মাত্র কয়েক বছর আগে আমরা করোনা মহামারী দেখেছি, যাতে গড় মৃত্যুর হার ছিল ১ শতাংশের নিচে। এতে সম্পূর্ণ পৃথিবী কতটা আতঙ্কিত হয়েছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন ভাবুন তো, এমন কোনো মহামারী যদি পৃথিবীতে আসে যাতে মৃত্যুর হার তিরিশ শতাংশ, তাহলে সেটা কেমন ভয়ানক হতে পারে!
পৃথিবী ইতিমধ্যে এমন এক ভয়ানক মহামারীর সম্মুখীন হয়েছে, যার নাম স্মলপক্স, বাংলায় যাকে বলা হয় গুটি বসন্ত। ১৯০০ থেকে ১৯৭৭ সাল – এই ৭৭ বছরে পৃথিবীজুড়ে ৩০ থেকে ৫০ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল এই স্মলপক্সের কারণে, যেখানে করোনায় মৃত্যুর মোট সংখ্যা ৭০০০০০০। বর্তমানে অবশ্য পৃথিবী থেকে স্মলপক্স বিলুপ্ত হয়েছে, যা সম্ভব হয়েছিল গরুর মাধ্যমে এবং স্মলপক্সের চিকিৎসা খুঁজতে গিয়েই প্রথমবারের মতো ভ্যাকসিনের ধারণা সামনে এসেছিল।
সকল দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে পৃথিবীতে স্মলপক্স না থাকলেও, এটি ভবিষ্যতে জৈব সন্ত্রাস বা বায়োটেরোরিজম এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যাতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হবে। স্মলপক্স সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজকের ভিডিও। আমি জুম্মান আছি আপনাদের সাথে। আপনারা দেখছেন বিজ্ঞান।
এশিয়ার সর্বশেষ স্মলপক্স রোগী রহিমা বানু, ১৯৭৫ সালে মাত্র ১.৫ বছর বয়সে তিনি স্মলপক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন, যদিও স্মলপক্সের ছাপ রয়ে গেছে শরীরে। স্মলপক্স দেখতে অনেকটা চিকেনপক্সের মতো, গায়ে ফুসকার মতো দেখা যায় এবং পর্যায়ক্রমে ফুসকা সম্পূর্ণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখতে খুবই অস্বস্তিদায়ক।
এখানে স্মলপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ছবি দেখানো সম্ভব হবে না, কারণ এতে ভিডিওতে রেস্ট্রিকশন আসতে পারে। তবে গুগল-এ ‘স্মলপক্স স্পেশাল’ লিখলেই অনেক ছবি পেয়ে যাবেন। ভ্যারিওলা ভাইরাসের সংস্পর্শে স্মলপক্স হয়ে থাকে। সাধারণত ভ্যারিওলা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণের ২১ দিনের মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটে থাকে। আর যারা বেঁচে যান, তাদের শরীরে ক্ষত তৈরি হয়। কিছু ক্ষেত্রে অনেকে অন্ধ হয়ে যান।
ইতিহাসে অনেক সভ্যতা এই স্মলপক্সের কারণে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। উত্তর আমেরিকাতে থাকা আদিবাসীদের মধ্যে স্মলপক্স ছিল না, কিন্তু যখন ইউরোপিয়ানরা উত্তর আমেরিকাতে যান, তখন তাদের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকাতে স্মলপক্স সংক্রমণ ঘটে। তখন নতুন ভাইরাসের বিপরীতে উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় আদিবাসীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল ৬০ থেকে ৯০%। এতে স্প্যানিশ বাহিনী প্রায় যুদ্ধ ছাড়াই আদিবাসীদের অঞ্চল দখল নিতে পারে। ক্যারিবিয়া দ্বীপপুঞ্জে স্প্যানিশদের মাধ্যমে ছড়ানো স্মলপক্সে টাইনো জাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায় ১৫ শতকের শেষভাগে। পুরো ক্যারিবিয়ানের জনসংখ্যা পতন হয় ৮০ থেকে ৯০%।
অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আঠারোশো শতকে ইউরোপীয়ানরা অস্ট্রেলিয়া গেলে সেখানে স্মলপক্সের সংক্রমণ ঘটে। ১৭৮৯ সালে সিডনি ও আশেপাশে স্মলপক্স মহামারীতে অনেক আদিবাসী গোত্র বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইউরোপিয়ানরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্মলপক্সকে অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করেছিল। যেমন, ১৭৬৩ সালে ফোর্ট পিট, পেনসিলভানিয়া অবরোধের সময় ব্রিটিশ সেনারা আদিবাসীদের স্মলপক্স সংক্রমিত দুইটি কম্বল দেয় এই ভেবে যে, স্মলপক্স সংক্রমণে তারা মারা যাবে, এতে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে হবে না।
কম্বলের ফলে কতজন আমেরিকান আদিবাসী মারা গিয়েছিল, এর অফিশিয়াল কোনো ডকুমেন্ট না থাকলেও অনেকে স্মলপক্সে সংক্রমিত হয়েছিল। এটিকেই পৃথিবীর প্রথম জৈব অস্ত্রের ব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্মলপক্সের প্রভাব যে শুধু আদিবাসীদের মধ্যে পড়েছিল তা কিন্তু নয়, ইউরোপিয়ানরাও স্মলপক্স দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যেমন, ১৭ থেকে আঠারোশো শতকে প্রায় প্রতি বছর ইউরোপে স্মলপক্স মহামারী দেখা দিত। অনুমান করা হয় যে, শুধু আঠারোশো শতকেই প্রায় ৬ কোটি ইউরোপীয় স্মলপক্সে মারা যায়।
পৃথিবীতে স্মলপক্সের ইতিহাস বহু পুরোনো। স্মলপক্সের সবচেয়ে পুরোনো এভিডেন্স পাওয়া যায় প্রাচীন মিশরে। ১৮৯৮ সালে মিশরে একটি মমি পাওয়া যায় যা ছিল ফারাও রামেসিস ভি-এর। মমির মুখে এবং শরীরে স্মলপক্সের মতো দাগ দেখা যায়, যা হচ্ছে স্মলপক্সের প্রাচীনতম ভূত প্রমাণ। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১১৫৭ সালে রামেসিস ভি মারা গিয়েছিলেন। ভারত এবং চীনের প্রাচীন গ্রন্থেও স্মলপক্সের উল্লেখ রয়েছে।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ঠিক কতটা আগে পৃথিবীতে স্মলপক্সের আবির্ভাব ঘটেছিল? আসলে ঠিক কতটা আগে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে ধারণা করা হয় যে, খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১০০০০ বছর আগে, যখন মানুষ পশুপালন শুরু করে তখন থেকে স্মলপক্স মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করে। কারণ, ভ্যারিওলার মতো অর্থোপক্স ভাইরাস গরু, ছাগল, শূকরের মতো প্রাণীর মধ্যেই বেশি দেখা যায়। আবার অনেকের ধারণা ইঁদুর থেকেও এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে আসতে পারে।
এখন যত আগেই স্মলপক্স শুরু হোক না কেন, স্মলপক্স নির্মূল হওয়া পর্যন্ত কিন্তু এই রোগের কোনো চিকিৎসা ছিল না, যদিও সম্প্রতি আমেরিকা কিছু ওষুধ অনুমোদন করেছে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, স্মলপক্সের যদি কোনো চিকিৎসা নাই থেকে থাকে, তবে কীভাবে এই রোগকে চিরতরে পৃথিবী থেকে নির্মূল করা সম্ভব হলো? ১৭২৭ সালে ইংরেজ নারী ম্যারি ওয়র্টলি মন্টেগু তুরস্কে একটি বিষয় লক্ষ্য করেন। সেখানে সুস্থ মানুষের শরীরে আঁচড় কেটে স্মলপক্সের সামান্য জীবাণু লাগিয়ে দেওয়া হয়। আসলে বিষয়টি ছিল স্মলপক্স হবার আগেই অল্প পরিমাণ স্মলপক্স জীবাণু শরীরে দিয়ে দেওয়া, যাতে এর মাধ্যমে স্মলপক্সের বিপরীতে ইমিউনিটি তৈরি হয়।
