আজকে আলোচনা করব, কারা কখনোই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পান না। ৭ ধরণের স্টুডেন্ট যারা কোনোদিনও পাবলিকে চান্স পায় না! – Why 7 Types of Student Never Get Chance in Public University! আলোচিত কয়েকটি বিষয় দেখে আপনিও বুঝে যাবেন।
এখানে আমি কয়েকটি লক্ষণ লিখে রেখেছি। এই লক্ষণগুলো যদি আপনার মধ্যে থাকে, এবং আপনি যদি এগুলো পরিহার না করেন, তবে বলা যায় যে আপনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের একটি সিট নিশ্চিত করতে পারবেন না। চলুন, আলোচনা শুরু করা যাক।
শুরু করার আগেই আমি একটি কথা বলে রাখি যে, আমি আপনাকে ডিমোটিভেট করার জন্য আসিনি। বরং আপনার ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। ঠিক আছে। আমি এখানে মূলত আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের নিয়েই আলোচনা করব, তবে এই লক্ষণগুলো কোনো পরীক্ষার্থীর মধ্যেই থাকা উচিত নয়।
অধিক কঠিন জিনিস পড়ার প্রবণতা

যারা কোথাও চান্স পান না, তাদের একটি বড় অংশই অধিক কঠিন জিনিস পড়তে চান। আপনি দেখবেন, আমরা যখন কোচিং সেন্টারে যাই, তা অফলাইন হোক বা অনলাইন। স্যাররা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের ইমপ্রেস করার জন্য এমন কঠিন জিনিস পড়ান, যা আসলে কখনোই আসবে না।
যদি স্যাররা সরাসরি যোগ, গুণ, ভাগ, ক্রস করে সহজ জিনিসগুলো পড়ান, তখন শিক্ষার্থীরা বলে, “এগুলো তো পারি।” তাই স্যাররা তখন কঠিন কঠিন জিনিস পড়ান। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সেই কঠিন জিনিস নিয়েই পড়ে থাকে।
সহজ জিনিস, যেগুলো পারার কথা, সেগুলোও ঠিকভাবে পারে না। কিন্তু কঠিন জিনিস পড়া নিয়ে সারাক্ষণ মাথা ঘামায় যে, “এই কঠিন জিনিস পড়তে হবে, এটা পারি না, ওইটা পারি না।” যারা এই কাজটি করে, তাদের চান্স পাওয়াটা কঠিন হয়ে যায়।
আমি যদি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের কথা বলি, তবে তারা এখন আইআইটি (IIT) বা জেইই (JEE) এর প্রশ্ন সমাধান করার দিকে ফোকাস করে। এর কারণে তারা যতটা প্রয়োজন, সেই কোয়েশ্চেন ব্যাংক আর সলভ করে না।
প্রথমে তারা মেইন বই পড়ে। তারপর হয়তো কোনো এক শিক্ষকের ১০-১২ ঘণ্টার কিংবা ২০-৩০ ঘণ্টার ক্লাস করে। এরপর মেইন বই পড়ে, আবার কনসেপ্ট বুক পড়ে। কনসেপ্ট বুকে নতুন কোনো কঠিন কনসেপ্ট থাকলে, সেটা নিয়ে পড়ে। এরপরে, যদি সময় পায়, তবে হয়তো কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ করে।
তাহলে এই যে এতগুলো ধাপ ফলো করছে, এরপরে যখন কোয়েশ্চেন ব্যাংক ধরে, তখন আর সেই স্ট্যামিনা থাকে না যে সে কোয়েশ্চেনটা নিজে নিজে সলভ করবে। তখন দেখা যায় সে দেখে দেখে চলে যাচ্ছে, কিংবা কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভই করছে না। পরীক্ষা দিতে গেছে, মোটামুটি নাম্বার পাচ্ছে।
