াশোনা কোনটা বেশি কঠিন?
দুটোই আলাদা ফিল্ড। চাকরি হলো কর্মক্ষেত্র এখানে আপনার লেখাপড়ায় অর্জিত জ্ঞানগুলো কাজে লাগিয়ে কাজ করবেন। কাজের বিভিন্ন ধরণ আছে- এর মধ্যে মেধাশ্রম আর কায়িকশ্রম।
যদি কায়িকশ্রমের কথা বলেন তাহলে আমার মতে পড়াশোনা তুলনামূলক সহজ। আর যদি সেটা মেধাশ্রম হয় তাহলেও চাকরির চাইয়ে পড়াশোনাই বেশি সহজ। কিন্তু পড়াশোনোর পাশাপাশিও কাজ করা যায়। যদি সঠিক ইচ্ছাশক্তি থাকে।
৮. চাকরি নাকি উচ্চশিক্ষা কোনটা ভালো?
বর্তমানে চাকরির বাজার অনুযায়ী বেশিরভাগ চাকরির ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। তাই উচ্চশিক্ষা নেওয়ার আগে ক্যারিয়ারে মানে কাজে প্রবেশ করা উচিত।
পাশাপাশি সম্ভব হলে মাষ্টারস্ বা উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে নেওয়া যায়। তাই সহজেই বলা যায়, চাকরি আর উচ্চ শিক্ষার মধ্যে চাকরিই ভালো।
৯. পড়াশোনা নাকি কাজ করা উচিত?
একটা নূন্যতম স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করা উচিত। এরপর কাজ করা উচিত।
১০. চাকরি জীবন ও পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উপায়?
চাকরি ও পড়াশোনা একসাথে চালিয়ে নেওয়া কিছুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সঠিক ডেইলি প্লানের মাধ্যমে দুটোকে সমান তালে এগিয়ে নেওয়া যায়।
যেমন- পড়াশোনাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে মানসিক বিশ্রাম এর জন্যে সেই ফাঁকে ছোট ছোট কাজ করা যায়। এছাড়াও পড়াশোনা এবং চাকরির জন্য ডিপ ওয়ার্ক এন্ড স্ট্যাডি মেথড ফলো করতে পারেন।
নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে কার্যকর একটি রুটিন তৈরি করতে পারেন।
১১. কাজ করে কি পড়াশোনা করা যায়?
হ্যাঁ, ইচ্ছা শক্তি থাকলে কাজের মধ্যেও পড়াশোনা করা যায়। বাংলাদেশের এবং বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা ইন্সটিটিউট আছে যারা কর্মজীবীদের জন্য আলাদা প্রোগ্রাম আয়োজন করে।
১২. পড়াশোনা ও কাজ একই সাথে করলে তাকে কি বলে?
এই ধরণের শিক্ষার্থীদের কর্মজীবী শিক্ষার্থী বলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এইসব প্রোগ্রামকে বিভিন্ন নাম দেয় তবে “Study – Works” হিসেবে বললে বেশি সুন্দর শোনায়।
১৩. চাকরি করে পড়ালেখা করা কি ঠিক হবে?
অবশ্যই ঠিক হবে। ব্যালেন্স করা একটু কঠিন হলেও ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য এগুলো খুব কাজের।


2 Comments
Pingback: ৫টি বেসিক কম্পিউটার স্কিল - বেকার না থাকতে চাইলে দ্রুত শিখে নিন! - Top 5 Must-Have Essential Computer Skills - NiceTrix
Pingback: বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার ইবি-৩ ভিসা: গ্রিন কার্ড পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড - Only Way to get USA EB-3 Visa from Bangladesh - NiceTrix