জীবাণু সংক্রমণের মাধ্যমে ইমিউনিটি তৈরি করার ধারণা বহু আগে থেকেই ছিল, যাকে বলা হয় ইনোকুলেশন। ভারত, চীন এবং আফ্রিকাতে বিভিন্নভাবে এর চর্চা হতো। যেমন, মধ্যযুগে চীনারা স্মলপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির ফোস্কা নিয়ে তা শুকিয়ে পাউডার তৈরি করে সেটা তুলাতে রাখত। এরপর সেই তুলা একটি পাইপে রেখে ফুঁ দিয়ে সুস্থ মানুষের শরীরে স্মলপক্সের জীবাণু ঢুকিয়ে দিত। এই পদ্ধতি কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল না। ইনোকুলেশনের ক্ষেত্রে স্মলপক্সে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা ছিল ২%। এরপরেও মানুষ ইনোকুলেশনের মধ্য দিয়ে যেত, কারণ তখন পর্যন্ত মানুষ এটা লক্ষ্য করেছিল যে, যাদের একবার স্মলপক্স হয়, তাদের দ্বিতীয়বার আর স্মলপক্স হয় না।
সেই সাথে প্রত্যেকেরই জীবনে কোনো না কোনো সময় স্মলপক্সের মধ্য দিয়ে যাবে এমন ধারণা ছিল। ফলে পূর্ণাঙ্গ সংক্রমণের আগেই সামান্য জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে তাতে মৃত্যুর ঝুঁকি কম থাকে এবং ভবিষ্যতে স্মলপক্স হবে না এমন নিশ্চয়তাও পাওয়া যায়। ফলে ইনোকুলেশনই ছিল ওই সময় স্মলপক্সের একমাত্র চিকিৎসা। মানুষও স্মলপক্সকে এতটাই ভয় পেত যে, ইনোকুলেশনকে তুলনামূলক নিরাপদ চয়েস মনে করত। ১৭২১ সালে ওয়র্টলি তুরস্ক থেকে ইনোকুলেশন দেখে তা ইংল্যান্ডে সম্প্রসারণের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রথমে তার প্রচেষ্টা যথেষ্ট বাধার সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে জেলবন্দি এবং এতিমদের মধ্যে ইনোকুলেশন প্রয়োগ করে সফলতা পাওয়া যায়, যা দেখে ইংল্যান্ড এই পদ্ধতি গ্রহণ করে এবং নাম দেয় ভ্যারিওলেশন। স্মলপক্সের ভাইরাস ভ্যারিওলার নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ভ্যারিওলেশন নাম রাখা হয়।
এখন স্মলপক্স হবার আগে এর জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হওয়া অবশ্যই কোনো সলিড সমাধান ছিল না। তবে এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে স্মলপক্স সম্পর্কে কিছু স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়। যেমন, ইনোকুলেশন বা ভ্যারিওলেশনের পরবর্তী ১০ থেকে ১২ দিন হচ্ছে ক্রিটিকাল সময়। এই সময় সীমার মধ্যে স্মলপক্সের লক্ষণ প্রকাশ পাবে। ফলে ওই কয়েকদিন ভ্যারিওলেশন করা ব্যক্তিকে আলাদা করে রাখা হতো, অর্থাৎ আইসোলেট করার ব্যবস্থা করা হয়। সেক্ষেত্রে আলাদা একটি জাহাজ কিংবা বিচ্ছিন্ন একটি জাহাজকে হাসপাতাল বানানো হতো। এত কিছুর পরেও কিন্তু স্মলপক্স যেমন আতঙ্কের বিষয় ছিল, তেমনি থেকে যায়। কারণ, কেউ স্মলপক্সে আক্রান্ত হয়ে গেলে ভাগ্যের উপর নির্ভর করা ছাড়া অন্য কিছু করার ছিল না।
এর ফলে ওই সময়ের ডাক্তাররা স্মলপক্সের বিপরীতে কার্যকর কিছু খুঁজছিলেন। তেমনি একজন ডক্টর হচ্ছেন ইংল্যান্ডের এডওয়ার্ড জেনার। তিনি লক্ষ্য করেন, ইংল্যান্ডের গ্রাটারশিয়ার গ্রামে যারা গরু পালন করেন, তাদের মধ্যে স্মলপক্স হবার হার খুবই কম। বিশেষ করে যারা কাউপক্স দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের কারোরই স্মলপক্স হয় না। কাউপক্স হচ্ছে গরুর একটি রোগ, যার ফলে গরুর ওলানে স্মলপক্সের মতো ফোস্কা দেখা যায়। তবে এই রোগ গরুর জন্য প্রাণঘাতী নয়। কিছুদিন পর গরুর কাউপক্স আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়। এখন গরুর সংস্পর্শে থাকার ফলে যারা কাউপক্স দ্বারা সংক্রমিত হন, তাদের শরীরে অল্প কিছু ফুসকা দেখা যায় এবং কিছুদিন পর আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়। তবে সাথে বোনাস হিসেবে এরা স্মলপক্সে আক্রান্ত হয় না, অর্থাৎ স্মলপক্সের বিপরীতে এদের শরীরে ইমিউনিটি তৈরি হয়।