এই ভুলটা করলে বলা যায় একদম ধরা। পড়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। চ্যাটজিপিটি স্টাডি মডেল দিয়ে ১০ গুণ বেশি পড়াশোনা করা যায়। যদি সঠিক ইচ্ছা ও মনোবল থাকে।
কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ না করা
আমার এত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি যে দুই ধরনের মানুষ কোথাও চান্স পান না। প্রথম জন, যিনি শুধুমাত্র কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ করেন। শুধুমাত্র কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ বলতে তিনি ভাবেন, কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ করলেই চান্স হয়ে যাবে।
তিনি এমনভাবে কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ করেন, যেন কয়েকটি ধাপ মুখস্ত করে, কিংবা কয়েকটি অঙ্ক সলভ করে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে যদি আমাদের বেসিক ভালো না থাকে, তবে কোয়েশ্চেন ব্যাংক যতই মুখস্ত করি না কেন, কোনো লাভ নেই।
তাহলে এক ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী, যারা শুধু কোয়েশ্চেন মুখস্ত করে চলে যান, তারা চান্স পান না। আর আরেক ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী, যারা কোয়েশ্চেন ব্যাংক না দেখে, কনসেপ্ট পড়েন, আইআইটি’র জিনিস করেন, অমুক ভাইয়ের নোট পড়েন। এত কিছু করার পরেও দেখেন না যে আসলে কোন ক্যাটাগরির প্রশ্ন আসে।
সো, এই ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীও চান্স পান না। আর যারা শুধুমাত্র কোয়েশ্চেন ব্যাংকের উপর নির্ভর করেন, তারাও চান্স পান না।
মাথায় রাখবেন, ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি ও সমস্যা সামলানোর জন্য আমাদের বেসিকটা ক্লিয়ার রাখতে হবে। বেসিক ক্লিয়ার রেখে প্রত্যেকটা কনসেপ্টের যত ধরনের থিওরি আছে, তা জানতে হবে। এরপর আমরা কোয়েশ্চেন ব্যাংকের সাথে রিলেট করার চেষ্টা করব যে, আমি যে থিওরি জানি, সেই থিওরির সাথে কোয়েশ্চেন ব্যাংকের ম্যাথগুলো সলভ করতে পারছি কিনা।
যদি পারি, তবে ভালো। আমার কনসেপ্ট কাজে লাগছে। আর যদি না পারি, কেন পারছি না, সেই ব্যাপারটা একটু দেখতে হবে। অবশ্যই কোয়েশ্চেন ব্যাংক সলভ করতে হবে।
পর্যাপ্ত প্র্যাকটিস না করা
এরপর আসে প্র্যাকটিস না করা। আমি নিজেও আসলে এইচএসসি লাইফে খুব একটা প্র্যাকটিস করতাম না, থিওরি পড়ে চলে যেতাম। কারণ থিওরিটা পড়ার পরে প্র্যাকটিস করে খুব একটা চান্স পেতাম না। কিন্তু অ্যাডমিশন ফেজে যখন যাবেন, তখন দেখবেন বেশিরভাগ মানুষেরই এইচএসসি পড়াশোনা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা আছে বা পারে।
আপনি যে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন নিচ্ছেন, এর ক্ষেত্রে পরীক্ষা দেয় খুব অল্প কিছু মানুষ। ধরুন, ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষজন পরীক্ষা দেয়। আপনার কি মনে হয় না যে, যারা ইঞ্জিনিয়ারিংকে লক্ষ্য করে, তারা মূলত ভালো ছাত্র?
