আমাদের চারপাশে বা পরিচিতদের মধ্যে এমন একজন পাওয়া কঠিন হবে না যিনি চশমা ব্যবহার করেন এবং এই সংখ্যা যে ভবিষ্যতে বাড়বে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। বর্তমানে পৃথিবীর প্রতি তিনজনে একজন মায়োপিয়ার সমস্যায় ভোগেন। মায়োপিয়ার সমস্যার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখেন, কিন্তু দূরের বস্তু ঝাপসা দেখেন। সম্প্রতি এই সমস্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর প্রতি দুইজন মানুষের মধ্যে একজনের মায়োপিয়া থাকবে, যার ফলে অনেকে একে প্যানডেমিক বা মহামারী বলেও বিবেচনা করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন একজন মানুষের মধ্যে মায়োপিয়া সমস্যা দেখা দেয়? কেনই বা এই সমস্যা উচ্চহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে? আজকের ভিডিওতে এই মায়োপিয়া সম্পর্কে বলা হবে। আমি জুম্মান আছি আপনাদের সাথে। আপনারা দেখছেন বিজ্ঞান পাইসি।
আমি নিজে দীর্ঘদিন যাবত চশমা ব্যবহার করি, যদিও আমার চশমার পাওয়ার মাত্র -০.৫০ D, অর্থাৎ লো-মায়োপিয়া। আমাকে মূলত মাথাব্যথার সমাধান হিসেবে চশমা ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল। যেহেতু আমার লো-মায়োপিয়া রয়েছে, সেহেতু দূরের বস্তু আমার জন্য কিছুটা ব্লারি। এই ব্লারি ভিশন কারেক্ট করতে গিয়ে আমার চোখের পেশী ক্লান্ত হয়ে যেত, যার ফলাফল হিসেবে মাথাব্যথা করতো। আমার মতো অনেকেই মাথাব্যথার সমাধান হিসেবে চশমা ব্যবহার করেন, যদিও ঐ সকল মানুষের মূল সমস্যা হচ্ছে চোখে। কোনো কিছু দেখার ক্ষেত্রে চোখে দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে। প্রথমত, হাইপারোপিয়া বা ফার-সাইটেডনেস; এমন ক্ষেত্রে একজন মানুষ কাছের বস্তু ঝাপসা দেখেন কিন্তু দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখেন। দ্বিতীয়ত, মায়োপিয়া বা নিয়ার-সাইটেডনেস; এমন ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখেন কিন্তু দূরের বস্তু ঝাপসা দেখেন। আজকের বিষয় মূলত মায়োপিয়া।
কোনো বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে যখন আমাদের চোখে পড়ে, তখন আমাদের চোখের কর্নিয়া এবং লেন্স সেই আলোকে একটি বিন্দুতে নিয়ে আসে, যাকে বলে ফোকাস পয়েন্ট। এখন এই ফোকাস পয়েন্ট যদি রেটিনাতে হয়, সেক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট দেখি। কিন্তু কোনো কারণে যদি ফোকাস পয়েন্ট রেটিনার সামনে বা পেছনে চলে যায়, সেক্ষেত্রে দৃষ্টির সমস্যা দেখা দেয়। ফোকাস পয়েন্ট যদি রেটিনার পেছনে চলে যায়, তবে সেটাকে বলে হাইপারোপিয়া। ফোকাস পয়েন্ট যদি রেটিনার সামনে চলে আসে, তবে সেটাকে বলা হয় মায়োপিয়া। একজন শিশু জন্মের পর হাইপারোপিয়া আক্রান্ত থাকে, অর্থাৎ শিশুর অক্ষিগোলক ছোট থাকে। যার ফলে ফোকাস পয়েন্ট রেটিনার পেছনে অবস্থান করে। ফলাফলস্বরূপ শিশুটি কাছের বস্তু ঝাপসা দেখে কিন্তু দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখে। পরবর্তীতে বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিশুর অক্ষিগোলকের আকৃতি পরিবর্তন হয় এবং একসময় ফোকাস পয়েন্ট রেটিনাতে আসে। সাধারণত এই পর্যায়ে এসে অক্ষিগোলকের আকৃতি পরিবর্তন থেমে যায়। এখন কোনো কারণে যদি কারো ক্ষেত্রে অক্ষিগোলকের আকৃতি পরিবর্তন না থামে, তবে অক্ষিগোলক স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যায়। ফলে ফোকাস পয়েন্ট রেটিনার সামনে চলে আসে। ফলাফল মায়োপিয়া। মায়োপিয়ার মূল কারণই হচ্ছে অক্ষিগোলক বড় হয়ে যাওয়া। এছাড়াও কর্নিয়া এবং লেন্সের বিভিন্ন অবস্থার জন্য মায়োপিয়া হতে পারে। যেমন: লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা যদি বেড়ে যায়, তবে ফোকাস পয়েন্ট সামনে চলে আসবে। ফলাফল মায়োপিয়া। যদিও কর্নিয়া এবং লেন্সের কারণে মায়োপিয়া হবার সংখ্যা খুবই কম।