১৭৭৮ সালে জেনার এই বিষয়টি লক্ষ্য করার পরবর্তী ১৮ বছর এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং ফাইনালি বিষয়টির সলিড প্রমাণ সামনে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেন। ১৭৯৬ সালে জেনার তার অধীনে থাকা মালির ৮ বছরের সন্তান জেমস ফিপসের শরীরে ইচ্ছেকৃতভাবে কাউপক্সের জীবাণু পুশ করেন। এতে জেমস জ্বরে আক্রান্ত হয়, তবে কিছুদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে। এর ৬ সপ্তাহ পর জেনার জেমসের শরীরে স্মলপক্সের জীবাণু সংক্রমণ করে দেন। কিন্তু জেমসের শরীরে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি, অর্থাৎ জেমসের শরীরে স্মলপক্সের বিপরীতে ইমিউনিটি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার মানে কাউপক্স দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের শরীরকে সংক্রমিত করলে তা প্রাণঘাতী স্মলপক্সের বিপরীতে সুরক্ষা দিচ্ছে।
পরবর্তীতে জেনার তারই ফাইন্ডিং পাবলিশ করেন এবং তার পদ্ধতির নাম দেন ভ্যাকসিনেশন। যেখানে ‘ভ্যাক্কা’ একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ গরু। এখন জেনারের পদ্ধতি যেহেতু গরুর সাথে সম্পৃক্ত, সেহেতু ‘ভ্যাক্কা’ শব্দ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে নাম রাখেন ভ্যাকসিনেশন। যদিও বর্তমানে ভ্যাকসিনেশন শব্দের অর্থ অনেক বিস্তৃত হয়েছে। যেকোনো রোগের ভ্যাকসিন গ্রহণ করাকে বর্তমানে ভ্যাকসিনেশন বলা হয়। জেনার তার ফাইন্ডিং পাবলিশ করার পর বাহবা পাওয়ার বিপরীতে ক্রিটিসিজমের শিকার হন। ওই সময় তার আবিষ্কার নিয়ে বিভিন্নভাবে আশ্বরস করা হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য ডাক্তাররা জেনারের পদ্ধতি এপ্লাই করে সুফল পেতে শুরু করেন। এতে জেনারের পদ্ধতির প্রতি সমর্থন বাড়তে থাকে।
তবে সাধারণ মানুষকে বোঝানো সহজ ছিল না। বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী ভ্যাকসিনেশনের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যায়। তাদের ভাষ্য ছিল, ভ্যাকসিনেশন মূলত স্রষ্টার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ, যা স্রষ্টাকে আরও ক্ষুব্ধ করবে। এছাড়া যাদের পেশা ছিল ভ্যারিওলেশন, তারাও তাদের পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভেবে ভ্যাকসিনেশনের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। এছাড়া ভ্যাকসিনেশন যেহেতু গরুর রোগের সাথে সম্পৃক্ত, ফলে অনেকেই এটিকে ডিসগাস্টিং মনে করত। সে সময় ইউরোপে এমন কথাও রটে গিয়েছিল যে, ভ্যাকসিনেশনের ফলে শরীর থেকে গরুর বিভিন্ন অঙ্গ গজাবে এবং একসময় মানুষ গরু হয়ে যাবে, যা নিয়ে ওই সময় অনেক পেইন্টিংও বানানো হয়েছিল। তার মানে ভ্যাকসিনেশনকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল।