ভালো ছাত্ররা যখন ইঞ্জিনিয়ারিং টার্গেট করে, এই ৫০-৬০ হাজারের মধ্যে অন্তত ৫০% মানুষ আছেন, যারা এসএসসিতে একদম ভালো করে পড়াশোনা করে এসেছেন, এইচএসসিতেও ভালো করে পড়াশোনা করেছেন।
তাহলে এইচএসসিতে ভালো করে পড়াশোনা করে এলে অ্যাডমিশনে তার কি করার বাকি আছে? জাস্ট শুধুমাত্র প্র্যাকটিস করা বাকি আছে।
অ্যাডমিশন ফেজে মোটামুটি সবাই থিওরি সবকিছু জানে। জাস্ট যে ভালো করে প্র্যাকটিস করতে পারছে, যে অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাকুরেটলি আনসার করতে পারবে, এবং ইউনিভার্সিটি ভর্তি সিজনে মনোবল ধরে রাখার কৌশল জানে সেই কিন্তু এগিয়ে থাকবে।
বলা যায়, আমরা এখন অ্যাডমিশন ফেজে আছি। এইচএসসি লাইফে যদি এক ভাগ সময় থিওরি পড়তাম, আর দুই ভাগ প্র্যাকটিস করতাম, অ্যাডমিশন ফেজে আপনি যদি এক ভাগ থিওরি পড়েন, তবে দুই গুণ বা তিন গুণ বেশি প্র্যাকটিস করতে হবে।
কারণ, আপনি দেখবেন যে সবই পারেন, কিন্তু পরীক্ষার হলে অ্যাকুরেটলি আনসার করতে পারছেন না, কিংবা টাইমের কারণে আনসার করতে পারছেন না। এর চেয়ে খারাপ ফিলিং আর নেই যে, আপনি পারতেন, কিন্তু টাইমের কারণে আনসার করতে পারলেন না।
আপনি ওই জিনিসটা পারতেন, পরীক্ষার হলে গিয়ে ভুলে গেছেন। ওই জিনিসটা পারতেন, আবার পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখলেন যে কিছু একটা ভুল করে এসেছেন। প্লাসের জায়গায় মাইনাস দিয়ে চলে এসেছেন। সে ব্যাপারটা হচ্ছে কি।আমাদের বেশি বেশি করে প্র্যাকটিস করতে হবে।
কখন সুইচ করতে হবে, তা না জানা
এরপর যেটা আসে, তা হলো, কখন সুইচ করতে হবে, তা না জানা। ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম দিকে সবাই খুব সিরিয়াস থাকে। অফলাইনে যারা ভর্তি হয়েছেন, দেখবেন এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ ক্লাস করার পরে ১০,০০০ জন উধাও হয়ে যাবে।
১০,০০০ জন কী করবে? এই প্রিপারেশনটা নেবে কি নেবে না, সে আবার দ্বিধাবোধে চলে যাবে। দ্বিধায় চলে যাওয়ার মানে কী? তার ক্লাস করতে ভালো লাগছে না, কারণ ক্লাসে সবকিছু তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
বড় কারণ কী? বাকিরা কী করছে জানেন? বাকি ১০,০০০ জন দেখছে যে তার ক্লাসের পাশের বেঞ্চে বসা ফ্রেন্ডটা কোন দিকে যাচ্ছে। সে দেখছে যে না, তার ভালো ফ্রেন্ডটা উদ্ভাসে ভর্তি হয়েছে, কিংবা যেকোনো একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছে, সে ওই দিকে চলে যাবে।
তার মানে তার কিন্তু ক্যাটাগরি কোন দিকে, কিংবা তার ক্যাপাবিলিটি কী, সে আসলেই কি ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় কিনা, সে আসলেই কি বুয়েট বা কুয়েট বা আইইউটি এগুলোতে চান্স পাবে কিনা। এত কিছু চিন্তা না করে, তার বেসিক কেমন সেটা চিন্তা না করে সে কী করছে? বাকিদের দেখছে যে বাকিরা কোন দিকে যাচ্ছে, সে ওই দিকে চলে গেছে।
আপনি তো ভুল করতেই পারেন। কিন্তু ভুল যদি সারাক্ষণ করে বসে থাকেন, তাহলে হবে না। আপনাকে যেটা করতে হবে, আপনি একটা উইকলি দেন, দুইটা উইকলি দেন, তিনটা উইকলি দেন, দেখুন আপনার রেজাল্ট কেমন আসছে।
আপনার রেজাল্ট যদি ৫০% আসে, কিংবা ৫০% এর একটু কম, ধরুন ৪০% আসে, তাহলে মোটামুটি বলা যায় যে, আপনি আরেকটু এফোর্ট দিলে হয়তোবা ৬০% এ চলে যেতে পারবেন। আপনার যদি ধরুন উইকলিতে ১০-২০ আসে, তাহলে আপনি বুঝতে পারছেন যে আপনার ক্যাপাবিলিটি নেই।