২০২০ সালের তথ্য মতে, তখনকার জনসংখ্যার ৩৩.৯% মানুষ মায়োপিয়াতে আক্রান্ত ছিল, অর্থাৎ প্রতি তিনজনে একজন। এদের মধ্যে ০.৪৬ মিলিয়ন মানুষ হাই মায়োপিয়াতে আক্রান্ত ছিল (-৫.০ D বা তার চেয়েও কম)। অর্থাৎ, এরা চোখের মাত্র ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি দূরের বস্তুও দেখতে পেত না। এখানে আরেকটি বিষয় বলে রাখি, চশমার পাওয়ার মাইনাস মানে হচ্ছে আপনি মায়োপিয়াতে আক্রান্ত। আপনার চোখের পাওয়ার যদি প্লাস হয়, সেক্ষেত্রে হাইপারোপিয়া। এই প্লাস-মাইনাসের পাওয়ার সংখ্যা যত বাড়তে থাকবে, বুঝতে হবে আপনার সমস্যা ততই তীব্র। যাইহোক, সাম্প্রতিক সময়ে যে হারে মায়োপিয়া বাড়ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে তখনকার মোট জনসংখ্যার ৫০% মানুষ মায়োপিয়াতে আক্রান্ত থাকবেন, অর্থাৎ প্রতি দুইজনে একজন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এত দ্রুত গতিতে মায়োপিয়া বিস্তার লাভ করছে?
প্রথমে মনে করা হয়েছিল, মায়োপিয়া বাড়ার কারণ হচ্ছে জেনেটিক। যেমন: পিতা-মাতার মধ্যে একজন যদি মায়োপিক হয়ে থাকেন, তবে সন্তানের মায়োপিয়া হবার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আবার পিতা-মাতার মধ্যে দুইজনই যদি মায়োপিক হয়ে থাকেন, তবে সন্তানের মায়োপিয়া হবার সম্ভাবনা পাঁচগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে, জেনেটিক্সগত কারণে মায়োপিয়া বাড়তে পারে এটা সত্য, তবে বর্তমানে যতটা উচ্চহারে মায়োপিয়া বাড়ছে, তা জেনেটিক্যালি সম্ভব নয়। কারণ কোনো একটি সমস্যা জেনেটিক্যালি বিস্তৃত হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। জিনগত বিষয়গুলো খুবই ধীরগতিতে এক জেনারেশন থেকে অন্য জেনারেশনের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা নিশ্চিত যে, বর্তমান মায়োপিয়ার মাত্র ৩% ক্ষেত্রে জিনকে দায়ী করা যেতে পারে। সুতরাং বর্তমানে মায়োপিয়া উচ্চহারে বাড়ার ক্ষেত্রে জেনেটিক্স মূল কারণ নয়। তার মানে মায়োপিয়ার পেছনে অন্য কোনো পরিবেশগত কারণ থাকতে পারে।
চোখ এবং কোনো কিছু দেখা— এই ঘটনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দূরত্ব। এখন আপনার মনে হতে পারে, চোখের দৃষ্টিশক্তির সাথে দূরত্বের সম্পর্ক থাকতে পারে? অবশ্যই এই ভাবনা বহু আগেই ভাবা হয়েছে। এর জন্য আমাদেরকে ১০০ বছরের চেয়েও বেশি সময় পেছনে যেতে হবে। ১৮৯২ সালে হার্বেন কুন তাঁর ‘হাইজেন ফরায়সিস’ বইতে পড়ালেখা এবং কাজের ক্ষেত্রে দূরত্বের বিষয়টি আলোচনা করেন। সেইসাথে ক্লাসরুমে এমন পরিবেশ আনার পরামর্শ দেন যেন বই এবং চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব কম না হয়। বিষয়টি অনেকটা আমাদের আজকের সাধারণ চিন্তার মতো। সাধারণভাবে আমরা যা বুঝি তা হচ্ছে, চোখ যখন বেশিরভাগ সময় কাছের বস্তু দেখে, যেমন: বই পড়া, কোনো কিছুর লেখা, মোবাইল বা কম্পিউটারে তাকিয়ে থাকা কিংবা ডেস্কটপ— এসব ক্ষেত্রে চোখে এমন পরিবর্তন আসে, যা দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। ফলাফল মায়োপিয়া। আমরা যখন কাছের কিংবা দূরের কোনো কিছু দেখার চেষ্টা করি, তখন কিন্তু আমাদের চোখে থাকা লেন্সের পরিবর্তন আসে। কাছের বস্তুর ক্ষেত্রে লেন্স কিছুটা মোটা হয় এবং দূরের বস্তুর ক্ষেত্রে