নার্সিং বর্তমানে একটি আকর্ষনীয় পেশা এবং ভবিষ্যতেও এর চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তাই এইচএসসির পর যারা নার্সিং ভর্তি প্রস্তুতি নিতে চান তাদের জন্য আজকের Nursing Admission Preparation and Detailed Guideline নিয়ে আসলাম। আপনাদের এইচএসসি পরীক্ষা তো শেষ হয়েছে। এখন যদি আপনি ভাবেন যে, পরীক্ষা শেষ, এখন ঘুরতে যাবেন, তবে তা করলে হবে না।
কারণ এটি আপনার এসএসসি পরীক্ষা নয় যে শেষ করে ভ্যাকেশন কাটাবেন। এটা ভ্যাকেশন কাটানোর সময় নয়। দু-তিন দিন মনকে রিফ্রেশ করতে পারেন, কিন্তু পনেরো দিন নয়। দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে আসুন।
নার্সিং ভর্তি প্রস্তুতি

আপনারা অনেকেই আছেন যাদের এইচএসসি পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, অনেকের খুব ভালো হয়েছে, আবার অনেকের মোটামুটি ভালো হয়েছে। মনে রাখবেন, জিপিএ বড় একটি ফ্যাক্ট হলেও এটাই কিন্তু সবকিছু নয়।
আপনি যদি এখন ভালো করে পড়েন এবং অ্যাডমিশন টেস্টে ভালো মার্ক ক্যারি করতে পারেন, তবে আপনার চেয়ে কম বা বেশি জিপিএ পাওয়া ব্যক্তির চেয়েও ভালো অবস্থানে যাওয়া সম্ভব। এখনো সুযোগ আছে।
এইচএসসি-এর পর আপনার মাইন্ডসেট কেমন হবে?
এই সময়টাতে আপনার ফোকাস রাখতে হবে যে আপনি কোথায় পরীক্ষা দেবেন। আপনার কী কী <কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ করা> দরকার, কীভাবে পড়া উচিত, এবং কোন বইগুলো কিনবেন—এই ধরনের একটি মাইন্ডসেট রেডি করুন।
অ্যাডমিশন সিজন বারবার বলছি, এটি আরাম আয়েশ করে শেখার সময় নয়। অ্যাডমিশন সিজন হলো কোন জিনিসটা আপনার পরীক্ষায় আসবে, সেই রিয়েল জিনিসটা বুঝে, মেমোরাইজ করে এবং আত্মস্থ করার সময়।
আপনি যেই সেগমেন্টেই যান না কেন—মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ভার্সিটি, নার্সিং বা কৃষি—আপনার সেই রিলেটেড প্রস্তুতি প্রয়োজন। মনে রাখবেন, এক-একটি ভার্সিটির কোয়েশ্চেন প্যাটার্ন এক এক রকম হয়।
যারা এসব জায়গায় পড়ে চান্স পেয়েছে বা অভিজ্ঞ, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। Add a Photo Here
নার্সিং কোর্স ও পড়ার যোগ্যতা
হালকা স্ট্যান্ড আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে <ফ্রি নার্সিং কোর্স>। যারা ছোটবেলা থেকে মানবসেবায় নিয়োজিত নার্স হওয়ার ইচ্ছা লালন করেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ।
নার্সিংয়ে ভর্তির জন্য তিনটি সেগমেন্ট বা কোর্স রয়েছে: বিএসসি, ডিপ্লোমা এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি। আপনি কোনটিতে ভর্তি হবেন, তা আপনার সিদ্ধান্ত এবং যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।
তিনটি কোর্স তিন ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে, এবং বিভিন্ন কোর্সে সুযোগ-সুবিধা কমে-বাড়ে।
আরও পড়ুনঃ ইউনিভার্সিটি ভর্তি সিজনে মনোবল ধরে রাখার কৌশল!
কোন কোর্সটি আপনার জন্য উপযুক্ত?
আপনি যদি অনার্স সমমানের ডিগ্রি নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হতে চান, তবে বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে যান। এটি একটি চার বছরের অনার্স সমমান ডিগ্রি, যা শেষ করে আপনি সরাসরি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
নার্সিং একটি টেকনিক্যাল সাবজেক্ট। যখন নার্সিংয়ের সার্কুলার হয়, তখন বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক বা অন্য কোনো সাবজেক্টের ছাত্ররা আপনার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না। ফলে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কমে আসে এবং চাকরির বাজার সহজ হয়।
তবে আপনাকে অবশ্যই যোগ্য ও কোয়ালিটিফুল হতে হবে। অযোগ্যরা চাকরি পাবে না, এটাই স্বাভাবিক। কোম্পানিগুলোতে যোগ্য মানুষেরই চাহিদা বেশি, তাই নিজের স্কিল বাড়ান।
| কোর্সের নাম | সময়কাল | ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা (এসএসসি ও এইচএসসি) | বিসিএস |
| বিএসসি ইন নার্সিং | ৪ বছর (অনার্স সমমান) | বিজ্ঞান (Science) | সরাসরি অংশগ্রহণ |
| ডিপ্লোমা ইন নার্সিং/মিডওয়াইফারি | ৩ বছর (ডিগ্রি সমমান) | বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা (Arts, Commerce, Science) | পোস্ট বেসিক (২ বছর) এর পর অংশগ্রহণ |
চাকরির বাজার ও বেতন কেমন?