ক্যাপাবিলিটি যদি না থাকে, আপনাকে কী করতে হবে? সুইচ করতে হবে। হয় ভার্সিটিতে সুইচ করবেন। মেইনলি আসলে ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ভার্সিটিতে সুইচ করা যায়।
আপনার যদি মেডিকেল অ্যাস্পিরেশন থাকে, মেডিকেলের সিট সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারের মতো, ঠিক না? আর পরীক্ষার্থী প্রায় দেড় লাখের মতো। এ কারণে দেখা যাচ্ছে যে, আপনার হবে কি হবে না, তা বুঝতে জাস্ট কয়েকটি পরীক্ষা দিন।
ধরুন, আপনার যদি মোট ৬০ বা ৭০টি পরীক্ষা থাকে, সেই ৬০-৭০ টির মধ্যে আপনি কত পারসেন্ট পাচ্ছেন, সেটা যদি দেখেন, তবে সেখান থেকে বুঝে ফেলতে পারবেন যে আপনার আসলে ওইরকম যোগ্যতা আছে কি না। যদি যোগ্যতা না থাকে, আমি বলব যে ভাই, ট্রিপলেট অ্যাডমিশন স্ট্রাটেজি ফলো করে ভার্সিটিতে সুইচ করে ফেলুন।
আর আপনি যদি ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিগুলো চিন্তা করেন, ধরুন আপনি বুঝতে পারছেন যে আপনার বুয়েট হবে না, সিকিউয়েটের জন্যও প্রিপারেশন নিচ্ছেন, সিকিউয়েটও হবে না। কিসের প্রিপারেশন নেবেন? সাস্ট, আইইউটি।
এগুলোর প্রিপারেশন নিন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে একটা সুবিধা আছে যে, সবগুলোর প্রিপারেশনই মোটামুটি একই। এখানে আসলে খুব একটা সুইচ করার দরকার পড়ে না।
পড়া জমিয়ে রাখা
এরপর আমরা যদি দেখি, তা হলো পড়া জমিয়ে রাখা। প্রথম দিকে সবাই খুব সিরিয়াস থাকে, কিন্তু পরে সিরিয়াসনেস আস্তে আস্তে কমতে থাকে। কারণ প্রথম দিকে যে চ্যাপ্টারগুলো থাকে, যেমন ভেক্টর, সরল রেখা, ত্রিকোণমিতি। এগুলো খুব সহজ।
এগুলো আমরা অনেকবার করে এসেছি। যে কারণে দেখা যাচ্ছে, এগুলো আমরা পারি, উইকলিতে ভালো রেজাল্ট আসে। ভালো কথা। কিন্তু পরে যখন যাবেন, আস্তে আস্তে যখন চ্যাপ্টারগুলো কঠিন হতে থাকবে, তখন দেখা যাচ্ছে খুব অল্প টাইমের মাঝখানে অনেকগুলো চ্যাপ্টার পড়াচ্ছে। তখন আর ভালো লাগে না নিশ্চয়ই।
উইকলি একটা টানা দিতে দিতে আর ভাল্লাগে না। আবার এতগুলো ক্লাস একসাথে করতে করতেও আর ভাল্লাগে না। যে কারণে দেখা যাচ্ছে, তখন আসলে আমাদের পড়াটা জমে যায়। একবার দেখা যাচ্ছে একটা ক্লাস মিস দিলেন, ওই যে একটা ফ্লো তৈরি হয়েছিল। পড়াশোনার ফ্লো ব্রেক হয়েছে।
ওটা মনে হয়, দেখা যাচ্ছে যে পরের দিন মনে হলো, “না থাক, একদিন তো মিস দিয়েছি, আরেক দিন মিস দিলে সমস্যা কী?” সো, এই করতে করতে দেখা যাচ্ছে আপনার অনেকগুলো পড়া জমে যাবে।
এরপরে আপনি মনে করবেন যে না, একদিন একদম টানা পড়ব। এই যে একটা সাইকেল তৈরি হয়েছে না, এই সাইকেলের মধ্যে আপনি বসে থাকবেন। ইভেন, অ্যাডমিশন টাইমে যেটা হয়, আপনি যদি একবার অসুস্থ হন, একবার অসুস্থ হয়ে গেলে এক দিন বা দুই দিন যদি আপনি অসুস্থ থাকেন, তাহলে বলা যায় যে একদম ফ্লোটা নষ্ট হয়ে যাবে।
আপনি যদি মেইনলি অফলাইনে ভর্তি থাকেন, তাহলে দুই সপ্তাহ বা এক সপ্তাহ যদি ব্রেক দেন, শেষ। তখন ওই ফ্লোটা আসলে আর কখনোই আনা যায় না। তবে অনলাইনের একটা সুবিধা আছে, আপনি যেকোনো টাইমে রেকর্ডেড ক্লাস দেখতে পারেন।
আরও দেখুনঃ মেডিকেল ভর্তি বায়োলজিতে ৩০ এ ৩০ পাওয়ার গোপণ কৌশল!