১৮৫৩ সালে ইংল্যান্ড প্রথম দেশ, যারা ভ্যাকসিনেশনকে বাধ্যতামূলক করেছিল। পরবর্তী সময় ধীরে ধীরে ইউরোপে ভ্যাকসিনেশন স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ভ্যাকসিনেশনের কার্যকারিতা বোঝার পর সামনে আসে কীভাবে এই ভ্যাকসিনেশনকে সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া যায়। ১৭৯৬ সালে স্মলপক্সের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবার পর তা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া ছিল অনেক ঘটনাবহুল। তবে প্রাথমিক দিকে কীভাবে ভ্যাকসিনেশন ইউরোপ এবং এর বাইরে সম্প্রসারণ করা হয়েছিল, সে বিষয়টা বলা যাক।
স্মলপক্সের ভ্যাকসিনেশন এই বিষয়টি মূলত কী? এটি হচ্ছে একজন ব্যক্তি স্মলপক্সে আক্রান্ত হবার আগে তাকে কাউপক্স দ্বারা আক্রান্ত করা এবং কাউপক্সের ফলে তার শরীরে যে ইমিউনিটি তৈরি হবে, এটি স্মলপক্সের বিপরীতে সুরক্ষা দিবে। তার মানে স্মলপক্সের ভ্যাকসিনেশন মূলত হচ্ছে কাউপক্সের জীবাণু ছড়িয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। যেমন, একটি কাপড়ের টুকরোকে কাউপক্স ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত করে তা জাহাজের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে ট্রান্সপোর্ট করা হতো। তারপর ওইসব স্থানে মানুষের হাতে একটি আঁচড় টেনে কাটাস্থানে ওই কাপড়ের টুকরো দিয়ে বেঁধে দেওয়া হতো। এতে ওই ব্যক্তি কাউপক্স দ্বারা সংক্রমিত হতো এবং তার মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হতো। এই পদ্ধতিতে কানাডা পর্যন্ত ভ্যাকসিনেশন পৌঁছানো হয়। তবে বেশি ডিসটেন্সের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কাজে আসত না।
কাপড় ছাড়াও লিকুইডের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনেশনের সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। তবে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি ছিল শিশুর ব্যবহার। কাউপক্স আক্রান্ত শিশুদের জাহাজের মাধ্যমে দূরদূরান্তের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো। পরবর্তীতে সেই শিশুর মাধ্যমে ওইসব দেশে কাউপক্সের বিস্তার ঘটত। এভাবেই চলতে থাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত। কিন্তু তখনও স্মলপক্স ছিল এক আতঙ্কের নাম। কারণ, পৃথিবীর সকল মানুষকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে না পারা মানে, কোনো এক অঞ্চলে কারো স্মলপক্স হলে তা ওই অঞ্চলে স্মলপক্সের বিস্ফোরণ ঘটাবে এবং পরবর্তীতে তা অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।
ইউরোপে প্রথম ভ্যাকসিনেশন আসার পর যেমন অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, ঠিক একইভাবে ভারত উপমহাদেশেও কিন্তু ভ্যাকসিনেশন বিভিন্নভাবে বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। যেমন, ওই সময় বর্তমান ভারতের মানুষ বিশ্বাস করত, স্মলপক্স ছড়ায় মূলত শীতলা দেবীর কোপ বা রাগ থেকে। ফলে অনেকেই স্মলপক্সের সমাধান হিসেবে শীতলা দেবীর পূজা করত। আসলে সম্পূর্ণ নতুন কিছু গ্রহণ করার ক্ষেত্রে মানুষের অনীহা সবকালে দেখা গিয়েছে, এমনকি ভবিষ্যতেও দেখা যাবে। এর কারণ হচ্ছে, প্রত্যেকেই তার বর্তমান সময়ে একটি কমফোর্ট জোনে থাকেন। এখন সম্পূর্ণ নতুন কিছু তার কমফোর্ট জোনকে নষ্ট করতে পারে এমন ভয় থাকে। এই ভয় বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন, কারো ক্ষেত্রে পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হবার ভয়, কারো অজানা শক্তির ভয় আবার কারো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভয় ইত্যাদি। যার ফলে সম্পূর্ণ নতুন বিষয়ের বিপরীতে বিভিন্ন কথা রটে যায় বা রটিয়ে দেওয়া হয়।
বর্তমানেও যদি সম্পূর্ণ নতুন কিছু পৃথিবীতে আসে, তবে আমাদের মতো দেশে বিভিন্ন বাধা সামনে আসবে। কেউ বলবে এটা পশ্চিমা আধিপত্য বিস্তারের কৌশল, কেউ বলবে ধর্মনাসের ষড়যন্ত্র আবার কেউ বলবে সংস্কৃতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ইত্যাদি। যাইহোক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৩ সালে ডব্লিউএইচও বিশ্বজুড়ে স্মলপক্স সমস্যার সমাধান সম্পর্কে মতামত জানতে চায়। এর কারণ হচ্ছে, স্মলপক্সের ভ্যাকসিন একজন মানুষকে সারাজীবন সুরক্ষা দেয় না। ফলে দেখা যাবে, কোনো দেশে ১০০% ভ্যাকসিনেশনের পরেও অন্য দেশ থেকে স্মলপক্সের জীবাণু ওই দেশে নতুন করে স্মলপক্স মহামারী তৈরি করতে পারে।
১৯৫৮ সালে সোভিয়েতের হেলথ মিনিস্টার ডব্লিউএইচও-কে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড স্মলপক্স ক্যাম্পেইন লঞ্চ করার পরামর্শ দেন এবং ওই বছরই এই প্রোগ্রাম লঞ্চ করা হয়। তখন পর্যন্ত পৃথিবীতে পাঁচটি মেজর এরিয়া ছিল, যেখানে স্মলপক্স মহামারী ছিল। ফলে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় শুরু হয় বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। সেই সাথে স্মলপক্সের ভ্যাকসিনের ম্যাসিভ প্রোডাকশন শুরু করা হয়। ব্রাজিল, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়ায় হাজারো স্বাস্থ্যকর্মী মাঠে নেমে যান। তারা মানুষকে বোঝানোর জন্য স্মলপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কী হতে পারে তা ছবিসহ মানুষকে দেখাতে শুরু করেন। অনেক স্থানে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্নভাবে বাধার সম্মুখীন হলেও সকলেই তাদের লক্ষ্যে অটুট ছিলেন।
পৃথিবীতে স্মলপক্সের সর্বশেষ মহামারী দেখা যায় ভারতে, ১৯৭৪ সালে। সেই সময় উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে ১১০০০০ মানুষ স্মলপক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন ২০০০০ জন মানুষ। এরপর ভারত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি হাতে নেয়। প্রায় ১৩৫০০০ স্বাস্থ্যকর্মী ৬০০০০০ গ্রামের ১২০০০০০০০ বাড়িতে গিয়ে স্মলপক্স রোগীর সন্ধান করেছিলেন, সেই সাথে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। আসলে ভারতের মতো বিশাল জনগোষ্ঠীর সবাইকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। দেখা যেত, একটি গ্রামের প্রায় সবাইকে টিকা দেওয়া হলেও কিছু মানুষ বাদ থাকলেই তা থেকে মহামারী হবার ঝুঁকি থেকে যেত এবং এই জন্য ১৯৫৮ সালের ডব্লিউএইচওর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামের পরেও ১৯৭৪ সালে ভারতে মহামারী দেখা গিয়েছিল।
এরপর ভারত সরকারের আন্তরিক এবং কঠিন পদক্ষেপের ফলস্বরূপ ১৯৭৫ সালের মে মাসে ভারতের সর্বশেষ স্মলপক্স রোগী দেখা গিয়েছিল। ডব্লিউএইচওর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভ্যাকসিনেশনের ফলে পৃথিবীতে স্মলপক্সের সর্বশেষ রোগী পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭৭ সালে সোমালিয়াতে। এবং সর্বশেষ যিনি স্মলপক্সে মারা গিয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন এক ইংরেজি মহিলা, যিনি দুর্ভাগ্যবশত ল্যাবে থাকা স্মলপক্স ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে মারা গিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালের আটে মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, স্মলপক্স পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে এবং এরপর থেকে ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী স্মলপক্স ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম বন্ধ করা হয়, অর্থাৎ ১৯৮০ সালের পর থেকে আর কাউকে স্মলপক্সের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি।
ডক্টর জেনারের ছোট একটি আবিষ্কার প্রতি বছর ৫০০০০০০ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। বর্তমানে তাকে ‘ফাদার অব ইমিউনোলজি’ বলে পূর্ণ করা হয়। বর্তমানে স্মলপক্সের ভাইরাস পৃথিবীর প্রাকৃতিক উৎস থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। তবে এখনো দুইটি দেশের কাছে স্মলপক্সের ভাইরাস সংরক্ষিত রয়েছে, একটি হচ্ছে আমেরিকা এবং অন্যটি রাশিয়া। পৃথিবীকে স্মলপক্স মুক্ত ঘোষণা করার পর ডব্লিউএইচও সকল দেশকে তাদের ল্যাবে থাকা স্মলপক্স ভাইরাসকে আমেরিকা কিংবা রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে বলেছিল, নয়তোবা ধ্বংস করে দিতে বলেছিল।
যদিও বর্তমানে অফিশিয়ালি দুইটি দেশের কাছে স্মলপক্সের ভাইরাস আছে বলে দাবি করা হয়, তবে অনেকেই মনে করেন কিছু দেশ তাদের কাছে থাকা ভাইরাস ধ্বংস করেনি, অর্থাৎ অনেক দেশের কাছে স্মলপক্সের ভাইরাস রয়ে গিয়েছে, যা এক আশঙ্কার বিষয়। এমনকি আমরা যদি বিশ্বাস করে নেই যে শুধু আমেরিকা এবং রাশিয়ার কাছে স্মলপক্সের ভাইরাস রয়েছে, তাও কিন্তু আশঙ্কামুক্ত হওয়া যায় না, কারণ এই দুই দেশেরই স্মলপক্সের ভাইরাস ধ্বংস করার কথা ছিল। কিন্তু পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং আস্থার সংকটের কারণে কোনো দেশই সেটা করেনি। আমেরিকার দাবি, ভবিষ্যতে রাশিয়া স্মলপক্সকে বায়োটেরোরিজমে ব্যবহার করার চিন্তা করছে কিংবা করতে পারে। একই দাবি রাশিয়ার।
এখন চিন্তা করুন, ১৯৮০ সালের পর থেকে স্মলপক্সের ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ বা দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। ফলে ১৯৮০ সালের পরে জন্ম নেওয়া সকলেরই স্মলপক্সের বিপরীতে ইমিউনিটি নেই। অর্থাৎ বর্তমানে অতি সহজে স্মলপক্সের মাধ্যমে মহামারী ঘটানো সম্ভব। আসলে বর্তমান সময়ে জৈব অস্ত্র এক বিশাল আশঙ্কার নাম। একে তো স্মলপক্স, তার ওপর বিভিন্ন দেশ জেনেটিক্যালি মডিফাই ভাইরাস নিয়ে কাজ করছে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে ভবিষ্যতে এটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা।
কোভিড-১৯ এর মতো কম শক্তিশালী ভাইরাস, অর্থাৎ মৃত্যুহার কম এমন ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করতেও ১৮ মাস সময় লেগেছিল। এখন জেনেটিক্যালি মডিফাই শক্তিশালী ভাইরাস যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে তা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন। ডক্টর জেনার যেভাবে ৮ বছরের শিশুর উপর ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করেছিলেন, তা অবশ্যই বর্তমান মানবাধিকার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে এমন কাজ কেউ করলে ওই ব্যক্তির জেল, জরিমানা তো হবেই, মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে জেনারের সময় ছিল অন্যরকম, সে সময় মানবাধিকারের ধারণাও ছিল অন্যরকম।
আসলে মানবাধিকার সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়। যেমন, একসময় জোর করে মানুষকে দাস বানানো হতো, এমনকি তাদেরকে পণ্যের মতো বিক্রি করা হতো। শিকলে বেঁধে পশুর মতো মানুষকে বিক্রির জন্য হাটে তোলা হতো, যা বর্তমান সময়ে এসে কল্পনা করাও অসম্ভব। বর্তমানে চিকিৎসা রিলেটেড সকল ধরনের এক্সপেরিমেন্ট ইঁদুর বা অন্যান্য প্রাণীর উপর পরিচালনা করা হয়, এরপর তা মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়। স্মলপক্স বর্তমানে শোনা না গেলেও চিকেনপক্স, মাঙ্কিপক্স শোনা যায়। এগুলো স্মলপক্সের মতো এতটা বিপজ্জনক নয়।
মার্কিন খাদ্য এবং ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ) টিপক্স এবং ভিনসিডো ফাবির নামক দুইটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ অনুমোদন দিয়েছে। একটি ২০১৮ সালে, অন্যটি ২০২১ সালে। এগুলো স্মলপক্সের মতো অর্থোপক্স ভাইরাসের বিপরীতে কার্যকর। টিপক্স এটি ভ্যারিওলা ভাইরাসের একটি প্রোটিন বিপি-৩৭কে বাধা দেয়, ফলে ভাইরাস কোষে কার্যকরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ভিনসিডো ফাবির বাড টেমবক্স, যা ভাইরাসের ডিএনএ সংশ্লেষণকে বাধা দেয়, এতে ভাইরাস তার প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে না। বর্তমানে যদিও স্মলপক্স নেই, তবে অন্যান্য অর্থোপক্স ভাইরাস যেমন মাঙ্কিপক্সের বিপরীতে এগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে ভ্যারিওলা ভাইরাসের মাধ্যমে জৈব সন্ত্রাস করা হলে এর চিকিৎসা হিসেবে এই অ্যান্টিভাইরালগুলো তৈরি করা হয়েছে এবং অনেক দেশ মজুদ করেও রাখছে।
আসলে সময়ের সাথে সাথে জীবন সহজ হলেও সাথে সাথে নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে, যেগুলোকে ডিল করতে হলে প্রযুক্তির উন্নতিই হচ্ছে একমাত্র উপায়। প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়লে অন্যের দিকে কিংবা অন্য কোনো দেশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। একসময় মনে করা হতো পৃথিবীর জলভাগ এবং স্থলভাগ ফিক্সড। বর্তমানে যেমন আছে, অতীতেও এমন ছিল এবং ভবিষ্যতেও এমন থাকবে। কিন্তু বহু মানুষের গভীর চিন্তার ফলস্বরূপ বর্তমানে আমরা জানি, পৃথিবীর জল-স্থল ফিক্সড নয়, বরং প্রতিনিয়ত মুভ করছে, যাকে বলা হয় প্লেট টেকটনিক থিওরি। এই প্লেট টেকটনিক থিওরি সহ আর সাইন্স সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় জানতে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। ভিডিও ভালো লাগলে বিজ্ঞান পরিবারে যুক্ত হয়ে সাথে থাকতে পারেন।