পাতলা হয়। অনেকের ধারণা, বেশিরভাগ সময় কাছের বস্তু দেখা মানে লেন্সের আকৃতি পরিবর্তনের ক্ষমতা কমে যাওয়া। এমন ক্ষেত্রে একজন মানুষ দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে সংগ্রাম করে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, একমাত্র যারা ইতিমধ্যে মায়োপিয়াতে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই লেন্সের আকৃতি পরিবর্তনের সক্ষমতার হ্রাস পায়। এর বাইরে অন্যদের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায় না। অর্থাৎ মায়োপিয়া হবার ক্ষেত্রে কিংবা যে হারে মায়োপিয়া বাড়ছে তার পেছনের কারণের একটি মাত্র অংশ হচ্ছে এই ক্লোজআপ ওয়ার্ক বা বেশিরভাগ সময় কাছের বস্তু দেখা হয় এমন কার্যকলাপ। তার মানে আশঙ্কাজনক হারে মায়োপিয়া বাড়ার ক্ষেত্রে জেনেটিক এবং ক্লোজআপ ওয়ার্ক— এগুলো মূল কারণ নয়। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।
তবে সেই কারণ খোঁজার আগে একটি প্রয়োজনীয় অ্যাপ সম্পর্কে বলা যাক। আপনি ঘরে বসেই দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে সহজে ওষুধ, যাবতীয় হেলথ কেয়ার এবং বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট অর্ডার করতে পারবেন আরোগ্য অ্যাপে। আরোগ্যর প্রতিটি ওষুধের বিস্তারিত বিবরণ, জেনেরিক অনুযায়ী বিকল্প কোম্পানির ওষুধের বিবরণ ও দাম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারবেন। এছাড়াও প্রতি অর্ডারে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক এবং ফ্রি হোম ডেলিভারির মতো সুবিধা থাকছে। আরোগ্যতে আরও থাকছে স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক থেকে ল্যাব টেস্ট সুবিধা, এবং সেটা ঘরে বসেই। ঢাকা শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে তাদের দক্ষ ফ্লেবোটোমিস্ট আপনার বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। পরবর্তীতে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা রিপোর্ট যাচাই করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে অনলাইন কপি সরবরাহ করা হবে। অ্যাপটি ইনস্টল করার সাথে সাথে ৪০ টাকা বোনাস পেতে, ডেসক্রিপশন বক্সে দেয়া লিঙ্ক থেকে অ্যাপটি ইনস্টল করুন। অথবা অ্যাপ স্টোরে ‘আরোগ্য’ লিখে সার্চ করুন এবং বোনাসের জন্য অ্যাপের রেফার বক্সে ‘বিজ্ঞান পাইসি’ ব্যবহার করুন।
২০০০ সালের কিছুটা আগে একটি হাইপোথিসিস সামনে আসে এবং তা হচ্ছে মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে সূর্যের আলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা কম সূর্যের আলো সংস্পর্শে আসেন, তাদের মায়োপিয়া হবার সম্ভাবনা বেশি। যারা তুলনামূলক বেশি সময় সূর্যের আলো সংস্পর্শে আসেন, তাদের মায়োপিয়া হবার সম্ভাবনা কম। এমন হাইপোথিসিস সামনে আসার পর মায়োপিয়ার সাথে সূর্যের আলো কতটা সম্পর্কযুক্ত, তা বোঝার জন্য মুরগির বাচ্চার মাধ্যমে এক্সপেরিমেন্ট করা হয়। কিছু সংখ্যক মুরগির বাচ্চার চোখে এক ধরনের লেন্স লাগিয়ে তাদেরকে বেশ কিছুদিন ইনডোর লাইটে রাখা হয়। এতে দেখা যায়, কয়েকদিনের মধ্যেই সবগুলো মুরগির বাচ্চা মায়োপিক হয়ে যায়। পরবর্তীতে আরও কিছু মুরগির বাচ্চাকে সূর্যের আলো আসে এমন স্থানে রাখা হয়। এক্ষেত্রে মুরগির বাচ্চার মায়োপিক হবার কাল দীর্ঘায়িত হয়, অর্থাৎ বাচ্চাগুলো মায়োপিক হতে বেশি সময় নেয়। পরবর্তীতে আরও কিছু মুরগির বাচ্চাকে দিনের আলোর মতো তীব্র কৃত্রিম আলোতে রাখা হয় এবং এতেও দেখা যায় মুরগির বাচ্চা মায়োপিক হতে বেশি সময় নেয়। মুরগির বাচ্চার চোখে লাগানো লেন্সের কারণে এরা আগে আর পরে মায়োপিক হতোই। তবে সূর্যের আলোর ক্ষেত্রে মায়োপিক হতে যেহেতু বেশি সময় লাগে, সেহেতু এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় মানুষের ক্ষেত্রেও মায়োপিক হবার পেছনে সূর্যের আলোর ভূমিকা থাকতে পারে। যার ফলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণা শুরু হয়।