ল্যাকিংসের উপর ফোকাস না করা
এরপর যেটা আসে, তা হলো ল্যাকিংসের উপর ফোকাস না করা। আমাদের অনেকেরই টেন্ডেন্সি থাকে যে, আমি যখন পরীক্ষাটা দিয়েছি, তাও হয়েছে, শেষ। আর ওইটা নিয়ে মাথা ঘামাবো না।
কিন্তু অ্যাডমিশনে যেটা সমস্যা হয়, সেটা হচ্ছে আপনার একই জিনিস বারবার পড়তে হচ্ছে। আপনার এইচএসসিতেও ছিল ওই প্রবলেম। এখন আপনি যদি ভুলগুলো না দেখেন, বা পরীক্ষায় যে ভুলগুলো করে এসেছেন, এইটা যদি না দেখেন, তাহলে পরে দেখবেন যে সেম টাইপের কোয়েশ্চেন আবার আসছে।
কারণ বললাম যে, পড়াটা কিছু কম, পড়াটা কাইন্ডলি হচ্ছে, বলা যায় কনফাইন। মানে ওই অল্প কিছু জায়গা থেকেই কিন্তু বেশি কোয়েশ্চেন আসে। কারণ ওই অল্প কিছু জায়গা থেকে যদি ভুলটা আপনি সংশোধন না করেন, ওটা কিন্তু আপনার অ্যাডমিশনেও চলে আসতে পারে। অ্যাডমিশনে ওইটাই হয়, যেটা আমি ভুল করে এসেছি, ওইখানে দেখবেন এখানেও আবার ভুল করছেন।
যখন একটা পরীক্ষা দিয়েছেন, একটু কোয়েশ্চেনটা দেখবেন যে কোন জায়গাটাতে আপনার কনফিউশন ছিল, ওটার আসলে আনসারটা কী হবে, ওটা কীভাবে সলভ করতে হয়। এই কাজটা করবেন যে, ল্যাকিং যেটা আছে, সেখানে ভালো করে ওয়ার্কশপ দিবেন। Add a Photo Here
প্লাস, আপনার এইচএসসিতেও কিছু পরিমাণ হয়তো গ্যাপ আছে, ওই গ্যাপটাও ফিলাপ করার চেষ্টা করবেন। ফিলাপ করার কথা মাথায় রাখবেন যে, ওই গ্যাপ থেকে কিছু কোয়েশ্চেন ভালো পরিমাণে আসছে কিনা। যদি কোয়েশ্চেনটিতে ভালো পরিমাণ থাকে, তাহলে ওটাতে ফোকাস করবেন। আর যদি খুব একটা কোয়েশ্চেন না আসে, তাহলে দরকার নাই, ওটা মোটামুটি আমরা স্কিপ করতে পারি।
বিশেষ নিবন্ধঃ ঢাকা ইউনিভার্সিটি ভর্তি প্রস্তুতি A to Z মাষ্টার প্লান
নিজে না পড়া
এরপর সবার শেষে হচ্ছে আমাদের নিজে না পড়া। নিজে না পড়া ব্যাপারটা কী? অ্যাডমিশন টাইমে আমরা যেটা করি, সেটা হচ্ছে। যারা একটু বেশি সিরিয়াস, একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হই।
এরপরে দেখা যাচ্ছে আরেকটা বুয়েটের ভাইয়া রাখি, সেটা হচ্ছে আমাদের প্রাইভেট টিউটর, বুয়েটের ভাইয়া একটা রাখি, যে আমাকে প্রবলেমগুলো ধরিয়ে দিবে। তারপর কোনো ধরনের যদি আমার ডাউট থাকে, ওটা ডাউট সলভ করে দিবে।
এরপরে আবার অনলাইনে আরেকটাতে ভর্তি হই, যাতে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনে একটা প্রিপারেশন, কম্বো প্রিপারেশন হয়ে যায়। সো, একটা আপনি কম্বো প্রিপারেশন নিচ্ছেন, একটা বুয়েটের ভাইয়া রাখতেছেন ডাউট সলভ করার জন্য।