নার্সিং একটি দশম গ্রেডের সরকারি চাকরি। বাংলাদেশে সরকারি চাকরি পাওয়া মানে সোনার হরিণ। ব্যাংকের পরীক্ষায় হাজার হাজার মানুষ পরীক্ষা দেয়। কিন্তু নার্সিংয়ে আপনার লড়াই কেবল আপনাদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এই ৩ বা ৪ বছরে যদি আপনি নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারেন, তবে অনেক ভালো চাকরি পাবেন। ক্যারিয়ার অনেক ভালো।
বেতনের কাঠামো
বেসিক বেতন শুরু হয় ১৬,০০০+ টাকা থেকে। এর সাথে বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা যোগ করে প্রথম জয়েনিংয়ের সময় বেতন প্রায় ২৮,০০০ টাকা আসে।
চাকরির শেষের দিকে এই বেতন ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকা মেডিকেলে এমন সিনিয়র স্টাফ আছেন যাদের বেতন ৭০,০০০ থেকে ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়।
আরও পড়ুনঃ মেডিকেল ভর্তি বায়োলজিতে ৩০ এ ৩০ পাওয়ার গোপণ কৌশল!
উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের সুযোগ
নার্সিং করে শুধুমাত্র নার্স হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনি প্রশাসনিক পদে আবেদন করতে পারবেন, শিক্ষক হতে পারবেন। বিএসসি করলে আপনি টিচার হতে পারছেন। এছাড়া <মেডিকেল সেক্টর> এবং ক্লিনিক সেক্টর তো আছেই। বিসিএস দিয়ে অন্য সেগমেন্টেও যাওয়া যায়।
যারা সরকারি নার্সিং কলেজে চান্স পায়, তারা প্রতি মাসে একটি স্টাইপেন্ড বা উপবৃত্তি পায়। এটি ছেলে-মেয়ে সবাই পায় এবং ইন্টার্নশিপ পর্যন্ত চলে। ইন্টার্নশিপে ছয় মাসে মোট ৩৬,০০০ টাকা (৬,০০০ টাকা করে প্রতি মাসে) দেওয়া হয়।
উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরের দেশেও অনেক সুযোগ আছে। বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যেও যেতে পারেন। ইনক্লেক্স (NCLEX) পরীক্ষার মাধ্যমে আমেরিকার রেজিস্টার্ড নার্স হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যায়। মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে নার্সের চাহিদা খুব বেশি। Add a Photo Here
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার জন্য সঠিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি <কোয়েশ্চেন প্যাটার্ন> না জানেন, তবে মেডিকেলের মতো বায়োলজির কঠিন জিনিস সলভ করা বা বুয়েটের ভাইয়ার প্লেলিস্ট শেষ করা হবে সম্পূর্ণ ভুল পদক্ষেপ।
কী আসবে, এটাই আপনাকে জানতে হবে। আর তা জানতে পারবেন টিচার প্যানেল এবং কোয়েশ্চেন ব্যাংক বিশ্লেষণ করে। এই বিষয়গুলোর ওপর ফোকাস করুন।
আপনার রেজাল্ট যাই হোক, তা ম্যাটার করে না। এখন আপনি ভালো করে পরিশ্রম করুন, ইনশাআল্লাহ ভালো করবেন। আমি সবার জন্য দোয়া করি, সবার যেন সরকারি নার্সিং কলেজে চান্স হয়।
নার্সিং নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১. এইচএসসি পরীক্ষার পর নার্সিং পড়ার জন্য সাইন্স থাকা কি বাধ্যতামূলক?
বিএসসি ইন নার্সিং পড়ার জন্য এসএসসি এবং এইচএসসিতে সাইন্স (Science) থাকা বাধ্যতামূলক। তবে ডিপ্লোমা এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সের জন্য মানবিক (Arts) বা ব্যবসায় শিক্ষা (Commerce) বিভাগের শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবে।
২. নার্সিংয়ে বিসিএস দেওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, নার্সিংয়ে বিসিএস দেওয়া যায়। যারা বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করেন, তারা সরাসরি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে দুই বছরের পোস্ট বেসিক কোর্স করার পর বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়।
৩. নার্সিং কোর্সগুলোর সময়কাল কত এবং কোনটি অনার্স সমমান?
বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সটি চার বছরের এবং এটি অনার্স সমমান ডিগ্রি। অন্যদিকে, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সগুলো তিন বছরের হয়।
৪. নার্সিং পেশায় শুরুর দিকে বেতন কত হতে পারে?
নার্সিং একটি দশম গ্রেডের সরকারি চাকরি। বেসিক শুরু হয় প্রায় ১৬,০০০+ টাকা থেকে এবং সব ভাতা (বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ইত্যাদি) যোগ করে শুরুর দিকে একজন নার্সের বেতন প্রায় ২৮,০০০ টাকার মতো আসে।
৫. সরকারি নার্সিং কলেজে চান্স পেলে কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, যারা সরকারি নার্সিং কলেজে চান্স পায়, তারা প্রতি মাসে একটি স্টাইপেন্ড বা উপবৃত্তি পেয়ে থাকে। এই সুবিধা ইন্টার্নশিপ পর্যন্ত দেওয়া হয়।