আমরা জানি, সূর্যের আলো মূলত বিভিন্ন বর্ণের আলোর সমাহার। সূর্যের আলোকে প্রিজমে ফেললে সাতটি রংধনু পাওয়া যায় এবং এ রংধনুর একেকটি বর্ণের জন্য রয়েছে একেক রকম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো। দিনের বেলা ইনডোরের তুলনায় আউটডোরে নীল আলো সবচেয়ে বেশি তীব্র থাকে। দেখা যায় যে চোখ যখন বেশি পরিমাণ নীল আলোর সংস্পর্শে আসে, তখন রেটিনা থেকে ডোপামিন নির্গত হয় যা চোখের আকার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে চোখ যখন কম আলো বা লাল আলোর সংস্পর্শে থাকে, তখন কম পরিমাণ ডোপামিন নির্গত হয়। ফলাফল, চোখের আকৃতি নিয়ন্ত্রণে থাকে না, অর্থাৎ আকৃতি পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়। তার মানে রেটিনাল ডোপামিন মানুষের মায়োপিক হওয়া বা না হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ, মায়োপিয়া উচ্চহারে বাড়ার ক্ষেত্রে আমাদের জীবনধারাই মূলত দায়ী। এখন আমরা যদি আমাদের নিজেদের কথাই বিবেচনা করি, তাহলে খেয়াল করবেন, আমরা একজন শিশুকে শুরু থেকেই ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করি। রোদে যেতে দেই না, সারাক্ষণ পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করি, যার ফলে চোখ যথেষ্ট ডোপামিন নিঃসরণ করতে পারে না। ফলাফল, মায়োপিয়া হবার সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়।
আপনারা খেয়াল করবেন, গ্রামের তুলনায় শহরের মানুষ বেশি চশমা ব্যবহার করে। এর কারণ সেই সূর্যের আলো। শহরের মানুষ খুব একটা সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে না, অর্থাৎ শহরের মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময়েই ইনডোরে কাটিয়ে দেয়। ঠিক এই একই কারণে উন্নত দেশগুলোতে মায়োপিয়া উচ্চহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে স্কুল-কলেজের প্রায় ৮০% ছাত্র-ছাত্রী মায়োপিয়াতে আক্রান্ত। সূর্যের আলো সংস্পর্শে না আসার ফলে আরেকটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং তা হচ্ছে হাড় দুর্বল বা ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া। আমাদের ত্বক যখন সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে, তখন এই আলোর সাহায্যে আমাদের ত্বক ভিটামিন ডি তৈরি করে, যা হাড়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন সূর্যের আলোতে না যাওয়া মানে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থেকে যাওয়া, যা হাড়কে সময়ের সাথে সাথে দুর্বল এবং ভঙ্গুর করে তোলে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যাদের ইতিমধ্যে মায়োপিয়া হয়ে গিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সমাধান কী? মায়োপিয়ার সাধারণ সমাধান হচ্ছে চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করা। এর বাইরেও মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে সার্জারি করা যেতে পারে। সার্জারির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, তবে সব ক্ষেত্রেই মোটামুটি লেজার ব্যবহার করা হয়। লেজারের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্নিয়ার পুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে কর্নিয়ার অভিসারী ক্ষমতা কমে যায়। ফলাফল, মায়োপিয়ার সমাধান হয়ে যায়। তবে এই ধরনের সার্জারির ক্ষেত্রে কর্নিয়ার পুরুত্ব বেশি থাকতে হয়। এর বাইরে এসবের সার্জারিও উচ্চ ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়। এখন কথা হচ্ছে, অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা করার চেয়ে উত্তম হচ্ছে অসুস্থ যেন না হয় সে সম্পর্কে সচেতন হওয়া। এক্ষেত্রে যাদের মায়োপিয়া ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে, তাদের হয়তো সারাজীবন এই সমস্যা নিয়ে চলতে হবে। তবে যাদের এখনও মায়োপিয়া হয়নি, বিশেষ করে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অর্থাৎ শিশু, এদের ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের সচেতনতা প্রয়োজন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সচেতনতাগুলো কেমন হবে? প্রথমত, জিনগত কারণে শিশুর মায়োপিয়া হলে সেক্ষেত্রে করার কিছুই নেই। তবে এমন কারণে মায়োপিয়া হবার সংখ্যা অতি নগণ্য। দ্বিতীয়ত, ক্লোজআপ ওয়ার্ক মায়োপিয়া হবার ক্ষেত্রে খুব বড় ধরনের কারণ না হলেও এই বিষয়েও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। শিশুদের লেখাপড়া, টিভি কিংবা মোবাইল দেখার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে তারা যেন টানা দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে। যদি দীর্ঘ সময় ব্যয় করতেও হয়, তবে যেন নির্দিষ্ট সময় পরপর তারা দূরের বস্তু দেখে। এতে কাছে এবং দূরে ফোকাস করার ক্ষেত্রে চোখ অভ্যস্ত থাকবে। তৃতীয়ত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে যাওয়া। আপনি যদি আপনার শিশুকে সারাক্ষণ ঘরের ভেতর বা ইনডোরে রাখেন, তবে এটা অনেকটা নিশ্চিত যে একটা সময় পরে শিশুটি মায়োপিয়াতে আক্রান্ত হবে। সুতরাং প্রতিদিন আপনার শিশুকে রোদে নিয়ে যান, খোলা মাঠে খেলতে দিন। সেইসাথে আপনি নিজেও কিছুটা সময় সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকুন। চতুর্থত, আপনার সন্তান ইতিমধ্যে মায়োপিয়া আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা খেয়াল করার চেষ্টা করুন। কারণ শিশু যদি মায়োপিয়া আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে সে হয়তো সেটা বলতে পারবে না। কিন্তু এর প্রভাব বিভিন্ন ভাবে পড়বে। যেমন: সে ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারবে না, তার বাইরে চোখের চাপের কারণে মাথা যন্ত্রণা হতে পারে যা তার মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করতে পারে। এখন পর্যন্ত মায়োপিয়ার যে কারণ জানা গেছে, এর বাইরেও আরও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে যা হয়তো এখনো জানা সম্ভব হয়নি। তবে সময়ের সাথে সাথে সেগুলো জানা যাবে। পরিশেষে এটুকুই বলব যে, যেকোনো মানুষের জন্যই চোখ অমূল্য সম্পদ। সুতরাং চোখের যত্ন নিন। আপনার চোখ ভালো মানেই আপনার চারপাশটা রঙিন। যে কোনো প্রাণের জন্য আগুন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মানুষের জন্য। বর্তমান আধুনিক সভ্যতা আগুন ছাড়া কল্পনা করা অসম্ভব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আগুন আসলে কী? কেনই বা একমাত্র পৃথিবীতে আগুন রয়েছে? কেনই বা আগুনের বিভিন্ন বর্ণ থাকে? আগুন সম্পর্কিত এমন বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। ভিডিও ভালো লাগলে ‘বিজ্ঞান পাইসি’ পরিবারে যুক্ত হয়ে সাথে থাকতে পারেন।