বলুন তো, আপনার কতটা টাইম ওয়েস্ট হচ্ছে? অনেক টাইম ওয়েস্ট হচ্ছে। এখান থেকে আপনার যে ইউটিলাইজেশন হচ্ছে, ওইটার চেয়ে বেশি ওয়েস্ট হবে, সত্যি কথা ওয়েস্ট হবে।
কারণ অ্যাডমিশন টাইমে সবচেয়ে বেশি টাইম রাখা উচিত আপনার পড়াশোনায়। কারণ আপনি এর বেশিরভাগ জিনিসই জানেন। আপনি অফলাইনে যেয়ে যদি একটা ক্লাস করেন, দেখবেন কী করছে—আপনি জানেন। অফলাইনে একটা কাজ করলে আপনাকে জাস্ট জিনিসটাকে সামারাইজ করে, একটু গুছিয়ে দিচ্ছে। দেখুন, এই জিনিসগুলো এখান থেকে আসে, এই জিনিসগুলো আপনি পড়ে আসছেন।
অনলাইনের ক্ষেত্রে আমরা যেটা করি, সেটা হচ্ছে, আমরা ধরছি যে অনেকের বেসিক ক্লিয়ার নাই, এজন্য আমরা একদম বেশি পড়িয়ে দেই। বেশি পড়ানোর পরে আমরা কোয়েশ্চেন ম্যাক্সিমাইজ করে দেই, হয়তো ক্যান্ডমাসের দিকেও যাইতে পারি।
আর ধরুন, এটা কেন সুবিধা হচ্ছে? যারা মোটামুটি ভালো আছে, সে কী করতে পারে? আমাদের ভিডিও স্কিপ করে করে দেখতে পারে। রেকর্ডিং যদি হয়, তখন সে স্কিপ করে যেতে পারে—”আমি এই থিওরিগুলো পারি, এবার আমি কোয়েশ্চেন ব্যাংকের সাজেক কী পড়াচ্ছে, ওইটা দেখে নিব।”
তো, আমি ব্যাপারটা বললাম যে, আমরা অনেকে এই রূপের মধ্যে থাকি যে, আমার অনেক ভালো রেজাল্ট করতে হবে। এখানে দেখা যাচ্ছে হাজারটা জায়গায় ভর্তি হয়ে আছি, নিজে পড়ার খুব একটা টাইম নাই।
নিজে যদি না পড়েন, তাহলে কিছু হবে না। নিজে না পড়লে প্রবলেম কী হবে জানেন? স্যার আপনাকে পড়িয়েছেন, এটুকু আপনি জানেন। স্যার সলভ করিয়ে দিয়েছেন, এটুকু আপনি জানেন। পরীক্ষার হলে তো কোনো স্যার নাই। পরীক্ষার হলে তো কাকে সলভ করতে হবে? নিজেকেই সলভ করতে হবে। Add a Photo Here
তখন আপনি ভুলে গেছেন— “এই জিনিসটা পড়ছি, তাও সলভ করতে পারছি না, মনে করতে পারছি না যে এটা কীভাবে ভাইয়া সলভ করছে।” ব্যাপারটা হচ্ছে এর চেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে আপনি সলভ করতে পারবেন।
কিন্তু হয়তো একটু সলভ করতে পারবেন না, টাইমের মাঝখানে সলভ করতে পারবেন না। ওইটা বললাম না, ওইটার ফিলিংটা খুব বাজে।
তো, মোটামুটি আমরা এখানে কয়েকটি লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই লক্ষণগুলো যদি আপনার এখনও থাকে, কিংবা সামনে প্রিপারেশনের সময়েও থাকে, তাহলে যেন না থাকে।

Table of Contents
আরও তথ্যের জন্য নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন

